সুখটান

বাঁচার গর্বে
মাটিতে তার পা পড়ছিল না ব’লে

গান গাইতে গাইতে
আমরা তাকে সপাটে তুলে দিয়ে এলাম
        আগুনের দোরগোড়ায়

লোকটার জানা ছিল কায়কল্পের জাদু
ধুলোকে সোনা করার
ছুঁ-মন্তর

তাঁর ঝুলিতে থাকত
যত রাজ্যের ফেলে-দেওয়া
     রকমারি পুরনো জিনিস
যখন হাত ঢুকিয়ে বার করত
     কী আশ্চর্য
        একেবারে ঝকঝকে নতুন

লোকটা ছিল নিদারুণ রসিক
পাড়-ভাঙ্গা নদীর মতন রাস্তায়
     বরবেশে যখন তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল
           ফুলশয্যার গাড়িতে
তখনও ঠোটের কোনে লাগিয়ে রেখেছিল
        জীবনের সুখটান

যাবার সময় আমরা ঢেকে দিয়েছিলাম
তাঁর সুখটান হাতের শেকল-ভাঙ্গার দাগ
সারা গায়ের হাজারটা কালশিটে
মালায় টান পড়ায়
   ঢাকা যায়নি শুধু
          ক’দিন আগে মার খাওয়ার
                  একটা দগদগে চিহ্ন

সেটা ঢাকবার জন্য মালা একটা এসেছিল বটে
কিন্তু আগুনের আবার ফুল সয় না ব’লে
সব মালাই তখন খুলে ফেলা হয়েছিল

মালা একটা এসেছিল বটে

কিন্তু
খুব দেরিতে

মালা এসেছিল
কিন্তু
    মানুষ আসেনি

মানুষটা নাকি অন্ধকারে কলম ডুবিয়ে
‘বাঙালীর ইতিহাসঃ  অন্তিমপর্ব’
লেখায় অসম্ভব ব্যস্ত ছিল।।

Leave a Comment

error: Content is protected !!