আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > অর্থনীতি > এই অতিমারী একটি সিংহদ্বার — অরুন্ধতী রায়

এই অতিমারী একটি সিংহদ্বার — অরুন্ধতী রায়

অরুন্ধতী রায়

মূল লেখা: অরুন্ধতী রায়
অনুবাদ: ইভান অরক্ষিত

ইভান অরক্ষিত
ইভান অরক্ষিত

“ভাইরাল হয়ে গেছে” এই শব্দবন্ধটি এখন উচ্চারণ করার সাথে সাথেই একটু হলেও আতংকিত হয়ে উঠি না আমাদের মধ্য এমন কে আছেন? যে কোন জিনিসের দিকে তাকালেই – সেটা একটা দরজার হাতল, কার্ডবোর্ড কার্টন, একব্যাগ সব্জি যাই হোক – এগুলিতে কিলবিল করছে এমন অসংখ্য বস্তু যারা মৃতও নয় আর জীবিতও নয় এরকম গোলকাকার চোষক অঙ্গযুক্ত অদৃশ্য বস্তু যারা আমাদের ফুসফুসে তাদের চোষক অঙ্গগুলি আটকে দিয়ে আক্রমণ করার জন্য বসে আছে, এই ভাবনাটা মনে আসে না আমাদের মধ্যে এখনও এমন ব্যক্তি কে আছেন?

কোনরকম ভীত সন্ত্রস্ত না হয়েই একজন অপরিচিতকে চুমু খাওয়া, লাফ দিয়ে একটা বাসে উঠে পড়া এবং বাচ্চাদেরকে স্কুলে পাঠাতে পারেন এমন কে আছেন ? কে আছেন যিনি একটা মামুলি আনন্দও করতে পারছেন এই আনন্দের ঝুঁকির দায় মাথায় তুলে না নিয়ে ?

আবার যখন ভাইরাস ক্রমেই জীবন্ত হচ্ছে, সেই সময়েও এমন কে আছেন যারা শহরের পরিবেশে পাখির কলতানে, পথচারী পারাপারে ময়ুরের নৃত্য দেখে এবং শান্ত স্নিগ্ধ আকাশ দেখে মুগ্ধ হবেন না ?

এই সপ্তাহে ( এপ্রিল ২০২০ এর ১ম সপ্তাহে ) করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে ১০ লক্ষে পৌছে গেছে । ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে মারা গেছেন । অনেক অনুমান বলছে এই সংখ্যা কয়েক লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে, বা হয়তো তারও বেশি । আন্তর্জাতিক পুঁজি সঞ্চালনের বাণিজ্যের পথ ধরে এই ভাইরাসটি স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে, এবং যে ভয়াবহ অসুস্থতা এই ভাইরাস তার আবির্ভাবের সাথে নিয়ে এসেছে এর ফলস্বরুপ মানুষকে তাদের নিজেদের দেশে, নিজের শহরে এবং নিজের ঘরেই এটি বন্দী করে ফেলেছে।

কিন্তু পুঁজির সঞ্চালনের মতো ভাইরাসটি মুনাফা খুজে না, সে জীবন খুজে বেড়ায়, তাই কিছু দিক বিচার করলে, ভাইরাসটি এই পুঁজি সঞ্চালনের গতিপ্রবাহের দিকটিকে উল্টে দিয়েছে – বিপরীত একটি প্রবাহের সৃষ্টি করেছে। অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ , বায়োমেট্রিক্স, ডিজিটাল সার্ভাইব্যালেন্স এবং সব রকমের তথ্য উপাত্ত আর বিশ্লেষণকে তীব্র আঘাত করে এটি সেই সবকিছুকেই নিদারুণ উপহাস করেছে – এই পর্যন্ত এর ফলে – সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রগুলিতে, সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগুলিতে পুঁজিবাদের ইঞ্জিনটিকে একটি তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে থামিয়ে দিয়েছে । হয়তো সাময়িকভাবে, কিন্তু অন্তত ততটুকু সময়ের জন্য যতটুকু সময় আমাদের জন্য যথেষ্ঠ এই ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশগুলিকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য, যেন আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি এই ইঞ্জিনটিকে আমরা মেরামত করব, নাকি এরচেয়ে ভাল কোন ইঞ্জিন আমরা খুঁজব ।

যারা এই অতিমারীর মোকাবেলা করছেন সেই মান্দারিন জাতি (মান্দারিন ভাষাভাষী, অর্থাৎ চীনারা) যুদ্ধের সাথে এর তূলনা করতে বড় ভালবাসেন। এমনকি তারা প্রতিকী অর্থেও “যুদ্ধ” শব্দটা ব্যবহার করছেন না, একেবারে আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধের কথা বলছেন। কিন্তু যদি এটা আসলেই একটা যুদ্ধ হতো, তাহলে আমেরিকার চেয়ে এর জন্য বেশি ভাল প্রস্তুতি আর কারা নিতে পারত? যদি এই যুদ্ধের সামনের সারির যোদ্ধাদের মাস্ক, গ্লভস এসব দরকার না হয়ে বন্দুক, আধুনিক বোমা, বাংকার বিধ্বংশী বোমা, সাবমেরিন, ফাইটার জেট আর পারমানবিক বোমা এসব দরকার হতো তাহলে আমেরিকানদের কি এসবের কোন অভাব ছিল?

