কাকজংঘা গাছের নানাবিধ ভেষজ গুণাগুণের বিবরণ

কাকজংঘা সমগ্র গাছ ক্ষয়নাশক এবং যক্ষ্মায় প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। পাতা ও ছোট ছোট ডাল জীবাণুনাশক ও ক্ষতে পুলটিস হিসাবে ব্যবহৃত হয়। গাছটির কাণ্ড ও কন্দ সংকোচক এবং পিচ্ছিল, স্নেহন ও সংগ্রাহক।

কাকজংঘা-এর পরিচিতি

গাছের আকৃতি ছোট। জলাসন্ন ভূমিতে অথাৎ নদী, ঝিল, পুকুর এবং জঙ্গলের ধারে, পতিত জমিতে গাছগুলি অযত্নে জন্মে থাকে। উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, উড়িষ্যা প্রভৃতির যত্রতত্র এটিকে দেখা যায়। সাধারণতঃ ৩/৪ ফুট উচু হয়। কোন কোন স্থানের গাছ ও পাতা বড় হয়ে থাকে। কোমল শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট। পাতা ও শাখায় লোম আছে। শাখায় যে গাঁট আছে, তা দেখতে কাকের জংঘার ন্যায়; তাই এর নাম কাকজংঘা। সমগ্র ভেষজটি লোমশ, তাই এর নাম লোমশা বা সুলোমশা। পাতা আয়তাকার, লম্বা, কিনারা অল্প কাটা কাটা। পুষ্পদণ্ডে পুষ্প ঘন সন্নিবিষ্ট, শ্বেত ও সবুজের সংমিশ্রণ। পুষ্পদণ্ডের আকার দেখে এটির পারাবতপদী নামকরণের ইঙ্গিত খুঁজে পাওয়া যায়। ফল চ্যাপ্টা, ৬ কোণ বিশিষ্ট, পাকলে কালো বর্ণ ধারণ করে, দেখতে অনেকটা মটরের মত। গাছের রস জলে দিলে তা জমে যায়।

এই ভেষজটি সংস্কৃত, বাংলা ও হিন্দীতে কাকজংঘা নামে পরিচিত। অন্যান্য সংস্কৃত নাম। পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এটির বোটানিক্যাল নাম Leea aequata Linn., পূর্বে এটির নাম ছিল Leea hirta Roxb. ফ্যামিলী Vitaceae. ঔষধার্থে ব্যবহার্য অংশ : সমগ্র গাছ ও মূল।

ভেষজ গুণাগুণ

বাংলা তথা ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই ভেষজটিকে নিয়ে যে মুষ্টিযোগগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তার মধ্যে যেগুলি বিশেষ ফলপ্রদ, সেগুলির কয়েকটি সাজিয়ে দেওয়া হলো এখানে।

১. জীর্ণ অতিসারে: দীর্ঘ দিন ধরে এ রোগে অনেকেই ভোগেন, ছোট-বড় ক্রিমির উৎপাতও কোন কোন ক্ষেত্রে একে জটিল ক’রে থাকে, ক্ষুধা ভাল হতে চায় না, খেলে কোন কোন সময় হজম হয় না। এক্ষেত্রে কাকজংঘার শুকনো মূল ৫ গ্রাম (কাঁচা হলে ১০ গ্রাম) ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে, ছেঁকে, ঠাণ্ডা হলে সেটিকে সকালে ও বৈকালে অর্ধেকটা করে খেতে হবে। এভাবে মাসখানিক করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। তবে আরও কিছুদিন অবস্থানুসারে ব্যবহার করা দরকার।

আরো পড়ুন:  উলুচা বাংলাদেশের পাহাড়ীঞ্চলে জন্মানো গুল্ম

২. ব্রণ ও কণ্ডুতে: বার বার ফিরে ফিরে যেসব ক্ষেত্রে এগুলি দেখা দেয়, সেসব ক্ষেত্রে এই গাছের ক্বাথ ২ কাপ মাত্রায় দিনে ২ বার করে কিছুদিন খেতে হবে। এছাড়াও সমগ্র গাছ ১০ গ্রাম নিয়ে কুচি কুচি করে কেটে, ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে, ১ কাপ থাকতে নামিয়ে হেঁকে খাওয়া যাবে।

৩. শ্লেষ্মজ্বরে:জ্বরকে ইনফ্লুয়েঞ্জা বললে সহজেই বোঝা যাবে। এক্ষেত্রে উপরিউক্ত পদ্ধতিতে সমগ্র গাছের ক্বাথ তৈরী করে ঐ ক্বাথটি ১ কাপ সারাদিনে ২-৩ বারে খেতে হবে। পৃথ্যাপথ্য একটু মেনে চলতে হবে কয়েকদিন। ৩/৪ দিনে জ্বর ও কফ দুই-ই চলে যাবে।

৪. শ্বেতপ্রদরে: কাকজংঘার মূল ৫ গ্রাম নিয়ে ভালভাবে ধুয়ে চাল ধোয়া জল দিয়ে মসৃণ করে বেটে সেটাকে কাপখানিক চাল ধোয়া জলের সঙ্গে মিশিয়ে শরবতের মতো করে প্রত্যহ সকালে খালি পেটে একবার করে পান করতে হবে। ২/৩ মাস ব্যবহার করলে পুরাতন শ্বেতপ্রদরের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৫. পারদ বিষে: পারদকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ঔষধে ব্যবহার করা হয়। প্রস্তুতবিধি সঠিকভাবে মেনে না চললে পারদ কাঁচা অবস্থায় থেকে যেতে পারে এবং তা শরীরে গিয়ে রক্তের সঙ্গে মিশে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। শরীর লালবর্ণ হয়ে গিয়ে ব্যথা হয়, কোন কোন স্থানের চামড়া উঠে যায়, ঘা হয়। এক্ষেত্রে কাকজংঘা গাছের সমগ্র অংশ ক্বাথ উপরিউক্ত পদ্ধতিতে তৈরী করে সেবন করলে বিষদোষ নষ্ট হয়।

CHEMICAL COMPOSITION

Leea acquata Linn.

Syn. Leea hirta Roxb. jex Horn.. Plant contains:- essential oil 0.15%. Root, tubers and stems contain:- mucilaginous and astringent-substance.

Polygonum orientale Linn. Leaves contain: flavone glycosides (orientoside and orientin); aglycones (apigenin and luteolin); alkaloids. Stem contains: tannic acid; phenolic compounds and sapogenins. Rootstocks contain:- Oxymethyl anthraquinone.

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

আরো পড়ুন:  পান নাতা বাংলাদেশে জন্মানো বর্ষজীবী ভেষজ বিরুৎ

তথ্যসূত্র:

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১০, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, চতুর্থ মুদ্রণ ১৪০৭, পৃষ্ঠা, ২৩৫-২৩৮।

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি powo.science.kew.org থেকে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!