মেদমেদিয়া লতা বর্ষা অরণ্য জন্মানো ভেষজ প্রজাতি

ভেষজ প্রজাতি

মেদমেদিয়া লতা

বৈজ্ঞানিক নাম: Cissus rependa Vahl, Symb. 3: 18 (1794). সমনাম: Vitis rependa (Vahl) Wight & Arn. (1834). ইংরেজি নাম : Pani Bel, Wavy-leaved Cissus. স্থানীয় নাম: মেদমেদিয়া লতা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ:  Angiosperms. অবিন্যাসিত:  Asterids. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Vitales পরিবার:  Vitaceae. গণ: Cissus. প্রজাতি: Cissus rependa.

ভূমিকা: মেদমেদিয়া লতা (বৈজ্ঞানিক নাম: Cissus rependa) বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় জন্মে। এছাড়াও ভেষজ চিকিৎসায় কাজে লাগে।

মেদমেদিয়া লতা-এর বর্ণনা:

বৃহৎ কাষ্ঠল আরোহী, কুঞ্চিত নরম এবং পাকানো। কান্ডবিশিষ্ট, খন্ডিত আকর্ষী চ্যাপ্টা চাকতিযুক্ত। পত্র সরল, ৪-১৩ x ২-১১ সেমি, ডিম্বাকার-বর্তুলাকার বা তরঙ্গায়িত, হৃৎপিন্ডাকার, দীর্ঘাগ্র, গোলাকার দন্তুর, দন্তুর, অপরিণত অবস্থায় নিম্নতল ঘন ক্ষুদ্র রোমাবৃত, পরিণত অবস্থায় রোমশ, পত্রবৃন্ত ৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা, উপপত্র আয়তাকার, স্থলাগ্র।

পুষ্পবিন্যাস পত্র-প্রতিমুখ, অর্ধ-করিম্ব সদৃশ, মঞ্জরীদন্ড ২-৫ সেমি লম্বা, পুষ্পবৃন্ত ১-২ মিমি লম্বা। মঞ্জরীপত্র এবং মঞ্জরীপত্রিকা লালাভ, ঘন পশমী। পুষ্প ৪ অংশক। বৃতি কর্তিতা, রোমশ। দল খন্ডক ত্রিকোণাকার বা ডিম্বাকার, গোলাপী। ফল বেরী, নাশপাতি আকার, ১ বীজী, বীজ মসৃণ।

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২৪ (Kumar and Subramaniam, 1986).

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

বর্ষা অরণ্য এবং বনের প্রান্ত। ফুল ও ফল ধারণ আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস। বংশ বিস্তার হয় বীজ এবং মৌল কান্ড দ্বারা।

মেদমেদিয়া লতা-এর বিস্তৃতি:

ভারত, মায়ানমার এবং পশ্চিমাংশীয় পেনিনসুলা। বাংলাদেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলায় বিস্তৃত।

অর্থনৈতিক ব্যবহার:

বাকল এবং বৃন্ত উন্নতমানের তন্তু উৎপন্ন করে (Bhattacharya and Paul, 1997).

জাতিতাত্বিক ব্যবহার:

কান্ড কাটলে উন্নতমানের সুপেয় পানীয় পাওয়া যায়। মূলের পাউডার কাটা এবং ভাঙ্গা জায়গায় প্রয়োগকৃত।

মেদমেদিয়া লতা-এর অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ১০ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) মেদমেদিয়া লতা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বনের ঝোপ জঙ্গল পরিস্কার এবং পোড়ানোর কারণে বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে মেদমেদিয়া লতা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির চাষাবাদ প্রয়োজন নেই।  

তথ্যসূত্র:

১. এম আতিকুর রহমান (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ১০ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ৫০৯-৫১০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!