আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > মতাদর্শ > লেনিনবাদ > ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনের মহান বিপ্লবী

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনের মহান বিপ্লবী

রাশিয়ার ভলগা নদীর তীরে, সিমবির্স্ক শহরে উলিয়ানভ পরিবারে ১৮৭০ সালের ২২ এপ্রিল রাশিয়ার বিপ্লবী মতাদর্শের প্রতিভাবান উত্তরসূরী, সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্মাতা ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন বা ভ. ই. লেনিন (ইংরেজি: Vladimir Ilyich Ulyanov Lenin) জন্মগ্রহণ করেন। ভ্লাদিমির লেনিন জীবনের প্রথম পর্বে (১৮৮৭ – ৮৮) ইউরোপীয় বিপ্লবী চিন্তাধারার সংস্পর্শে আসেন। বিশেষত কার্ল মার্কস রচিত পুঁজি গ্রন্থটি পাঠের পর নিজেকে তিনি একজন মার্কসবাদী হিসেবে আবিষ্কার করেন। লেনিন মার্কস এবং এঙ্গেলস এর উত্তরসূরি। মার্কসবাদ বা দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের তিনি ছিলেন ব্যাখ্যাতা এবং বিপ্লবী দার্শনিক। লেনিন রুশদেশে সংঘটিত ১৯১৭ সালের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অবিসংবাদী নেতা এবং সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা।

লেনিনহীন পৃথিবী বৈষম্যে ভরা, আর লেনিন পরবর্তী পৃথিবী সাম্যের সূতিকাগার। সাম্যের স্বপ্নহীন মানুষ পশুরও অধম। আর এই পশুর রাজত্ব শুরু হয়েছিলো ব্যক্তিগত সম্পদের মালিকানা উদ্ভবের পর থেকেই। মানুষের সৃষ্ট এই বৈষম্যকে দূর করার জন্য লেনিন মার্কস-এংগেলসের দেখানো পথে রাশিয়ায় বিপ্লব করেছিলেন যা ছিলো দুনিয়ার প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। তিনি মার্কসবাদের বিপ্লবী সারবস্তু যথা- শ্রেণিসংগ্রাম, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও প্রলেতারীয় একনায়কত্বের মতাবাদকে আঁকড়ে ধরে বিপ্লব সফল করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্র ও বিপ্লব গ্রন্থে লিখেছেন, শুধু সেই মার্কসবাদী যে শ্রেণিসংগ্রামের স্বীকৃতিকে প্রসারিত করে প্রলেতারীয় একনায়কত্বের স্বীকৃতিতে।

শৈশব

মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবি পরিবারের সন্তান লেনিন ছোটবেলা থেকেই সক্রিয়ভাবে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। জারকে হত্যা করার চেষ্টার অভিযোগে তাঁর অগ্রজের ফাঁসি লেনিনকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। লেনিন দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে অধিকতর অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি তাঁর ভাইয়ের বিপ্লববাদী পন্থা পরিহার করে বিপ্লবী গণসংগঠনের মাধ্যমে সামাজিক বিপ্লব সাধনের নীতি গ্রহণ করেন।[১]

১৭ বছর বয়সে লেনিন ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রথম গ্রেফতার হন। তাঁকে একটা গ্রামে অন্তরীণাবদ্ধ রাখা হয়। ১৮৯১ সালে সেন্ট পিটার্সবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইনে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর ভলগা অঞ্চলের সামারা শহরে দুবছর আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৮৯-৯৩ সালে লেনিন সেন্ট পিটার্সবুর্গে উদীয়মান মার্কসবাদী রাজনৈতিক চক্রে যোগদান করেন।