রাতের পর রাত পৃথিবীর অর্ধেক দূরত্বের সমান দূরত্বে অপরপ্রান্ত থেকে আমরা নিউইয়র্কের গভর্ণরের সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যগুলি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছি যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা পরিসংখ্যান দেখেছি, লোকে গিজগিজ করা আমেরিকান হাসপাতাল, সহ্যসীমার বাইরে কাজ করা নিম্ন বেতনের নার্সদেরকে দেখেছি ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ব্যবহারের থলে দিয়ে আর পুরানো রেইনকোট দিয়ে মাস্ক বানাতে, কঠিন বিপর্যয়ের সময়ে তাদের জীবন উৎসর্গ করে সেবা দিতে দেখেছি। ভেন্টিলেটরের জন্য এক প্রদেশের সাথে অন্য প্রদেশের নিলাম ডাকতে বাধ্য হওয়া দেখেছি, কোন রোগীকে বাঁচাবেন আর কাকে মরতে দেবেন সেই ধর্মসঙ্কটে পড়ে যাওয়া ডাক্তারদের করুণ পরিস্থিতি দেখেছি । আর নিজেরাই মনে মনে বলেছি , “হায় ঈশ্বর! আমেরিকারই এই অবস্থা! ”

এই ট্রাজেডি চলমান, বাস্তব, ঐতিহাসিক এবং আমাদের চোখের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে উন্মোচিত । কিন্তু এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। এটা একটা রেলগাড়ির সেই লাইনচ্যুত ভাঙা টালমাটাল বগির মতো যা বহুবছর ধরে এভাবে চলছে । হসপিটালের গাউন পড়া অসুস্থ লোক, কখনও সম্পূর্ণ নগ্ন রোগীকে কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে রাস্তার পাশে আবর্জনার মতো ফেলে দেয়া সেইসব প্যাশেন্ট ডাম্পিং এর ভিডিওগুলির কথা মনে নেই এমন কে আছেন?[১]

তূলনামূলভাবে কম ভাগ্যবান আমেরিকার নাগরিকদের জন্য হাসপাতালের দরোজাও প্রায়ই আমরা বন্ধ হয়ে যেতে দেখেছি। তারা কতখানি অসুস্থ আর কতোটা কষ্ট পেয়েছেন তাতে কোন ইতরবিশেষ হয়নি।

অন্তত বর্তমান সময়ের আগে – কারণ এখন করোনা ভাইরাসের দূর্যোগকালীন সময় – কখনই এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে একজন গরীবের অসুস্থতা একটি ধনিক শ্রেণির সমাজকেও আক্রান্ত করবে। এবং যদিও, এই সময়ে এসেও, হোয়াইট হাউজের প্রতিনিধিত্বের জন্য বার্নি স্যান্ডার্সের মতো লোক অন্যত্র ত বটেই খোদ তার নিজের দলেই প্রচলিত ধারার বাইরের লোক বলেই বিবেচিত হন, কারণ তিনি সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবার আওয়াজ তোলা লোক।

তাহলে আমার দেশ, ধনী-গরীব বৈষম্যের দেশ, ইন্ডিয়া, যে দেশটি বর্ণবাদ আর পুঁজিবাদ, সামন্তবাদ আর ধর্মীয় মৌলবাদের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে আছে, যে দেশটি শাসিত হচ্ছে উগ্র ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের দ্বারা, তার কি পরিস্থিতি হতে পারে ?

