আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > প্রাণ > উদ্ভিদ > লতা > রাঙা মরমরিয়া লতা শোভাবর্ধনকারী ও ভেষজ প্রজাতি

রাঙা মরমরিয়া লতা শোভাবর্ধনকারী ও ভেষজ প্রজাতি

ভেষজ প্রজাতি

রাঙা মরমরিয়া লতা

বৈজ্ঞানিক নাম: Cissus iavana DC.. Prodr. 1: 628 (1824). সমনাম: Cissus discolor Blume (1825), Vitis discolor (Blume) Dalz. (1830). ইংরেজি নাম: Climbing Begonia, Rex Begonia Vine, Painted Cissus. স্থানীয় নাম: রাঙা মরমরিয়া লতা। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ:  Angiosperms. অবিন্যাসিত:  Asterids. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Vitales পরিবার:  Vitaceae. গণ: Cissus. প্রজাতি: Cissus iavana.

ভূমিকা: রাঙা মরমরিয়া লতা (বৈজ্ঞানিক নাম: Cissus iavana) বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মে। এছাড়াও ভেষজ চিকিৎসায় কাজে লাগে। এছাড়া শোভাবর্ধনের জন্যও লাগানো হয়।

রাঙা মরমরিয়া লতা-এর বর্ণনা:

আরোহী বীরুৎ যা অর্ধকাষ্ঠল গোড়া এবং রঙ্গিন পত্রযুক্ত, সমস্ত উদ্ভিদ সম্পূর্ণ রোমহীন। শাখাপ্রশাখা সরু, অর্ধকোণাকার, গাঢ় লাল।

পত্র ৬.৫-১৯.০ x ২-৮ সেমি, ডিম্বাকার-বল্লমাকার, দীর্ঘা, গোড়া হৃৎপিন্ডাকার বা অর্ধকর্তিতা, গোলাকার দপ্তর করাত দপ্তর, ঝিল্লিময়, উপরিভাগ গাঢ় সবুজ, প্রায় ধূসর-সবুজ ছোপযুক্ত, নিম্নভাগ গাঢ় লাল।

পত্রবৃন্ত লাল, ৪ মিমি পর্যন্ত লম্বা, উপপত্র ডিম্বাকার-আয়তাকার, শীর্ষ গোলাকার, ২.০-২.৫ মিমি লম্বা, স্থায়ী। সাইম আম্বেল সদৃশ, পত্র-প্রতিমুখ, মঞ্জরীদন্ড ২ সেমি পর্যন্ত লম্বা, পুষ্পবৃন্ত ১ সেমি পর্যন্ত লম্বা, গাঢ় লাল।

পুষ্প আড়াআড়ি ১-৬ সেমি, সবুজাভ-হলুদ। বৃতি গ্রন্থিল কর্তিতা, লাল। দলমন্ডল খন্ডক ২ মিমি লম্বা, শীর্ষ স্থুল, গর্ভমুণ্ড মুত্তাকার। ফল বেরী, বিডিমাকার, পিছনে লালাভ-রক্তবেগুনী, ১-বীজী।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: ২= ২৪ (Kum;” and Subramaniam, 1986).

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

বর্ষা অরন্য জন্মে। ফুল ও ফল ধারণ মে ও ডিসেম্বর মাস। বংশ বিস্তার হয় বীজ এবং মৌল কান্ড দ্বারা।

বিস্তৃতি:

ভারত, মালয়েশিয়া এবং জাভা। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং সিলেট জেলায় বিস্তৃত।

জাতিতাত্বিক ব্যবহার:

রঙিন পাতার জন্য শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় (Rahman et al., 2003).

রাঙা মরমরিয়া লতা-এর অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) মেদমেদিয়া লতা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বর্তমানে এটা সংকটের কোনো সম্ভবনা নেই ও বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

আরো পড়ুন:  ঘোড়া গুলঞ্চ ও পদ্ম গুলঞ্চ লতার ঔষধি গুণাগুণ ও উপকারিতা

বাংলাদেশে মেদমেদিয়া লতা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির চাষাবাদ প্রয়োজন নেই।  

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১০ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৫০৮। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Vinayaraj

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page