সামঞ্জস্যবাদ তত্ত্ব অনুযায়ী সত্যের জগৎ হচ্ছে একটা সামগ্রিক সত্তা

সামঞ্জস্যবাদ (ইংরেজি: Coherentism) নামটি আধুনিক জ্ঞানতত্ত্বের মধ্যে কয়েকটি দার্শনিক মতবাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। দর্শনে সত্যের মাপকাঠি নিয়ে তর্ক আছে। একটা কথা বা বক্তব্য সত্য –এরূপ দাবির অর্থ কি? কেউ যদি বলে, সে ভূত দেখেছে তা হলে তার সে কথাকে মিথ্যা বলে অভিহিত করি। কিন্তু ‘ওখানে একটি চেয়ার আছে’ এ কথাকে আমরা সত্য বলি। কিসের ভিত্তিতে একটি বাক্য বা বক্তব্যকে সত্য বলা হবে? সত্যের মাপকাঠির এই প্রশ্নে দর্শনে দুটি প্রধান তত্ত্বের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে ‘থিওরি অব করেন্সপণ্ডেন্স’। একে বাংলায় সাদৃশ্যের তত্ত্ব বলা যায়। অপরটি হচ্ছে থিওরি অব কোহারেন্স। একে সামঞ্জস্যের তত্ত্ব বলা যায়।

সাদৃশ্যের তত্ত্বের দাবি হচ্ছে যে, কোনো বক্তব্য অনুযায়ী বাস্তব জগতে যদি কোনো অস্তিত্ব থাকে তবে সে বক্তব্যকে সত্য বলা হবে। ‘ওখানে একটি চেয়ার আছে’ এই বক্তব্য অনুযায়ী চেয়ার কথার সদৃশ কোনো বস্তুর যদি অস্তিত্ব বক্তব্যের মুহুর্তে থাকে তবে ওখানে একটি চেয়ার আছে কথাটি সত্য হবে।

সামঞ্জস্যবাদ ভিন্নতরভাবে সত্য নিরূপণ করতে চায়। এই তত্ত্বের ব্যাখ্যাদাতাতের মতে একটি বক্তব্যের বরাবর বাস্তব অস্তিত্ব সত্যের মাপকাঠি হতে পারে না। বিশ্লিষ্ট বা এ্যাবষ্ট্রাক্ট বক্তব্যের বরাবর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব আমরা পাইনে। দয়া একটি মহৎ গুণ। কিন্তু দয়ার অস্তিত্ব কোথায়? দয়ালু মানুষ আছে বটে। কিন্তু মানুষ নিরপেক্ষভাবে স্বাধীন অস্তিত্ব সম্পন্ন দয়াকে আমরা দেখতে পাইনে। কাজই সাদৃশ্যের তত্ত্ব সমস্ত সত্যের ব্যাখ্যা করতে পারে না।

সামঞ্জস্যবাদ অনুযায়ী সত্যের জগৎ হচ্ছে একটা সামগ্রিক সত্তা। তার অন্তর্ভুক্ত সমস্ত সত্যই পরস্পর যৌক্তিক সম্পর্কে সম্পর্কিত। তাই আমরা যখন  কোনো কথা উচ্চারিত করি বা অভিমত পেশকরি তখন তার যথার্থতার বা সত্যের নিরূপণ হবে সত্যের সমগ্র সত্তার সঙ্গে সে সঙ্গতিময় কিংবা সঙ্গতিময় নয় তার বিচারে।

তথ্যসূত্র:

১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; ৫ম মুদ্রণ জানুয়ারি, ২০১২; পৃষ্ঠা ১১৩-১১৪।

আরো পড়ুন:  শ্রেণিবদ্ধকরণ হচ্ছে গ্রুপ, শ্রেণি ও স্তর অনুযায়ী জিনিসগুলি বাছাই এবং সংগঠিত করা

Leave a Comment

error: Content is protected !!