ডিসেম্বর মাসে যখন চীনের উহান প্রদেশ ভাইরাসটির প্রাদূর্ভাব এর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছিল, ভারতের সরকার তখন একটি গণবিক্ষোভকে সামাল দিচ্ছিল যে বিক্ষোভটি দানা বেধে উঠেছিল মাত্র কদিন আগেই ভারতের পার্লামেন্ট কতৃক উলঙ্গভাবে মুসলিম-বিদ্বেষমূলক বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইন পাশ করার ফলাফল হিসাবে।

আরো পড়ুন:  পুঁজিবাদ কি? এটি মানবেতিহাসে পণ্য সম্পর্কের সামাজিক-অর্থনৈতিক গঠনরূপ

কোভিড-১৯ এর প্রথম সংক্রমণের ঘটনাটি ভারতে ধরা পড়ে ৩০ জানুয়ারিতে , আমাদের রাষ্ট্রীয় প্যারেডের সম্মানিত অতিথি কোভিড অস্বীকারকারী এমাজন-বনখেকো জেয়ার বলোসোরানো এর দিল্লি ছেড়ে যাওয়ার একদিন পরেই। কিন্ত শাসক দলটির কর্মতালিকায় ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ভাইরাসের বসতি স্থাপনের সুবিধার্থে অনেক কাজ পড়েছিল। এই মাসের শেষ সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অফিসিয়াল ভিজিট ছিল ভারতে । গুজরাট প্রদেশে ১০ লক্ষ মানুষকে ট্রাম্প বিস্তর লোভ দেখানো অঙ্গীকার করেছিলেন । এই সবকিছু আয়োজনের জন্য পয়সা খরচ হয়েছিল, এবং অনেক সময় ব্যয় হয়েছিল।

এরপর আসল দিল্লির এসেম্বলি ইলেকশন যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির গো হারা হারার কথা যদি তারা তাদের নোংরা খেলাটা না শুরু করতে পারে, যেটা তারা খেলেছিল, কোনোরকম অভিযোগের প্রতি কর্ণপাত না করে নির্বিকারভাবে তারা একটি হিংস্র হিন্দু-জাতীয়তাবাদী প্রচার শুরু করেছিল, যে প্রচারণাটা পরিপূর্ণ ছিল তথাকথিত “বিশ্বাসঘাতক”’দেরকে শারিরীকভাবে আক্রমণ করার হুমকিতে।

যাই হোক , তারপরেও তারা ইলেকশনে হেরে গেল।[২]

ফলে তখন দিল্লির মুসলমানদের জন্য শাস্তি ধার্য হলো, বিজেপির মতে যারা এই অপমানের জন্য দায়ী ছিলেন। পুলিশ কতৃক সহযোগিতা প্রাপ্ত হিন্দু উগ্রবাদীদের সশস্ত্র অংশ, দিল্লির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে শ্রমজীবি প্রতিবেশীদের উপর হামলে পড়ল। ঘরবাড়ি, মসজিদ, দোকানপাট পুড়িয়ে দিল। যে মুসলমানেরা এরকমই একটা আক্রমণ হবে বুঝতে পেরেছিলেন তারা লড়াই করলেন। মুসলিম আর হিন্দু মিলে ৫০ জনের বেশি মানুষ খুন হয়ে গেলেন।

হাজার হাজার মানুষকে কবরস্থানের পাশের রিফিউজি ক্যাম্পে সরিয়ে নেয়া হলো। যখন মূমূর্ষু শরীরগুলি দূর্গন্ধযুক্ত, আবর্জনার ড্রেনগুলি থেকে টেনে বের করা হচ্ছিল সেই সময়েই ভারতের অফিসিয়ালরা কোভিড-১৯ এর ব্যাপারে তাদের প্রথম বৈঠক করেন আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার নামেও যে এক বস্তু আছে এটা ভারতের বেশিভাগ লোকে প্রথমবারের মতো শুনলেন।

মার্চ মাসটাও ব্যস্ততার মাস ছিল। প্রথম দুটা সপ্তাহ চলে যায় ভারতের কেন্দ্রস্থল মধ্য প্রদেশে কংগ্রেস সরকারকে টালমাটাল করে সেখানে বিজেপি সরকারকে বসিয়ে দেয়ার কাজে । মার্চ মাসের ১১ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কোভিড-১৯ কে অতিমারি হিসাবে ঘোষণা করে । দুই দিন পর , ১৩ মার্চ তারিখে , স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বললেন “ করোনা কোন জরুরি স্বাস্থ্যসমস্যা নয়”।

অবশেষে ১৯ মার্চে ভারতের প্রধাণমন্ত্রী জাতির সামনে ভাষণ দেন। তিনি বাড়ির কাজ ভালকরে করেননি। তাই ধার করে বসলেন ফ্রান্স আর ইটালির নাটকগুলি । তিনি আমাদেরকে “সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং” এর কথা বললেন ( যে সমাজে বর্ণবাদ বহুলভাবে চর্চিত সেই ভাষ্য অনুযায়ী ) এবং ২২ মার্চ তারিখে একদিনের “গণ কারফিউ” জারি করে দিলেন। তার সরকার এই দূর্যোগে কি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এর ব্যাপারে তিনি একটা শব্দও উচ্চারণ করলেন না, কিন্তু তিনি জনগণকে তাদের বাড়ির বারান্দার আসতে বললেন এবং ঘন্টা আর হাড়িপাতিল বাজিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে সম্মান জানাতে বললেন।

