স্মৃতি ব্যক্তির অতীত অভিজ্ঞতাকে মনের মধ্যে ধারণ করা ও পুনরায় উপস্থিত করার ক্ষমতা

ব্যক্তির পক্ষে অতীত অভিজ্ঞতাকে মনের মধ্যে ধারণ করে রাখা এবং তাকে চেতনার মধ্যে পুনরায় উপস্থিত করার ক্ষমতাকে স্মৃতি কিংবা স্মরণ (ইংরেজি: Memory) করার ক্ষমতা বলা হয়। প্রতিমুহুর্তে ব্যক্তির ইন্দ্রিয়সমূহ বস্তুজগতের সাক্ষাৎ সম্পর্কে আসে। এই সম্পর্কের ফলে ব্যক্তির মনে ঘটনার ছাপ পড়ে। পরবর্তীকালে ব্যক্তি তার প্রয়োজন সাধনের জন্য অতীত অভিজ্ঞতাকে পুনরায় চেতনার মধ্যে নিয়ে আসতে পারে।

স্মৃতি বা স্মরণ করার ক্ষমতা মানুষের জন্মগত হলেও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এটি জটিল বিষয় এবং আধুনিক মনোবিজ্ঞানের একটি বিশেষ গবেষণার ব্যাপার। কোনো ঘটনা স্মরণ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজে কতখানি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে-কতখানি তার অনিবার্য্য, এ নিয়েও গবেষণা চলছে। স্মরণ রাখার ক্ষমতার তিনটি ভাগ আছে। প্রথম ভাগ হচ্ছে ব্যক্তির সঙ্গে স্মরণীয় বিষয়ের সাক্ষাৎ সম্পর্ক। দ্বিতীয় ভাগ হচ্ছে তার মনের অচেতন ভান্ডারে স্মরণীয় বিষয়ের অবস্থান। কারণ, যে ঘটনাকে ব্যক্তি কোনো বিশেষ মুহুর্তে স্মরণ করে, তা সর্বক্ষণ তার চেতনায় থাকে না। যে বন্ধুর নামটি আমি এই মুহুর্তে স্মরণ করলাম সে নামটি এর পূর্বমুহুর্তে আমার চেতনায় ছিল না। কিন্তু যখন আমার প্রয়োজন হলো তখন আমি তাকে আমার স্মৃতির ভান্ডার থেকে চেতনার আলোকে উদ্ধার করে আনলাম। চেতনার আলোকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হচ্ছে স্মরণের তৃতীয় ভাগ।

অতীতের সব ঘটনাকে আমরা প্রয়োজনমতো চেতনার মধ্যে আনতে পারি নে। কোনো কোনো ঘটনাকে আমরা চেতনার আলোকে আনতে পারি নে এবং কেন অপর কোনো ঘটনাকে পারি কিংবা কোন্ বয়সে আমরা অধিক সংখ্যক ঘটনাকে স্মরণ রাখতে পারি, কোন্ বয়সে খুব অল্প সংখ্যক ঘটনাকে স্মরণ করতে পারি-আমাদের স্মরণ ক্ষমতার এই তারতম্যের রহস্যোদ্ধার এবং স্মরণ করার ক্ষমতা কোনো কৌশলে বৃদ্ধি করা যায় কি না ইত্যাদির পরীক্ষা নিরীক্ষা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

স্মরণের তিনভাগকে ইংরেজীতে ‘লার্নিং’, ‘রিটেনশন’ এবং ‘রিকল’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। আমরা এ তিনভাগকে যথাক্রমে ‘শিক্ষা’, ‘ধারণ’ ও ‘স্মরণ’ বলে অভিহিত করতে পারি।

আরো পড়ুন:  জীববিদ্যা হচ্ছে জীবন বিকাশের নিয়ম ও প্রকারভেদ বিষয়ক আলোচনা ও গবেষণা

তথ্যসূত্র:
১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ২৮৫।

Leave a Comment

error: Content is protected !!