লেনিনের বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য লেনিনকে স্বৈরাচারী জার নির্যাতনে পিছপা হয়নি। ১৮৯৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সাইবেরিয়ায় তিন বছরের নির্বাসন দণ্ডাজ্ঞা জানানো হলও লেনিনকে। নির্বাসনে পাঠালো জার সরকার। ১৮৯৭ সালের মে মাসে লেনিন তাঁর নির্ধারিত নির্বাসনস্থল ইয়েনিসেই গুবের্নিয়ার মিনুসিনস্ক এলাকার শুশেনস্কয় গ্রামে পৌঁছলেন। গ্রামটা ছিল রেল লাইন থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে এক অজ সাইবেরীয় গ্রাম । এখানে থাকা লেনিনের পক্ষে সহজ ছিল না। বোনের কাছে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন – “নির্বাসনের প্রথম দিকটায় ইউরোপের মানচিত্রটা পর্যন্ত ছোঁব না ঠিক করি। মানচিত্র টা খুলে তার কালো কালো বিন্দুগুলো দেখতে ভারি কষ্ট হতো।” কিন্তু প্রত্যক্ষ বিপ্লবী কর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও তিনি তাঁর উদ্যম- প্রাণোচ্ছলতা হারাননি। ওই সময় প্রচুর পড়াশুনা করেন – কৃষকদের অবস্থা মন দিয়ে দেখতেন – গ্রামের জীবনযাত্রা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন তখন। আশেপাশের লোকেরা বিভিন্ন অসুবিধায় প্রায়ই সময় লেনিনের কাছে আসত সাহায্যের আশায়। যেমন লেনিন একবার স্বর্ণখনিওয়ালার বিরুদ্ধে এক মজুরকে মামলায় জিততে সাহায্য করেন । প্রায় ২৫ বছর পর ভ্লাদিমির সেই কথা স্মরণ করে বলেছিলেন – “যখন আমি সাইবেরিয়াতে নির্বাসিত ছিলাম, তখন আমাকে উকিল হতে হয়েছিল। অবশ্য আন্ডারগ্রাউন্ড উকিল, কেননা আমি ছিলাম প্রশাসনিক ভাবে নির্বাসিত, তাতে ওকালতি নিষিদ্ধ, কিন্তু আর কেউ না থাকায় আমার কাছেই লোকে এসে কিছু কিছু মামলা – মোকদ্দমার কথা বলত।”[২]

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড

১৮৯৫ সালে সেখানকার শ্রমিক শ্রেণীর মুক্তি আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। ১৮৯৪ সালে লেনিন ‘জনতার মিত্র কারা এবং সংস্কারবাদের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রামের পদ্ধতি কি’-এই শিরোনামে তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক তত্ত্বমূলক গ্রন্থ রচনা করেন।

বিভিন্ন আলোচনা চক্রে এবং রাজনীতিতে অংশ গ্রহণের সময় লেনিন সহজবোধ্য দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝাতেন কিভাবে মার্কবাদকে প্রয়োগ করা উচিত বিপ্লবীদের জীবনে, পুঁজিবাদ ও জার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা দরকার কি পদ্ধতিতে। এই বিপ্লবী তৎপরতার অভিযোগে লেলিন তাঁর অপর এক বিপ্লবী সহকর্মী ও পরবর্তীতেম স্ত্রী নাদেজা স্ক্রুপস্কায়ার সাথে ১৫ মাস কারাবরণ এবং ১৯০০ সাল অব্দি সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত জীবন কাটান।[৩]

আরো পড়ুন:  ম্যাকস এ্যাডলার ছিলেন অস্ট্রিয়ার রাজনীতিক, লেখক এবং দার্শনিক

পরবর্তীকালে লেনিন ইউরোপ প্রবাসে চলে যান এবং সেখানকার বিপ্লবী চক্রে যোগদান করেন এবং ‘ইস্ক্রা’ নামে পত্রিকা প্রকাশে মনোনিবেশ করেন। লেনিনের উদ্যোগ ও পরিচালনায় রাশিয়ায় গড়ে উঠে ইস্ক্রার সহযোগী গ্রুপ ও পাঠক চক্র। পত্রিকাটি সোশ্যাল ডেমোক্রাটদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। নির্বাসনের দ্বিতীয় পর্বে ১৯০২ সালে লেলিন রচনা করেন তাঁর সাংগঠনিক মতবাদ সম্বলিত গ্রন্থ ‘হোয়াট ইজ টু বি ডান’? এই গ্রন্থে লেনিন শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাদার বিপ্লবী ধারণা, বিপ্লবীদের কৌশল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সব ধারণার অনেকগুলোই লেনিন উদ্ভাবন করেন মার্কস-এঙ্গেলস্-এর চিন্তাধারাকে রাশিয়ার সমাজ জীবনে খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রয়োজনে।