তিনি এই কথাটা উল্লেখ করেননি যে, সেই সময় পর্যন্তও ভারত নিরাপত্তা সামগ্রী এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট ভারতের স্বাস্থ্ব্যকর্মী আর হাসপাতালগুলির জন্য মজুদ না রেখে রপ্তানি করে যাচ্ছিল।

অবাক হবার কিছুই নেই যে নরেন্দ্র মোদীর অনুরোধ বিরাট উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জনগন রক্ষা করেছিলেন। হাড়িপাতিল বাজিয়ে মিছিল, কমিউনিটি নৃত্য আর শোভাযাত্রা হয়েছিল। কোনো রকমের সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ছাড়াই। এর পরদিন লোকজন গোবরভর্তি চৌবাচ্চায় ঝাপিয়ে পড়লেন, বিজেপি নেতৃত্ব গোমূত্রে পানের পার্টি দিলেন । পাছে পেছনে না পড়ে থাকেন, সেজন্য অনেক মুসলিম সংগঠন ঘোষণা করলেন সর্বশক্তিমানই ভাইরাসের একমাত্র জবাব এবং বিপুল সংখ্যায় সকলকে মসজিদে জমায়েত হবার জন্য তারা মুসলিম জনসাধারণকে আহ্বান জানান।

২৪ মার্চে, রাত ৮ টায়, মোদি টেলিভিশন সম্প্রচারে এই ঘোষণা দিতে আসেন যে, সেই মধ্যরাত থেকে সারা ভারতে লকডাউন শুরু হবে। বাজার বন্ধ থাকবে। সকল প্রকার গণপরিবহন এবং ব্যক্তিগত পরিবহন চলাচল নিষিদ্ধ।

তিনি বলেছিলেন এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নয় বরং পরিবারের বায়োজ্যেষ্ঠ হিসাবেই তিনি নিয়েছেন। তাহলে যে রাজ্য সরকারগুলিকে এই আরোপিত সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত করতে হবে তাদের সাথে আলোচনা না করে, ১৩৮ কোটি জনগনের একটি রাষ্ট্র কোনরকম প্রস্তুতি ছাড়াই চার ঘন্টার নোটিশে লকডাউনে চলে যাবার সিদ্ধান্তটির ব্যাপারে কোন বায়োজ্যষ্ঠ বিচার করবেন? তার এই কর্মপদ্ধতিটি এটাই বুঝিয়ে দেয় যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এর নাগরিকদেরকে একটি শত্রুশিবির মনে করেন যাদেরকে অতর্কিতে হামলা করতে হয়, কিন্তু কখনই বিশ্বাস করতে হয় না।

আমরা লকডাউনে চলে গেলাম। অনেক পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মী এই সিদ্ধান্তকে কাজটিকে জানালেন। সম্ভবত তারা তত্বের দিক থেকে সঠিক ছিলেন। কিন্তু নিশ্চিৎভাবেই বলা যায় যে তাদের কেউই এই ভয়াবহরকম পরিকল্পনাহীন প্রস্তুতিহীন বৃহত্তম লকডাউনকে সমর্থন করতে পারেন না যা যে কারনে দেয়া হয়েছিল ঠিক তার বিপরীত ঘটনায় সেটাকে রুপান্তর করেছে।

এক নিষ্ঠুর পৃথিবীকে আমরা প্রত্যক্ষ করলাম, ভারতের সকল লজ্জাজনক বাস্তবতা একেবারে উন্মোচিত হয়ে গেল – তার নিষ্ঠুরতা, অবকাঠামোগত, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অসাম্য, উন্মোচিত হয়ে গেল মানুষের দূর্ভোগে তার বিকারহীন নিষ্পৃহতা।

লকডাউন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার মতো কাজ করল যা হঠাৎ করেই লুকানো জিনিসের উপর আলো ফেলে তাকে দৃশ্যমান করে তুলল। যখন দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, ফ্যাক্টরি এবং নির্মানশিল্পগুলি বন্ধ হয়ে গেল , যখন সম্পদশালীরা আর মধ্যবিত্তরা নিজেদেরকে গেইটলক কলোনীতে আটকে দিলেন, আমাদের মফস্বল আর বড় বড় শহরগুলি তাদের শ্রমজীবি-শ্রেণির নাগরিকদেরকে – তাদের পরিযায়ী শ্রমিকদেরকে – সবলে বহিষ্কার করে দিতে শুরু করলেন – ঠিক অনাকাংখিত জনসমষ্ঠির মতো করে।

