গনিয়ারি গাছের বারোটি ঔষধি গুণাগুণ ও প্রয়োগ

গনিয়ারি বা অগ্নিমান্থ বৈজ্ঞানিক নাম: Premna serratifolia. এই গাছের ছাল, পাতা, মূল, মূলের ত্বক ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করে থাকে।

গনিয়ারি-এর ব্যবহার:

১. আমদোষে দমকা দাস্ত: মাঝে মাঝে হতে থাকলে অগ্নিমান্থ বা গনিয়ারি ছাল চূর্ণ ২ থেকে ৩ গ্রাম মাত্রায় জলসহ দু’বেলা ব্যবহার করলে, তাছাড়া মাঝে মাঝে দাস্তও হতে থাকলে দোষটি সেরে যায়।

২. আঘাতজনিত ফোলায়: কোমলস্থানে আঘাত লেগে ফুলে গেলে এই গাছের পাতা বেটে লাগালে ফুলা সেরে যায়।

৩. কিডনির দোষে-প্রস্রাবে. অপতা, তজ্জন্য হাতে-পায়ে ফলায়: এর পাতার রস ৩ থেকে ৪ চা-চামচ অল্প গরম করে খেলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কিডনির শোথ নষ্ট হয়ে প্রস্রাব স্বাভাবিক হবে এবং হাত-পায়ের ফুলাও কমে যাবে।

৪. জন্ডিসে ও পাণ্ড রোগ: এর ছাল ও পাতার পাচন ব্যবহার করলে পাণ্ডু ও কামলা (ন্যাবা) সারে। এই গাছের পাতা ও ডাঁটা মিলিয়ে ১২-১৮ গ্রাম পর্যন্ত মাত্রায় ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেকে প্রত্যহ ২ বারে খেতে হবে।

৫. ঋতুদোষে: মেয়েদের ঋতুদোষে ক্রমে শরীরটা মোটা হয়ে গেলে এবং মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে উপরিউক্ত নিয়মে পাতা ও ডাঁটা সিদ্ধ করে খেলে শরীরে সে তন্বী হয় এবং তার ঋতুদোষও নষ্ট হয়।

৬. হৃদরোগে: অস্বাভাবিক মেদ জন্য বুক ধড়ফড় করে, সেক্ষেত্রে এই গাছের ছাল চূর্ণ ২। ৩ গ্রাম মাত্রায় জলসহ খেতে হয়। এর দ্বারা ঐ মেদের জীর্ণতা এসে শরীরের বলাধান করে, তবে এই ঔষধটি খাওয়ার পর ঘরে পাতা দই একটু ঘোল করে খেলে ভালো হয়।

৭. স্থুলতা দোষ, মলরোধ ও আমদোষ হলে: এক্ষেত্রে জানতে হয় এটি রসদৃষ্টি আমরোগ জনিত হয়েছে কিনা এবং তাতে বিষমাঙ্গির জন্যই যে প্রচুর আহার করতে চায় এটা জেনে নিতে হবে, সে রোগীর বিশেষ লক্ষণ মাঝে মাঝে কুটরসের (ঝাল)।

আরো পড়ুন:  চাকোয়া বাংলাদেশের পাহাড়ি চিরহরিৎ বনের ভেষজ বৃক্ষ

আহারে প্রবৃত্তি বেশি আসে; সেক্ষেত্রে অগ্নিমন্থ বা গনিয়ারি চূর্ণ গরম জলসহ দুপুরে ও রাত্রের আহারের পর ৩ গ্রাম মাত্রায় খেতে হয়।

৮. দুর্ঘটনা জনিত ফলায় বা ফোড়ার:  ফুলা দেহের যেকোনো জায়গা যেকোনো দুর্ঘটনায় ফুলে গেলে এর ছাল বেটে প্রলেপ দিলে কমে যায়।

৯. অগ্নিমান্দ্য রোগে: প্রায়ই যাঁরা অগ্নিমান্দ্যে ভোগেন, তাঁরা নিত্য এর ছালের গুড়ো খাবেন ঠাণ্ডা জলসহ।

১০. মল বেগ না আসায়: পায়খানা করতে যাদের বেগ আসে না, তাঁরা এর পাতার চূর্ণ ১ থেকে ২ গ্রাম মাত্রায় গরম জলসহ খেলে আধ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্য বেগ পাবেন। তাদের ও দোষ নষ্ট হয়।

১১. কোলেস্টেরল (Cholesterol) বেড়ে গেলে: এই গাছের ছাল চূর্ণ ১ গ্রাম মাত্রায় গরম জলসহ খেলে ব্লাড কোলেস্টেরল কমে যায়।

১২. প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা (Urinary disease): এ রোগে এই গাছের বা মূলের ছালের ক্বাথ পান করার উপদেশ দিয়েছেন সুশ্রুত ও চক্রদত্ত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো প্রদেশে Clerodendrum phlomidis Linn. f. নামীয় গাছটি অরণি নামে চিহ্নিত করেছেন; এটিও Verbenaceae ফ্যামিলিভুত, সেখানেও সমীক্ষার প্রয়োজন।

রাসায়নিক গঠন:

(a) Alkaloids viz. premnine, ganjarine.

(b) Antibiotics viz, staphylo coccus aureus, bacillus subtilis, streptococcus pyogenes (these substances are only active against grain positive organisms).

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ

১. আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য: চিরঞ্জীব বনৌষধি খন্ড ১, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১৩৮৩, পৃষ্ঠা,২০৫-২০৬।

Leave a Comment

error: Content is protected !!