আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > জ্ঞানকোষ > দর্শনকোষ > সর্বনিয়ন্ত্রণবাদ হচ্ছে একদলীয় সরকার যার ভিত্তি সমগ্র জনজীবনের নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রসর্বস্বতা

সর্বনিয়ন্ত্রণবাদ হচ্ছে একদলীয় সরকার যার ভিত্তি সমগ্র জনজীবনের নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রসর্বস্বতা

সর্বনিয়ন্ত্রণবাদ (ইংরেজি: Totalitarianism) হচ্ছে স্বৈরাচারী ও একদলীয় সরকার যার ভিত্তি হলো ব্যক্তি ও সমগ্র জনজীবনের নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্রসর্বস্বতা। এর বিপরীত হলো উদারনৈতিক মনােভঙ্গি, যেখানে রাষ্ট্রের কাজকারবার থাকে সীমিত ও নির্দিষ্ট, বাকি অন্যান্য সব বিষয় থাকে ব্যক্তিমানুষের সিদ্ধান্তসাপেক্ষ। রাষ্ট্র সার্বিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ব্যক্তিগত ও জনজীবনের সর্বত্র প্রসারিত হয়। এবং তার দাবির কাছে সকলের সব সত্তাই থাকে বাঁধা। প্রত্যয়টি সাধারণত ইতালি ও জার্মানিতে যথাক্রমে মুসােলিনি ও হিটলারের ফ্যাসিবাদী ও নাৎসিপন্থী সরকারের প্রতি প্রযুক্ত হত।

বিশ শতকের কুড়ির দশকে শব্দটির চলন দেখা দেয় এবং সােভিয়েত দেশের (বিশেষ করে স্তালিন আমলের) প্রতিও প্রযুক্ত হয়। পঞ্চাশের দশকে প্রত্যয়টিকে অন্যান্য স্বৈরতন্ত্রী ধারা থেকে পৃথকীকরণের জন্য তার ছ’টি বৈশিষ্ট্য দেখানাে হয়, যথা: সার্বিক মতাদর্শ; মতাদর্শের রূপায়ণে একটিমাত্র দলের স্থিরসংকল্প; সুসংগঠিত গুপ্ত পুলিশ বাহিনী; তিনপ্রকার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ: জনসংযােগ, অস্ত্রাদির ব্যবহার ও সর্বপ্রকার সংগঠনের (উৎপাদন সমেত) উপর খবরদারি।

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৩২৩।

আরো পড়ুন:  অভিজাতবাদ বা সম্ভ্রান্তবাদ বা এলিটবাদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচিত তত্ত্ব
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page