সাদা শিমুল গাছের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ

সাদা শিমুল (Ceiba pentandra) ভারতের উষ্ণ-প্রধান অঞ্চলে বেশি জন্মে। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে জন্মে। বীজ অথবা কাটিং থেকে গাছ তৈরী হয় । ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ— পাতা, ছাল, ফুল, ফল, শিকড় বা কচি গাছের ও আঠা।

সাদা শিমুল-এর ভেষজ গুণ

১. শুক্রক্ষয়ের আধিক্যে: যৌবনের সাধারণ ধর্ম নারীসঙ্গ, তাতে কোন দোষ নেই, অবশ্য সেটা বৈধ হওয়াটাই উচিত। কিন্তু যৌবনের উন্মাদনাময় কামবৃত্তিকে চরিতার্থ করতে গিয়ে সব সময় ভবিষ্যতের কথা মনে থাকে না। আশ মিটে যাওয়ার পর যখন ক্লান্তিতে দেহ-মন অবসন্ন হয়ে পড়ে, তখন দেহ আবার সতেজ হতে চায়, একটু সতেজ হলেই আবার সেই চাওয়া-পাওয়ার নেশায় মত্ত, এভাবে কিছুকাল চলতে পারে, কিন্তু দীর্ঘদিন তা চলতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত যৌনসম্ভোগের ফলে যেখানে শরীর ও মন ক্লান্ত, দুর্বল, কিছুদিন বিশ্রামের প্রয়োজন মনে হয়।

সেক্ষেত্রে কচি সাদা শিমুলের গাছের অর্থাৎ এক বা তার চেয়ে কম বয়সের গাছ হলে ভাল মূল ৫ গ্রাম নিয়ে ভালভাবে ধুয়ে জলে বেটে তাতে এক কাপ দুধ অবশ্য তা গরম করার পর ঠাণ্ডা করতে হবে ও অল্প চিনি মিশিয়ে সকালে একবার এবং এভাবে সন্ধ্যায় একবার মাসখানিক খেতে হবে। সব সময় কাঁচা মূল নাও পাওয়া যেতে পারে। তখন শুকনা মূলের চূর্ণ ২ গ্রাম মাত্রায় দিনে ২/৩ বার ২ কাপ দুধ ও অল্প চিনি সহ খেলে চলবে। এরপর স্বাভাবিক যৌনজীবন যাপন এবং এটি মাঝে মাঝে ব্যবহার করলে উদ্দীপনাময় যৌবনকে দীর্ঘদিন ধরে রাখা যায়। এটির বৃষ্য ও রসায়ন উভয়গুণ বিশিষ্ট।

২. শয্যামূত্রে: এটি সাধারণতঃ শিশুদের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। বছর দুই বয়স পর্যন্ত তবু রক্ষে, তারপর বিছানায় প্রস্রাব করলে বিরক্তি তো আসবেই। সেক্ষেত্রে শিমূলের শুকননা আঠার চূর্ণ ২৫০-৫০০ মিঃ গ্রাঃ মাত্রায় দিনে ২ বার মধুসহ মাসখানিক খাওয়ালে প্রায় ক্ষেত্রে শয্যামূত্র বন্ধ হয়ে যায়। তবে এটি পায়খানাকে শক্ত করে দিতে পারে, কোন কোন ক্ষেত্রে হালকা বিরেচনেরও কাজ করে, সেদিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন:  পাহাড়ি শিয়াল বুকা অরণ্যে জন্মানো ফলজ ও ভেষজ গুনসম্পন্ন বৃক্ষ

৩. মূত্রকৃচ্ছে: অত্যধিক গরমের দিনে মূত্রকৃচ্ছ্ব হতে পারে, তাছাড়া অত্যধিক শুক্রক্ষয়ের ফলেও হতে পারে, এ সবই সাময়িকভাবে আসে। এসব ক্ষেত্রে শিমুলের মূল পূর্বোক্ত পদ্ধতিতে ৫/৭ দিন খেলেই অসুবিধেটা প্রায় চলে যায়। প্রয়োজনে আরও কয়েকদিন খাওয়া যেতে পারে।

৪. সাধারণ দুর্বলতায়: বয়স একটু বেশি হলেও হতে পারে, আবার ক্ষয়ের জন্যও হতে পারে, এক্ষেত্রে আঠা চূর্ণ ১ গ্রাম মাত্রায় দিনে ২ বার দুধ সহ কিছুদিন খেতে হবে । অন্য কোন রোগের জন্য এটি দেখা দিলে সেইসঙ্গে তারও চিকিৎসা চালাতে হবে।

৫. রক্তপ্রদরে: মাসিক স্রাব দীর্ঘদিন চলতে থাকলে এটি হয়। প্রথমাবস্থায় শিমূলের আঠা চূর্ণ ১ গ্রাম মাত্রায় দিনে ২ বার দুধ সহ খেতে হবে। এতে যদি একেবারে না কমে, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া একান্তই প্রয়োজন।

CHEMICAL COMPOSITION

Ceiba pentandra (Linn.) Gaertn. Seed contains:— fatty oil 20-25%, unsaponifiable matter 0.8-1.6%; fatty acids (oleic 43%, linoleic 31.3%, palmitic 9.8%, stearic ৪%, arachidic 1.2% and lignoceric 0.23%). Seed-cake contains:- moisture 13.8%; crude protein 26.2%; fat 7.5; carbohydrates 23.2%; fibre 23.2%; ash 6% and potash 1.5%. wood contains:- moisture 9.8%; ash 5.9%; fats and waxes 0.62%; cellulose 68.3%; lignone 25.2%; bleached pulp 30%; pyroligneous acid 43.7%; acetic acid 2.3%. Root-barks contain: fibre.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১০, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, চতুর্থ মুদ্রণ ১৪০৭, পৃষ্ঠা, ১৪০-১৪১।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!