আরো পড়ুন:  হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশে বিরাজিত লুটপাটের অর্থনীতির লাঠিয়াল

চাকরিদাতা এবং জমিদারদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে অসংখ্য হতদরিদ্র মানুষ, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, যুবক ও বৃদ্ধ, পুরুষ, নারী, শিশু, অসুস্থ, অন্ধ, বিকলাঙ্গ, কোথাও যাওয়ার স্থান না পেয়ে, কোন পরিবহন দৃষ্টিসীমায় না দেখতে পেয়ে, তাদের গ্রামের বাড়ির দিকে পায়ে হেঁটে একটা লং মার্চ শুরু করলেন । তারা দিনের পর দিন হাঁটতে থাকলেন, কেউ বদায়ু , কেউ আগ্রা, আজমগড়, আলীগড়, লখনোউ, গোরখপুর – এমন বহু গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হাটতে থাকলেন যেগুলি শত শত কিলোমিটার দূরে। অনেকে রাস্তায় মারা গেলেন।

তারা জানতেন তারা এই ক্ষুধাকে কিছুটা লাঘব করতে বাড়ি যাচ্ছেন। হয়তো তারা এটাও জানতেন তারা ভাইরাস বয়ে নিয়ে যেতে পারেন তাদের সাথে, যাতে তাদের পরিবারগুলি আক্রান্ত হবে, তাদের মাতাপিতা ও নাতি নাতনিকে আক্রান্ত করবে, কিন্তু তারা মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন আন্তরিক পরিবেশের জন্য, আশ্রয় ও মর্যাদার জন্য, এবং যদি ভালবাসা নাও পান তাহলেও অন্তত খাবারের জন্য।

পায়ে হেঁটেই তারা তারা এগিয়ে যাচ্ছিলেন, আর কঠোরভাবে কারফিউ বাস্তবায়ন করার আদেশপ্রাপ্ত পুলিশের হাতে অত্যন্ত নির্মমভাবে মার খাচ্ছিলেন , অপমানিত হচ্ছিলেন । যুবকদেরকে হাটুগেড়ে বসানো হয়েছিল আর মহাসড়ক থেকে ব্যাঙের মতো লাফ দিতে দিতে নেমে যাবার শাস্তি দিয়েছিল পুলিশ। বেরিলি শহরের অদূরেই একদলকে জড়ো করে ক্যামিক্যাল স্প্রে করা হচ্ছিল তাদের উপর।

এর কিছুদিন পরেই, বহিরাগতরা গ্রামে ভাইরাস ছড়াতে পারে এই আশংকায় , সরকার পদযাত্রাকারীদের জন্যও গ্রামের সীমান্ত সিল করে দিল। বহুদিন ধরে যারা হেটে এসেছিলেন তাদেরকে বাধ্য করা হল ফিরে শহরের ক্যাম্পগুলিতে ফিরে যাবার জন্য যেখানে তাদেরকে থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল।

বাকি যারা এইসব দৃশ্য দেখছিলেন তাদের স্মৃতিতে ভেসে উঠল ১৯৪৭ সালের দেশভাগ , যখন ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল সেই সময়টার কথা। পার্থক্য কেবল এটুকুই যে বর্তমানের এই দেশান্তরের ঘটনার উৎপত্তিস্থল ধর্মের বৈষম্য নয় শ্রেণির বৈষম্য । এমনকি এখনও, এই মানুষেরাই ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষ ছিলেন না । এরা সেই মানুষেরা ছিলেন যাদের (অন্তত সেই সময় পর্যন্ত) শহরে এবং যেখানে ফিরে যাচ্ছিলেন সেখানে নিজেদের বাড়িতে কাজ ছিল। কর্মহীন, গৃহহীন, আর আশাহীন মানুষেরা সেখানেই থেকে যান যেখানে তারা ছিলেন, শহরে আর গ্রামগুলিতে, যেখানে এই বিয়োগান্তক ঘটনার আগেই গভীর হতাশাজনক পরিস্থিতিতে তারা দিন যাপন করে যাচ্ছিলেন। এই পুরো ঘটনার সময়কালে হোম-এফেয়ার্স-মিনিস্টার অমিৎ শাহ ছিলেন জনগনের দৃষ্টিসীমার বাইরে।

যখন দিল্লিতে পদযাত্রা শুরু হল, আমি সেসময় প্রায় সময় যে ম্যাগাজিনটির জন্য লেখালেখি করি তার প্রেস-পাস (সাংবাদিকের কোথাও যাবার অনুমতি যা সাধারণের থাকে না) নিয়ে দিল্লি আর উত্তর প্রদেশের সীমান্তবর্তী প্রায়শই গাজীপুরে যানবাহনে আসা যাওয়া করতাম।

