হোক্সাপন্থা হচ্ছে সংশোধনবাদ বিরোধী মার্কসবাদ-লেনিনবাদের একটি ভিন্নধারা

হোক্সাপন্থা বা হোক্সাবাদ (ইংরেজি: Hoxhaite বা Hoxhaism) হচ্ছে সংশোধনবাদ বিরোধী মার্কসবাদ-লেনিনবাদের একটি ভিন্নধারা। এনভার হোক্সার নাম অনুসারে হোক্স্বাপন্থা কথাটি চালু হয়েছে। স্তালিনবাদের অধীনে সোভিয়েত ইউনিয়নের সংগঠন জোসেফ স্তালিনের উত্তরাধিকারের কঠোর প্রতিরক্ষার মাধ্যমে হোক্সাপন্থা নিজেকে সীমায়িত করে তোলে[১] এবং “সংশোধনবাদী” হিসাবে অন্যান্য সমস্ত কমিউনিস্ট দলকে সমালোচনা করেছিল। হোক্সাপন্থা ইউরোকমিউনিজমের মতো স্রোতকে সাম্যবাদবিরোধী আন্দোলন হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে।

ইউরোপ মহাদেশের একটি ছোট দেশ আলবেনিয়া। এই আলবেনিয়ার “পার্টি অব লেবার অব আলবেনিয়া” নামে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিল হোক্সা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টি আলবেনিয়ায় ক্ষমতা দখল করে এবং ১৯৪৬ সালের ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজতান্ত্রিক আলবেনিয়া হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

রুশ-চীন আন্তর্জাতিক মহাবিতর্কের সময় হোক্সার নেতৃত্বাধীন আলবেনিয়ার পার্টি এবং মাওয়ের নেতৃত্বাধীন চীনা পার্টি সম্মিলিতভাবে ক্রুভীয় সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। ফলে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে ষাট ও সত্তর দশকের প্রারম্ভে হোক্সা একটি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিল।

কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর হোক্সা শঠতাপূর্ণভাবে মাও-লাইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

মূলতঃ হোক্সার লাইন ছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লব বিরোধী লাইন। মাওয়ের জীবিতাবস্থায় মার্কসবাদ-লেনিনবাদে মাও-এর এই বিকাশকে হোক্সা বুঝতে ব্যর্থ হয়, কিন্তু সে সময়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা করেনি। কিন্তু মাওয়ের মৃত্যুর পর সে প্রকাশ্যে মাওকে বিরোধিতার সূত্র ধরে তার নিজ লাইনকে প্রকাশ করে, যা ছিল স্ট্যালিনকে তুলে ধরার নামে সমাজতান্ত্রিক সমাজে বিপ্লবী লাইনকে আনতে ব্যর্থ হওয়া। এভাবে কার্যত নিজ দেশেই হোক্সা পুঁজিবাদকে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয় এবং তার মৃত্যুর কিছু পর তারই অনুসারীদের হাত ধরে আলবেনিয়া প্রকাশ্য পুঁজিবাদে অধঃপতিত হয়।

হোক্সা মাওকে বিরোধিতা করতে গিয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদে মাও সেতুংয়ের সকল মৌলিক অবদানকেই আক্রমণ করেছিল, যেমন; নয়া গণতন্ত্রের তত্ত্ব, গণযুদ্ধের তত্ত্ব, দর্শনে মাও-এর অবদানসমূহ, চীনের সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের সংগ্রামসমূহ ইত্যাদি। সর্বোপরি সাংস্কৃতিক বিপ্লবকে। সে বুর্জোয়াদের মতই চীনের দুই লাইনের সংগ্রামগুলোকে চিহ্নিত করে মাও-এর নেতৃত্ব রক্ষার বুর্জোয়া চক্রান্ত ও বুর্জোয়া কামড়া-কামড়ি রূপে। এভাবে দুই লাইনের সংগ্রামকে বুঝতে ব্যর্থ হয়ে সে পুরোপুরি বুর্জোয়া মতাদর্শে নিমজ্জিত হয়।[২]

আরো পড়ুন:  কমরেড জোসেফ স্তালিনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও দার্শনিক উদ্ধৃতি

তথ্যসূত্র

১. Pridham, Geoffrey (2000). The Dynamics of Democratization: A Comparative Approach. Bloomsbury Publishing. p. 70.
২. রায়হান আকবর, রাজনীতির ভাষা পরিচয়, আন্দোলন প্রকাশনা, ঢাকা, জুন ২০২০, পৃষ্ঠা ২৪-২৫।

Leave a Comment

error: Content is protected !!