কালাম বা ইলম আল কালামকে (ইংরেজি: Ilm al-Kalām) অনেক সময় “ইসলামি জ্ঞানগত ধর্মশাস্ত্র”, যা প্রধানত ইসলামী মতবাদের অধ্যয়নকে বোঝানো হয়। ‘কালাম বা খোদার বাণী’ থেকে ‘মোতাকাল্লিমিন’ শব্দটি এসেছে, অর্থাৎ মোতাকাল্লিমিন হচ্ছে তাঁরা যারা খোদার কালাম বা বাণীকে ভিত্তি ধরে সব কিছুকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।
মুসলিম দর্শনে কালামবাদীগণ গোঁড়া এবং রক্ষণশীল বলে পরিচিত। এঁরা কোরানের বাণী এবং কোরানে আল্লাহর উপর আরোপিত মানবিক গুণাবলীকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করার পক্ষপাতী ছিলেন। কালামাবাদীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ওয়ালিস বিন আতা, জাহিজ, মুআম্মার ইবনে আব্বাস প্রমুখ প্রাক্তন কালামবাদীদের নেতৃত্বে মুক্তবুদ্ধির একটি সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এরা কালামবাদ হতে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছিলেন বলে মুতাজিলা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী বলা হতো।
কালামবাদকে কেবল অন্ধবিশ্বাস বলা চলে না। মুতাজিলাগণ নিজেদের যুক্তিবাদী বলত। কালামবাদীগণও নিজেদের যুক্তিবাদী বলত। কালামবাদীদের বক্তব্য ছিল যে, অন্ধবিশ্বাস যেমন ইসলামকে রক্ষা করতে পারে না, তেমনি মুতাজিলাদের গ্রিক দর্শনের বিধর্মী যুক্তিও ইসলামের জন্য মারাত্মক। ইসলামকে কোরানের বাণীর যুক্তিগত ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই রক্ষা করতে হবে।
তথ্যসূত্র:
১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ২৮৮-২৮৯।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।