সে এক ঐতিহাসিক দৃশ্য । অথবা তাও নয়। ইতিহাসও হয়তো এই দৃশ্য আগে দেখেনি । শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আরোপিত লকডাউনের ফলাফল হয়েছিল ঠিক বিপরীত – অকল্পনীয় মাত্রায় ঘনসন্নিবিষ্ট শারিরীক নৈকট্য। এটা এমনকি ভারতের মফস্বল আর শহরগুলির ব্যাপারেও সত্য। প্রধাণ সড়ক খালি থাকতে পারে, কিন্তু গরীবমানুষেরা ছিল ঘিঞ্জি বস্তিতে আর ঝুপড়িগুলিতে গাদাগাদি করে আটকে থাকা অবস্থায়।

পদযাত্রাকারী মানুষদের মধ্যে যার সাথেই আমি কথা বলেছি সকলেই ভাইরাসের ব্যাপারে দূর্ভাবনায় ছিলেন। কিন্তু ভাইরাসের বাস্তবতাটি তাদের জীবনের বেরোজগারি, অনাহার , পুলিশি নির্যাতনের কঠোর দৃশ্যমান বাস্তবতার তুলনায় আপাতভাবে কম দৃশ্যমান ছিল। সেই দিন পর্যন্ত যতজনের সাথে আমি কথা বলেছি তাদের সবাই, যাদের মদ্যে মুসলিম দর্জিদের একটা অংশও ছিলেন যারা কিছুদিন আগে মুসলিম-বিরোধী আক্রমণগুলির শিকার হয়েছিলেন, তাদের একজন লোকের কথা আমাকে খুব বিব্রত করে তোলে । তার নাম রামজীত, পেশায় একজন ছুতোর, যিনি নেপাল বোর্ডারের পাশে গোরখপূরের উদ্দেশ্যে যাত্রার পরিকল্পনা করেছিলেন ।

তিনি বলেন , “হয়তো মোদিজি যখন এটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন কেউ তাকে আমাদের কথাটা বলেনি। হয়তো তিনি আমাদের ব্যাপারে জানেন না ।”

রামজিতের এই “আমাদের” মোট সংখ্যা হল প্রায় ৪৬ কোটি ।

ভারতের রাজ্য সরকারগুলি (আমেরিকার মতোই) অধিক হৃদয়বৃত্তির পরিচয় দিয়েছে এবং এই দূর্যোগ-মূহুর্তকে বুঝতে পারার মতো অধিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলি, করোনাকালীন দূর্যোগে সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নন এমন নাগরিকরা জরুরি রেশন এবং খাদ্য বিতরণ করছেন। ফান্ড এর জন্য কাতর আবেদনেও সাড়া দিতে কেন্দ্র সরকার খুবই মন্থরগতি দেখিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে প্রধাণমন্ত্রীর জাতীয় রিলিফ ফান্ডে কোন রেডি ক্যাশই নেই। তার পরিবর্তে এক রহস্যজনক পিএম-কেয়ারস ফান্ডে শুভাকাংখীরা টাকা দিচ্ছেন। মোদির চেহারা ছাপা প্যাকেটজাত খাবার দেখা গেল এর মাঝে ।

এর সাথে যুক্ত হলো আরেকটা বিষয়, মোদী এবার যোগনিদ্রার ভিডিও শেয়ার করতে শুরু করলেন, যেখানে মোদির শরীরের একটি রুপকল্প এনিমেশনের সাহায্যে যোগাসনগুলি দেখানো হচ্ছে যা দিয়ে তিনি মানুষকে আত্ম-বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সহ্য করার শিক্ষা দিচ্ছেন।

এই আত্মরতি এক মারাত্মক সমস্যা। তবে খুব সম্ভবত এরকম একটা আসন করা যেতে পারে যার নাম দেয়া যায় অনুরোধাসন, যে আসন করে মোদি ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে পারেন বহু সমস্যায় জর্জরিত রাফায়েল ফাইটার জেট চুক্তিটি বাতিল করে দিতে আর এর মূল্যমানের ৭.৮ বিলিয়ন ডলার আমাদের এখন খুব বেশি দরকার কয়েক মিলিয়ন ক্ষুধার্ত জনগনের জরুরি সমস্যার মোকাবেলা করার জন্য । এটা অবশ্যই কাজ করবে আর ফ্রান্সের প্রধাণমন্ত্রী বিষয়টা বুঝতে পারবেন।