লেনিনের পরিকল্পিত বিপ্লবী তৎপরতার লক্ষ্যে লেনিন সর্বহারা শ্রেণীর অগ্রণী অংশ হিসেবে পেশাদারী বিপ্লবীদের সংগঠিত করেন যারা সুশৃঙ্খলভাবে জার সরকারের পতনের মাধ্যমে শ্রমিক রাজ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হবেন। লেনিনের মতে, শ্রেণি সচেতন পেশাদার বিপ্লবীরা গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নীতিতে সংগঠিত হয়ে শ্রমিকদের মধ্যে শ্রেণি সচেতনতা, শৃঙ্খলা ও বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলবে এবং মার্কসবাদী দর্শন অনুযায়ী এক একটি নির্দিষ্ট মূহুর্তে করণীয় বিষয়াদি ব্যাখ্যা করবে। পেশাদার বিপ্লবীদের প্রতি লেনিনের অতিরিক্ত গুরুত্বারোপের বিষয়টি মনঃপুত ছিল না রুশ পেটি-বুর্জোয়া সংগঠন সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টির অনুসারীদের কাছে। লেনিন সমর্থকদের কাছে তাদের মতবিরোধ তীব্রতর হয়ে উঠলে ১৯০৩ সালে দলের দ্বিতীয় কংগ্রেসে দল দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। এ ভাবে দলীয় কংগ্রেসে লেলিনের নেতৃত্বাধীন বলশেভিক (যার বাংলা অর্থ সংখ্যগরিষ্ঠ) অল্প সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান বিরোধী অংশ মেনশেভিকরা কৃষকদের (সংখ্যালঘু) পরাজিত করে। তা সত্ত্বেও পেশাদারী বিপ্লবীদের ভূমিকা অস্বীকার করে মেনশেভিকরা কৃষকদের মনে করত বিপ্লবের চালিকা শক্তি এবং চেষ্টা করত জার সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এদেরকে অগ্রভাগে নিয়ে আসতে। দলের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের রাজনীতি লেনিনের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অনেক প্রাধান্য বিস্তার করে।

১৯০৫ সালের বিপ্লব ও পরবর্তী কর্মকাণ্ড

১৯০৫ সালে বিপ্লবের পর রাশিয়ার টালমাটাল দিনগুলোতে লেনিন রাশিয়ায় ফিরে আসেন এবং মাত্র দু’বছরের মাথায় প্রবাসে পাড়ি দিতে বাধ্য হন। নির্বাসিত জীবনে ইউরোপে কঠিন সময় অতিবাহিত করতে হয় লেনিনকে। সে সময় রাশিয়ায় বিপ্লবের ভবিষ্যৎ নিয়ে মেনশেভিকদের সাথে মতবিনিময় সত্ত্বেও লেনিনের অনেক অনুগত মেধাবী অনুসারী তাঁকে পরিত্যাগ করেন। দলের বিপ্লবী চিন্তাধারার কর্ণধার লেনিন ১৯০৯ সালে রচনা করেন। ‘মেটারিয়ালিজম এন্ড ইস্পিরিও ক্রিটিসিজম’ গ্রন্থ। এতে তিনি প্রকৃতি বিজ্ঞানের সর্বশেষ বিকাশের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কসবাদী দর্শন ও জ্ঞানতত্ত্বের স্বরূপ তুলে ধরেন। তারও তিন বছর পর প্রাগে দলীয় এক কনভেনশনে মেনশেভিক-বলশেভিক ভাঙ্গন চুড়ান্ত হয়ে পড়ে।

১৯১৪ সালে লেনিন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে বুর্জোয়াদের অভ্যন্তরীণ লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তাঁর কর্মীদেরকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই-এ অবতীর্ণ হওয়ার আহবান জানান। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে সংগঠিত বিপ্লবে জার সরকারের পতন ঘটলে লেনিন গোপনে জার্মানী হয়ে পেট্রোগার্ড (সেন্ট পিটার্সবুর্গের নতুন নামকরণ) পৌঁছান। জোসেফ স্ট্যালিনসহ স্থানীয় বলশেভিক নেতৃবৃন্দ তখন লেনিনকে জানান যে অভ্যুত্থানের সোভিয়েত শ্রমিক ও সেনা সদস্যরা বুর্জোয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন যুগিয়েছে। এটি অবহিত হয়ে লেলিন তার তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় (ইতিহাসে যা ‘এপ্রিল থিসিস’ নামে খ্যাত) দলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহবান জানান।

লেনিন এপ্রিল থিসিসে যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, বলশেভিক বিপ্লবের পর একমাত্র শ্রমিকদের সমন্বয়ে গঠিত সোভিয়েতগুলো (পরিষদসমূহ) রুশ শ্রমিক ও কৃষকদের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম। পরবর্তীতে জুলাই মাসে শ্রমিকদের একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর লেলিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে লুকিয়ে আগস্ট – সেপ্টেম্বর মাসে ফিনল্যান্ড অবস্থান করেন। সেখানে অবস্থানকালে ‘রাষ্ট্র ও বিপ্লব’ নামে বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। এই বইতে তিনি শ্রেণি সংগ্রাম, রাষ্ট্র ও বিপ্লবের সমস্যাবলী, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে জনগণের ভূমিকা, সাম্যবাদী সমাজ নির্মাণ, জনগণের সাথে পার্টি ও নেতৃত্বের পারস্পরিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করেন। উপরন্তু, মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে কিছুটা পরিশীলিত করে সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদকে সমাজবিকাশের দুটো পৃথক পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেন লেনিন। মার্কসীয় রাষ্ট্রতত্ত্বে লেনিনের ‘রাষ্ট্র ও বিপ্লব’ বইটি এক মৌলিক অবদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

