পাহাড়ি বিষ ঢেকিয়া দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মানো ভেষজ সবজি

লতা

পাহাড়ি বিষ ঢেকিয়া

বৈজ্ঞানিক নাম: Christella arida (D. Don) Holtt. in Nayar & Kaur, Comp. Bedd. Handb.: 206 (1974). সমনাম: Nephrodium aridus (D.Don) J. Sm. (1841). ইংরেজি নাম: ফার্ন। স্থানীয় নাম: পাহাড়ি বিষ ঢেকিয়া।
জীববৈজ্ঞানিকশ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Polypodiophyta. বর্গ: Polypodiales. পরিবার: Pteridaceae. গণ: Christella. প্রজাতি: Christella arida.

ভূমিকা: পাহাড়ি বিষ ঢেকিয়া (বৈজ্ঞানিক নাম: Christella arida) পাহাড়ী ছায়াযুক্ত স্থানে জন্মে। অনেকে সবজি হিসাবে এই শাক খায়।

পাহাড়ি বিষ ঢেকিয়া-এর বর্ণনা:

গ্রন্থিক দীর্ঘ-লতানো। পত্রদন্ড ১৫-৩০ সেমি লম্বা, মসৃণ। পাতা ১৫০ সেমি লম্বা, পত্রক ৩০ জোড়া অথবা অধিক, নিচের ৩-৫ অথবা অধিক জোড়া ক্রমাগত অথবা হঠাৎ হ্রাসকৃত এবং অধিক দূরত্বে অবস্থিত, কর্ণসদৃশ অভিক্ষেপ বিশিষ্ট অথবা নয়, সবচেয়ে নিচেরটি সাধারণতঃ ৫-১০ মিমি লম্বা, পাতার শীর্ষ পত্রক-সদৃশ বয়ণ অত্যন্ত শক্ত। সবচাইতে বড় পত্রক ১৬.০ X ১.৮ সেমি, দীর্ঘাগ্রী খন্ডিত, কস্টার দিকে এক-চতুর্থাংশ, ছোট শক্ত অগ্রযুক্ত, কস্টিউল ৩-৪ মিমি দূরে দূরে, সামান্য তীর্যক।

শিরা ১০ জোড়া পর্যন্ত, নিচে সুস্পষ্ট, দেড় জোড়া কস্টার সাথে চওড়া কোণে সমাযোগীয়, পরবর্তী ৩ জোড়া অত্যন্ত তীর্যক, নিচের পৃষ্ঠে সুস্পষ্ট সাইনাস ঝিল্লীতে অগ্রসরকৃত, কস্টারগুলির নিচের পৃষ্ঠ বিরলভাবে শক্ত খাড়া ০.২ মিমি লম্বা রোম এবং কিছু অত্যন্ত সরু শল্কযুক্ত, কস্টিউল এবং শিরা বিক্ষিপ্ত ছোট সূচ্যাকার রোম এবং পুরু, হলুদ হতে লাল গ্রন্থিল রোম যুক্ত, কস্টারগুলির উপরের পৃষ্ঠ কখনো কখনো শিরা এবং কস্টিউলের মাঝখানে, শিরার মাঝে ছোট খাড়া রোমযুক্ত, পৃষ্ঠ প্রায় অথবা বেশ মসৃণ। সোরাসগুলি মধ্যবর্তী, নিচেরগুলি অপসারী সোরাসছত্র মসৃণ অথবা কিছু গ্রন্থিল এবং ছোট সূচ্যাকার রোমযুক্ত।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: X = ৩৬ (Smith, 1990)।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: পাহাড়ী অঞ্চলে রাস্তার ধারে। বংশবিস্তার হয় গ্রন্থিক এবং রেণু দ্বারা।

পাহাড়ি বিষ ঢেকিয়া-এর বিস্তৃতি:

ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ভিয়েতনাম। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সুন্দরবন অঞ্চল থেকে এই প্রজাতি সংগ্রহ করা হয়েছে (Mirza and Rahman, 1997)।

আরো পড়ুন:  পদ্ম গুলঞ্চ লতা এশিয়ায় জন্মানো এক উপকারি ঔষধি উদ্ভিদ

ব্যবহার: সবজি হিসাবে খাওয়া যায়। জাতিতাত্ত্বিক ব্যবহার: সিলেট জেলায় তরুণ পাতা সবজি হিসাবে খাওয়া হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৫ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) পাহাড়ি বিষ ঢেকিয়া প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে বাংলাদেশে এটি হুমকির সম্মুখীন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে পাহাড়ি বিষ ঢেকিয়া সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি।

তথ্যসূত্র:

১. মমতাজ মহল মির্জা (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৫ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৩৩৮-৩৩৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি http://chabg.gov.au থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Fagg, M.

Leave a Comment

error: Content is protected !!