আরো পড়ুন:  গদর পার্টি ছিলো প্রধানত পাঞ্জাবিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় বিপ্লবী সংগঠন

লকডাউন দ্বিতীয় সপ্তাহে আসতে আসতেই সাপ্লাই চেইন ভেঙে গেল, ঔষধ আর জরুরি সাপ্লাই কমে আসতে থাকল। হাজার হাজার ট্রাক চালক সামান্য খাবার আর জল সম্বল নিয়ে মহাসড়কেই আটকে থাকলেন। পরিপক্ক ফসল তোলার অভাবে ফসল মাঠেই পঁচে যেতে থাকল।

অর্থনৈতিক সঙ্কট ত ছিলই। রাজনৈতিক সঙ্কটও চলমান। মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলি দিনের ২৪ ঘন্টা আর সপ্তাহে ৭ দিনই কোভিড এর স্টোরিতে মুসলিম বিদ্বেষের বিষ ছড়াতে লাগল। তাবলিগ জামাত নামের এক সংগঠন, যারা লকডাউন ঘোষণার আগেই দিল্লিতে সমাবেশ করেছিলেন, তারাই এখন “প্রধাণ সংক্রমণকারী” হয়ে উঠলেন । সব মিলিয়ে এই কথাই তারা বলতে চাইল যে মুসলমানেরা এই ভাইরাস নিয়ে এসেছে এবং এটা হল তাদের জিহাদেরই একটা রুপ।

কোভিড সমস্যা শান্ত হচ্ছে। বা হয়তো আরও দেরি। আমরা জানি না কদিন লাগবে। যদি হয়, এবং যখন হবে আমরা নিশ্চিৎভাবেই বলতে পারি এই সমাধান আসতে হবে সব রকম প্রধাণ ধর্মীয় সংস্কার, বর্ণবাদ এবং শ্রেণির মুখোমুখি হয়ে।

আজ (২ এপ্রিল) ভারতে প্রায় ২০০০ নিশ্চিৎ আক্রান্ত আর ৫৮ টা মৃত্যু ঘটেছে। এগি পরিসংখ্যানগুলি অবশ্যই ভরসার অযোগ্য, কেননা এগুলি অত্যন্ত দূখঃজনকভাবে সামান্য কিছু পরীক্ষণের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে করা। এক্সপার্টদের মতামতের সাথে এর পার্থক্য বিশাল। কেউ কেউ ১০ লাখের উপরেও বলছেন আক্রান্তের সংখ্যা। কেউ মনে করছেন এর জরিমানা আমাদেরকে অনেক কমই দিতে হবে । আমরা হয়তো এই দূর্যোগের আসল পরিস্থিতি কখনই জানতে পারব না , এমনকি যখন এটি আমাদেরকেও আক্রান্ত করে ফেলবে তখনও । আমরা সর্বসাকূল্যে যা জানি সেটা হল এখনও হাসপাতালের দিকে আমাদের দলে দলে দৌড় লাগানো শুরু হয়নি ।

ভারতের সরকারি হাসপাতাল আর ক্লিনিকগুলি – যেগুলি প্রতিবছর ডায়রিয়া, অপুষ্টি আর অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যার কারণে প্রায় ১০ লক্ষের মতো শিশুমৃত্যকে ঠেকাতে অক্ষম, যারা হাজার হাজার টিউবারকুলসিস এর রোগী (সারা পৃথিবীর ৪ ভাগের ১ ভাগ), রক্তাল্পতা আর অপুষ্টির কারণে যেকোন সামান্য অসুস্থতাই যে দেশের মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠা মানুষগুলিকে বাচাতে পারে না – সেই হাসপাতাল আর ক্লিনিকগুলির ইউরোপ আর আমেরিকা এই মুহুর্তে যেসব সমস্যা মোকাবেলা করেছে সেই মাত্রার সমস্যা মোকাবেলা করার ক্ষমতা নেই ।

ভাইরাস সমস্যার মোকাবেলা করার জন্য সবগুলি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানই কম বেশি অন্য কার্যক্রম স্থগিত করে রেখেছে । দিল্লির প্রসিদ্ধ অল ইন্ডিডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স এর ট্রোমা সেন্টারটি বন্ধ করে দিয়েছে , ক্যান্সার রিফিউজি বলে পরিচিত শত শত রোগী যারা এই হাসপাতালের আশেপাশে রাস্তায় থাকতেন তাদেরকে গবাদি পশুর মতো তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ।

