আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সংকলন > লেনিন > শ্রমিক, সৈনিক এবং কৃষকদের প্রতি

শ্রমিক, সৈনিক এবং কৃষকদের প্রতি

শ্রমিক এবং সৈনিক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতসমূহের দ্বিতীয় সারা রাশিয়ায় কংগ্রেসের কাজ আরম্ভ হয়েছে (১৩৩)। সোভিয়েতগুলির বিপুল সংখ্যাগুরু অংশের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এই কংগ্রেসে। কৃষক সোভিয়েতগুলি থেকেও কিছু প্রতিনিধি উপস্থিত রয়েছেন। আপসপন্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রাধিকার খতম। শ্রমিক, সৈনিক এবং কৃষকদের বিপুল সংখ্যাগুরু অংশের সংকল্পের সমর্থনপুষ্ট, পেত্রগ্রাদে শ্রমিকদের এবং গ্যারিসনের জয়যুক্ত অভ্যুত্থানের সমর্থনপুষ্ট এই কংগ্রেস ক্ষমতা নিল নিজ হাতে।

সাময়িক সরকার উচ্ছেদ হয়েছে। সাময়িক সরকারের মন্ত্রীদের বেশির ভাগ গ্রেপ্তার হয়েছে ইতিমধ্যে।

সমস্ত জাতির প্রতি অবিলম্ব গণতান্ত্রিক শান্তির প্রস্তাব এবং সমস্ত ফ্রন্টে অবিলম্ব যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপন করবে সোভিয়েত সরকার। ভূস্বামী, ক্রাউন এবং মঠগুলির ভূমি বিনা খেসারতে কৃষক কমিটিগুলির কাছে হস্তান্তরণ হাসিল করবে সোভিয়েত সরকার। ফৌজে পূর্ণ গণতন্ত্র চালু করে সোভিয়েত সরকার সৈনিকদের অধিকার সুরক্ষিত করবে। উৎপাদনে শ্রমিকের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করবে। ধার্য সময়ে সংবিধান সভা বসাবে। শহরে রুটি এবং গ্রামে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করবে। রাশিয়ায় বাসিন্দা সমস্ত জাতির সাচ্চা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার নিশ্চিত করবে।

এই কংগ্রেস এই আইন জারি করছে: এলাকাগুলিতে সমস্ত ক্ষমতা যাবে শ্রমিক, সৈনিক এবং কৃষক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতগুলির হাতে, তাদের নিশ্চিত করতে হবে সাচ্চা বৈপ্লবিক শৃঙ্খলা।

পরিখায় সৈনিকদের সতর্ক এবং দৃঢ় থাকতে আহবান জানাচ্ছে এই কংগ্রেস। নতুন সরকার সরাসরি সমস্ত দেশের জনগণের উদ্দেশে যে গণতান্ত্রিক শান্তির প্রস্তাব তুলবে, সেই শান্তিচুক্তি সম্পাদিত না হওয়া অবধি সময়ে বৈপ্লবিক ফৌজ যে সাম্রাজ্যবাদের সমস্ত হামলার বিরুদ্ধে বিপ্লবকে রক্ষা করতে সমর্থ হবে, তাতে এই সোভিয়েতগুলির কংগ্রেসের কোনো সংশয় নেই। বিত্তবান শ্রেণীগুলোর বেলায় বাজেয়াপ্তি এবং করাধানের স্থিরসংকল্প কর্মনীতির সাহায্যে বৈপ্লবিক ফৌজকে সবকিছু পুরোপুরি সরবরাহ করার জন্য নতুন সরকার করবে সবকিছু, আর সৈনিক পরিবারগুলির অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।

পেত্রগ্রাদের বিরুদ্ধে সৈন্য চালনার চেষ্টা করছে কর্নিলভপন্থীরা – কেরেনস্কি, কালেদিন এবং অন্যান্যেরা। কেরেনস্কি ধোঁকা দিয়ে চালনা করেছিলেন সিপাইদের কয়েকটা ইউনিট, তারা চলে এসেছে উদ্বুদ্ধ জনগণের পক্ষে।

সৈনিকগণ, প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলুন কর্নিলভপখী কেরেনস্কির বিরুদ্ধে! হশিয়ার থাকুন!

রেলের শ্রমিক-কর্মচারিগণ, পেত্রগ্রাদের বিরুদ্ধে কেরেনস্কির পাঠান সমস্ত সৈন্যবাহী ট্রেন রুখে দিন।

সৈনিকগণ, কলকারখানা আর আপিসের শ্রমিক-কর্মচারিগণ, বিপ্লবের ভাগ্য, গণতান্ত্রিক শান্তির ভাগ্য আপনাদেরই হাতে!

ইনকিলাব জিন্দাবাদ!

 

আরো পড়ুন:  শ্রমপাড়া জেগে ওঠো

শ্রমিক এবং সৈনিক প্রতিনিধিদের সোভিয়েতসমুহের সারা-রাশিয়া কংগ্রেস

কৃষক সোভিয়েতগুলির প্রতিনিধিগণ

১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবরে (৭ নভেম্বরে) লিখিত

লেখাটি নেয়া হয়েছে ইংরেজি ৩৫ খণ্ড, ১১-১২ পৃষ্ঠা থেকে। বাংলা অনুবাদটি নেয়া হয়েছে প্রগতি প্রকাশন, মস্কো থেকে প্রকাশিত লেনিনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নামক সংকলনের ২৬৭-২৬৮ পৃষ্ঠা থেকে।

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন
ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন (এপ্রিল ২২, ১৮৭০ – জানুয়ারি ২১, ১৯২৪) ছিলেন লেনিনবাদের প্রতিষ্ঠাতা, একজন মার্কসবাদী রুশ বিপ্লবী এবং সাম্যবাদী রাজনীতিবিদ। লেনিন ১৯১৭ সালে সংঘটিত মহান অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকদের প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page