ধেমনা বা চেমনা বাংলাদেশের বর্ষা অরণ্যে জন্মানো লতা

লতা

ধেমনা বা চেমনা

বৈজ্ঞানিক নাম: Cissus elongata Roxb., Fl. Ind. 1: 411(1832), সমনাম: Vitis elongata (Roxb.) Wall. (1875). স্থানীয় নাম: ধেমনা, চেমনা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ:  Angiosperms. অবিন্যাসিত:  Asterids. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Vitales পরিবার:  Vitaceae. গণ: Cissus. প্রজাতি: Cissus assamica.

ভূমিকা: ধেমনা বা চেমনা (বৈজ্ঞানিক নাম: Cissus elongata) বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মে। এছাড়াও ভেষজ চিকিৎসায় কাজে লাগে।

ধেমনা বা চেমনা-এর বর্ণনা:

বৃহৎ বীরুৎ সদৃশ আরোহী। সমস্ত উদ্ভিদ প্রায় রোমহীন, আকর্ষী পত্র-প্রতিমুখ, দ্বিগুণ দ্বিখন্ডিত। পত্র করতলাকার ৫-পত্রক, রোমহীন বা মধ্যশিরার নিম্নভাগ স্বল্প রোমশ, পত্রবৃন্ত ১০ সেমি পর্যন্ত লম্বা, পত্রক ঝিল্লিময়, উপবৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার-বল্লমাকার, খাটো দীর্ঘাগ্র, করাত দস্তুর, ৩-১৩ x ১.৫-৪.৫ সেমি, উপপত্র গোলাকার, প্রায় ২.৫ সেমি লম্বা, স্থায়ী।

সাইম দ্ব্যগ্র শাখান্বিত। ছোট আম্বেল। পুষ্প ছোট, ৪-অংশক। বৃতি পেয়ালা-আকৃতির, অখন্ডিত। দল খন্ডক ১.৫-২.০ মিমি লম্বা। গর্ভদন্ড সরু, প্রসারিত। ফল বেরী, উপবৃত্তাকার, মসৃণ কালো, ১-বীজী।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২৪ (Kumar and Subramaniam, 1986).

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

বর্ষা অরণ্যের পাহাড়ের পাদদেশ এবং প্রান্ত। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল মে-সেপ্টেম্বর। বংশ বিস্তার হয় বীজ এবং মৌল কান্ড দ্বারা।

বিস্তৃতি:

ভারত এবং বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং সিলেট জেলায় বিস্তৃত।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার: কান্ড এবং পাতা স্থানীয় লোকেরা সবজি হিসেবে খায় (Rahman et al., 2003).

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ধেমনা, চেমনা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বনের ঝোপ জঙ্গল পরিস্কার এবং পোড়ানোর কারণে বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে ধেমনা, চেমনা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির চাষাবাদ প্রয়োজন নেই।  

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১০ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৫০৭-৫০৮। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

আরো পড়ুন:  শতমূলী বা শতবরী বাংলাদেশের বর্ষজীবী ঔষধি বীরুৎ

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!