মানুষ অসুস্থ হবেন আর যার-যার ঘরেই মরে পড়ে থাকবেন। আমরা কখনই তাদের ব্যাপারে জানতে পারব । তারা হয়তো পরিসংখ্যানেও আসবেন না। যে গবেষণাতে বলা হয়েছে যে ভাইরাসটি শীতল আবহাওয়াতে টিকে থাকে সেটা যেন সত্যি হয়ে আমরা কেবল এই আশাই করতে পারি ( যদিও অন্য গবেষকরা এই বক্ত্যব্যের প্রতি সন্দিহান)। ভারতের গ্রীষ্মের দাবদাহের জন্য ভারতের মানুষ এর আগে কখনই এত গভীরভেবে এত অযৌক্তিকভাবে অপেক্ষা করেননি ।

আমাদের কি হয়েছে ? এটা একটা ভাইরাসই তো, হ্যা একটা ভাইরাস। এর কোন নিজস্ব নীতি নৈতিকতা নেই। কিন্তু এটা সুনিশ্চিৎভাবেই একটা ভাইরাসের চেয়ে বেশিকিছু । কেউ বিশ্বাস করেন আমাদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এ হল ঈশ্বরেরই একটি প্রশিক্ষণ পদ্ধতি । অন্যরা মনে করছেন পৃথিবীকে দখলে নেয়ার জন্য এটা চীনাদের একটা ষড়যন্ত্র।

এটা যাই হোক, করোনা ভাইরাস শক্তিধরকেও হাঁটুর উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এবং পৃথিবীকে এমনভাবে থমকে দিয়েছে যা আর কিছুই করতে পারেনি। আমাদের মন উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে আবার “স্বাভাবিক অবস্থায়” ফিরে যাবার জন্য , এবং এই ভেঙে পড়া অবস্থাকে অস্বীকার করতে চাইছে। কিন্তু পরিস্থিতি বাস্তবেই অস্তিত্বশীল। এবং এই হতাশার তার মধ্যগগনে আরোহন করে আমাদের কাছে একটি প্রস্তাব তুলে ধরেছে , আমরা আমাদের জন্য শেষ বিচারের দিন বলে যে যন্ত্রটা তৈরী করেছিলাম তার ব্যাপারে আমাদেরকে আবার ভাবনা চিন্তা করতে বলছে। এই তথাকথিত “স্বাভাবিক অবস্থায়” ফিরে যাবার চেয়ে জঘন্য আর কিছুই হতে পারে না ।

ঐতিহাসিকভাবে, অতিমারীগুলি মানব সভ্যতাকে অতীতের সাথে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে একটি নতুন পৃথিবীর কল্পনা করতে বাধ্য করেছে। এই অতিমারীও কোন ব্যাতিক্রম নয় । এটি হল এক সিংহদ্বার, একটি পৃথিবী থেকে পরবর্তী পৃথিবীতে যাওয়ার প্রবেশদ্বার।

আমরা আমাদের সংস্কার ও ঘৃণা, আমাদের লোভ, আমাদের মৃতবুদ্ধির তথ্যসম্ভার, আমাদের মরানদী আর ধোয়ায় অন্ধকার আকাশ সমস্তকিছুর গলিত মৃতদেহকে টেনে নিয়ে এই প্রবেশদ্বারের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে পারি , নাহলে আমরা আমাদের বোঝা কমিয়ে হালকা করতে পারি , সমস্ত কিছু পেছনে ফেলে একটি নতুন পৃথিবীর চিন্তা করতে পারি এবং এর জন্য লড়াই কতে পারি।[৩]

১. অনুবাদকের টিকা: এখানে এরকম একটা রিপোর্টের লিংক দেয়া হল, আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন যদি ঘটনাটি জানা না থাকে, তবে এটা খুব সাড়া জাগানো ছিল, এমনকি এইসব এদেশে আর ভারতেও হয়েছে, তারও কয়টা নিউজ লিংক দেয়া হল প্রবন্ধটির শেষে: প্যাশেন্ট ডাম্পিং রিপোর্ট : https://www.youtube.com/watch?v=v7d8msvghUY
২. অনুবাদকের টিকা: ৭০ টা সিটের ৩ টা মাত্র বিজেপি জিতেছিল আর ৬৭ টা পেয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি
৩. অরুন্ধতী রায়, ফিনাসিয়াল টাইমস, ৩ এপ্রিল ২০২০, ‘The pandemic is a portal’ মূল লেখাটির লিংক: https://www.ft.com/content/10d8f5e8-74eb-11ea-95fe-fcd274e920ca

অতিথি লেখক
রোদ্দুরে ডট কমে অতিথি লেখক হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কলাম, অনুবাদ, নিবন্ধ ও প্রবন্ধ লেখায় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন পূরবী সম্মানিত, ইভান অরক্ষিত, রনো সরকার এবং রণজিৎ মল্লিক। এছাড়াও আরো অনেকের লেখা এখানে প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page