গাঁদা গিলা পার্বত্যঞ্চলে জন্মানো উপকারী উদ্ভিদ

উদ্ভিদ

গাঁদা গিলা

বৈজ্ঞানিক নাম: Bauhinia wallichii Macbr., Contrib. Gray Herb, n, s. 2(23): 50 (1919). সমনাম: Bauhinia macrostachya Wall. ex Roxb. (1832), Phanera macrostachya Benth. (1980), Phanera wallichii (Macbr.) Thoth. (1992). Bauhinia ungulata ইংরেজি নাম: জানা নেই। স্থানীয় নাম: গাঁদা গিলা, মাখরি-খিলা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Fabales. পরিবার: Fabaceae. গণ: Bauhinia  প্রজাতির নাম: Bauhinia wallichii L

ভূমিকা: গাঁদা গিলা (বৈজ্ঞানিক নাম: Bauhinia wallichii) ফেবাসিস পরিবারের একটি এক প্রকারের বৃক্ষ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশে জন্মে।

গাঁদা গিলা-এর বর্ণনা:

বৃহৎ আরোহী, অর্ধরোমশ, জোড়া আকর্ষী। পত্র সরল, একান্তর, ৭.৫-১৫.০ x ৮-১২ সেমি, প্রশস্ত ডিম্বাকার বা অর্ধবর্তুলাকার, কাটা, উপরের পত্র অখন্ড, খন্ড সূক্ষ্মাগ্র থেকে দীর্ঘাগ্র, কখনও প্রশস্ত অপসারী, ডিম্বাকার, উপরের পৃষ্ঠ রোম বিহীন, অঙ্কীয় পৃষ্ঠ শিরাসহ রোমশ বা রোম বিহীন, মূলীয় অংশ প্রশস্ত হৃৎপিন্ডাকার, সাধারণত ৯শিরাল, শিরা শীর্ষাভিমুখী অভিসারী, বৃন্ত ৫,০-৭.৫ সেমি লম্বা, যে কোন প্রান্ত স্ফীত।

রেসিম ৭.৫-১৫ সেমি লম্বা, সরল বা শাখান্বিত, শীর্ষীয় বা উপরের দিকে পত্র অক্ষীয়, মঞ্জরীপত্র ছোট, ব-দ্বীপাকার, বাদামী রোমশ, মঞ্জরীদন্ড ০.৮-১.০ সেমি লম্বা, কৌণিক, বাহু ৫-৮ সেমি লম্বা, শীর্ষ থেকে নিচের মাঝামাঝি অংশ ৫ খন্ডে বিভক্ত, খন্ড ডিম্বাকার, স্থূলা, চাপা, ধূসর বাদামী রোমশ।

পাপড়ি ফ্যাকাশে হলুদ, বহির্মুখী, ১.২-১.৫ x ০.৫-০.৭ মিমি, বিডিম্বাকার, বৃহৎ দলবৃন্ত যুক্ত, ঘন বাদামী রোমশ। পুংকেশর ৩ টি, উর্বর, পুংদন্ড ২ সেমি লম্বা। গর্ভাশয় ঘন মরচে বর্ণের পশমী রোমশ, খাটো দন্ড যুক্ত, গর্ভদন্ড খাটো, উপরিভাগ রোম বিহীন। ফল পড, ১০-১৫ x ৪-৫ সেমি, দীর্ঘায়ত, চ্যাপ্টা, ঘন ক্ষুদ্র কোমল রোমশ, অবিদারী, ২-৪ বীজী।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: পাহাড়ী অরণ্য। ফুল ও ফল ধারণ এপ্রিল থেকে মে মাস। বীজে থেকে নতুন চারা জন্মে।

বিস্তৃতি:

কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, মায়ানমার ও ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলায় জন্মে। (Khan et al., 1996)।

আরো পড়ুন:  কামরাঙা বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক জনপ্রিয় ফল

গুরুত্ব: স্থানীয় অধিবাসীরা গাছটিকে জ্বালানীরূপে ব্যবহার করে।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) গাঁদা গিলা  প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন। বাংলাদেশে গাঁদা গিলা  সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির যথাস্থানে সংরক্ষণের প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র:

১. বি এম রিজিয়া খাতুন (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ১০১-১০২। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: João Medeiros

Leave a Comment

error: Content is protected !!