প্রণব রায় আধুনিক বাংলা রোমান্টিক গানের জনপ্রিয় গীতিকার

প্রণব রায় জন্মেছেন ১৯১১ সালের ৫ ডিসেম্বর ২৪ পরগনার বড়িশার প্রখ্যাত সাবর্ণ রায়চৌধুরী বংশে। গোঁড়া ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হলেও প্রণব রায় এ ভাবধারায় মানুষ হন কারণ তার পিতা ছিলেন ব্রাহ্ম।

প্রণব রায় ব্রাহ্ম বয়েজ স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিটি কলেজে ভর্তি হন । অল্প কিছুকাল পরে ভর্তি হন বি. ই. কলেজে। সেখানে ছাত্র থাকাকালীন ‘কমরেড’ লিখে কারাবাস করতে হয়, ফলে লেখপড়ায় ছেদ পড়ে।

প্রণব রায়ের ছেলেবেলা থেকে সাহিত্যের নেশা ছিল। কবিতা দিয়ে শুরু করেন সাহিত্যজীবন। ‘বিশ্বদূত’ পত্রিকায় ‘কমরেড’ নামে এক কবিতা লিখেন। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রথম সংখ্যায় তার লেখা কবিতা ‘আলাপ’ রবীন্দ্রনাথের স্বীকৃতি লাভ করে । কিন্তু তিনি যুক্ত হয়ে পড়েন গান রচনার কাজে। অচিরে কমলা ঝরিয়ার কন্ঠে তার লেখা গানের রেকর্ড ‘ও বিদেশী বন্ধু’ বেরোয় ও জনাদৃত হয় । চলচ্চিত্রে প্রথম গান লেখেন ‘পণ্ডিতমশাই’ ছবির জন্য। গানের ব্যাপারে তার পারিবারিক ঐতিহ্য ছিল, নিজে অর্গান ও পিয়ানো বাজাতে পারতেন। গান রচনার প্রেরণা পান কাজী নজরুল ইসলামের সংস্পর্শে এসে। তার অনেক গানে নজরুল সুর দেন। বছর খানেক কাজ করেন বসুমতী পত্রিকায় বার্তা সম্পাদক হিসেবে। পরে কাজ করেন পায়োনিয়ার রেকর্ড কোম্পানিতে।

গান লেখার সূত্রে চলচ্চিত্রের জগতে যোগাযোগ ঘটে। নীরেন লাহিড়ী, নীতিন বসু ও প্রমথেশ বড়ুয়ার সঙ্গে সহযোগী পরিচালকরূপে যুক্ত হন। স্বাধীন ভাবে চিত্র পরিচালনা করেন মন্দির’, ‘অনুরাধা’, ‘প্রার্থনা’ ও ‘রাঙামাটি । চলচ্চিত্রে গান রচনার ব্যাপারে তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। সে ব্যাপারে অনেক চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। রচিত গানের সংখ্যা দু-হাজারের মতো এখনও পর্যন্ত অগ্রন্থিত। ১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট প্রণব রায় প্রয়াত হন।

তথ্যসূত্র:

১. সুধীর চক্রবর্তী সম্পাদিত আধুনিক বাংলা গান, প্যাপিরাস, কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ১ বৈশাখ ১৩৯৪, পৃষ্ঠা, ১৭৪।

আরো পড়ুন:  জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা, মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল?

Leave a Comment

error: Content is protected !!