গামার বা গামারি গাছের ভেষজ গুণাগুণ

ইহা শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট বর্ষপত্রী বৃক্ষ, অথাৎ গ্রীষ্মকালে পাতা ঝরে যায় ও পরে নতুন পাতা গজায়। উচ্চতায় এটিকে সাধারণতঃ ৫০। ৬০ ফুট পর্যন্ত হতে দেখা যায়। ছাল পুরু ও ঈষৎ ধূসর-পীতাভ বর্ণের। পাতা দেখতে অনেকটা গোলাকার হলেও অগ্রভাগ সরু, আয়তনে প্রায় ৯/ ১০ ইঞ্চি লম্বা ও ৬।৭ ইঞ্চি চওড়া হয়। পাতার ওপরের দিকটা মসৃণ, নিচের দিকটা সক্ষম রোমশ, বোঁটাও বেশ লম্বা; ফুল দেখতে লম্বাটে ও পাপড়ি পিঙ্গলাভ হলদে বর্ণের। ফল গোলাকার, ডিম্বাকৃতি ও ফলগাত্র খুব মসৃণ; কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পাকলে ঈষৎ পীতাভ বর্ণ ধারণ করে এবং এতে ১টি বা ২টি বীজ থাকে। সাধারণতঃ শীতের পরে ফল এবং জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসের দিকে ফল হয়।

এর জন্মস্থান সারা ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন দীপপুঞ্জ। এর সংস্কৃত নাম । গান্ডারী, শ্রীপর্ণী ও কাশ্মর্য; বাংলা নাম গামার ও তামিলে গমোদি নামে পরিচিত। এর বোটানিক্যাল নাম Gmelina arborea Linn., ফ্যামিলি Verbenaceae. ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ— পাতা, ফল ও ছাল।

আর এক প্রকার গাছকে দেশগাঁয়ে গাম্বীল বলে, আবার পিটুলি গাছও বলে ; এর ফলের আকার আমলকীর মত কিন্তু রং সবুজ-পাঁশটে। অনেকের ধারণা এটা গাম্ভারী গাছ, কিন্তু তা নয়। এই গাছটির বোটানিক্যাল নাম Trewia nudiflora, ফ্যামিলি Euphorbiaceae.

গামার বা গামারি গাছের উপকারিতা:

১. গর্ভের অপুষ্টিতে: যেকোন কারণেই হোক, সেটা খাদ্যাভাবেই হোক আর দৈহিক কোন কারণেই হোক, গর্ভের পুষ্টি হচ্ছে না বরং শুকিয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে গাম্ভরীর ফল ৫। ৬টি (এটি দ্রাক্ষার কিসমিসের প্রায় সমগুণ সম্পন্ন) অল্প জলে সিদ্ধ করে নিতে হবে, তারপর তাকে বেটে বা ভালভাবে থেতো করে তার সঙ্গে অল্প চিনি মিশিয়ে প্রত্যহ সকালে অথবা বৈকালে একবার করে খেতে হবে। এইভাবে এটাকে ব্যবহার করলে দুই সপ্তাহের মধ্যে অসুবিধেটা কমে যাবে।

আরো পড়ুন:  সেগুন গাছ-এর নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণ

২. রক্তামাশায়: ২। ৩টি গামার বা গামারি ফলের রস ক’রে তার সঙ্গে ২ চা-চামচ ডালিমের রস মেশাতে হবে, সেইটা প্রত্যহ একবার বা দু’বার খেতে পারলে রক্তামাশা সেরে যায়। যদি কাঁচা গাণ্ডারী ফল পাওয়া যায়, তাহলে শুকনো ফল সিদ্ধ ক’রে খেলেও চলবে।

৩. শিশুর অপুষ্টিজনিত শুকনা: খাদ্যাভাবে মায়ের পুষ্টির অভাব ঘটেছে, যার জন্যে শিশু ভালভাবে স্তন্য পায় না, শিশুদের শুকিয়ে যাওয়ার এটাও একটা প্রধান কারণ, সেক্ষেত্রে দুটি গাম্ভরী ফল সিদ্ধ করে বেটে সেটাকে জলে গুলে, ছেকে নিতে হবে, সেই জলটা ওই শিশুটিকে ৪/৫ ঘণ্টা বা ৬ ঘণ্টা অন্তর দু’বারে খাওয়াতে হবে। এইটা নিয়মিত ব্যবহার করলে ৫।৭ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য উপকার পাওয়া যায়।

৪. রক্তপিত্তে: গাম্ভারীফল ৫। ৬টি সিদ্ধ ক’রে, বেটে নিয়ে সরবতের মত করে খাওয়াও যায় অথবা আন্দাজ আধ চা-চামচ মধু মিশিয়ে একবার করে খেলে দু’দিনের মধ্যে রক্তওঠা বা রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

CHEMICAL COMPOSITION

Gmelina arborea Linn. The drupes contain:— Butyric acid, tartaric acid (trace) and resinous and saccharine matter. The bark and root contains:- In traces of benzoic acid and resinous and saccharine substances. On destructive distillation of wood:- Pyroligneous acid 37.1%; esters 3.42%; aceton 2.38 and methanol 1.23%; carbon dixide 59%; and unsaturated hydrocarbon.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ৫, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ ১৪০৩, পৃষ্ঠা, ১২৬-১২৭।

Leave a Comment

error: Content is protected !!