অক্টোবর বিপ্লব

১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর (রাশিয়ার সংশোধিত নতুন পঞ্জিকা অনুসারে ৭ নভেম্বর) সকাল নাগাদ সাময়িক সরকারের আশ্রয়গ্রহণকারী স্থল শীত প্রাসাদ ও পেত্রগ্রাদ সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর ছাড়া গোটা পেত্রগ্রাদ তখন বিপ্লবী শ্রমিক, সৈনিক ও নাবিকদের দখলে। সেদিন বেলা ২-৩৫ মিনিটে স্মলনির হলঘরে পেত্রগ্রাদ সোভিয়েতের সভা বসল। রাতে দলে দলে বিদ্রোহী শ্রমিক, লালরক্ষী, সৈনিক আর নাবিকের হাতে শীত প্রাসাদের দখল সম্পূর্ণ চলে এলো, বুর্জোয়া ও জমিদারদের সরকারের শেষ ঘাঁটিটার পতন হলো।[৪]

বলশেভিক বিপ্লবের পর ৭ নভেম্বর লেনিন সোভিয়েত সরকার প্রধান হিসেবে কাউন্সিল অব পিপলস কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। দায়িত্বভার গ্রহণের পর সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেন তিনি। বিপ্লবের ফসল সোভিয়েতসমূহের ক্ষমতাকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাইরের শত্রুর হাত থকে রক্ষার কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। একই লক্ষ্যে তিনি জার্মানীর সাথে ব্রেস্ত-লিটভোস্ক শান্তি চুক্তিতে উপনীত হন। তাঁর এই ধীরে চলার নীতি অবশ্য ১৯১৮-২১ সালে দেশে গৃহযুদ্ধ ডেকে আনে। লিও ত্রতস্কির সমর্থন ও রেড আর্মির ক্ষিপ্রতায় লেলিন সোভিয়েত ইউনিয়নের গৃহযুদ্ধে বিজয়ী হন। যুদ্ধের পর লেনিন নয়া অর্থনৈতিক নীতিমালার মাধ্যমে দেশকে বাজার অর্থনীতি ও বহুত্ববাদী সমাজে ফিরিয়ে আনেন এবং একইসাথে দলসমূহের মাঝে ভাঙ্গনের ধারাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে প্রলেতারীয় একনায়কত্বের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। লেনিন ১৯২৪ সালের ২১ জানুয়ারী তাঁর কর্মবহুল জীবনের অবসান ঘটিয়ে মস্কোর উপকণ্ঠে গর্কি গ্রামে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

আরো পড়ুন:  ফ্রানয মেহরিং জার্মানির সমাজতান্ত্রিক তাত্ত্বিক ও নেতা

রাজনৈতিক মতাদর্শ

লেনিনবাদ

বিশ শতকে ইতিহাসের নতুন পর্যায়ের সমস্যার বিচার, বিশ্লেষণ ও সমাধানে মার্কসবাদের সৃজনশীল ব্যাখ্যা এবং প্রয়োগের মধ্যেই লেনিনের কৃতিত্ব নিহিত। লেনিনের সৃষ্ট চিন্তাধারা একত্রে লেনিনবাদ নামে পরিচিত। লেনিনবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে জে ভি স্তালিন বলেছেন,

“লেনিনবাদ হলো সাম্রাজ্যবাদ এবং শ্রমিক-বিপ্লবের যুগের মার্কসবাদ। আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, লেনিনবাদ হলো সাধারণভাবে শ্রমিক-বিপ্লবের মতবাদ ও রণকৌশল এবং বিশেষভাবে এ হলো শ্রমিক শ্রেণির একনায়কত্বের মতবাদ ও রণকৌশল। বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যখন জন্ম হয়নি, সর্বহারারা যখন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, শ্রমিক-বিপ্লব যখন আশু এবং অবশ্যম্ভাবি হয়ে উঠেনি সেই প্রাক-বিপ্লব যুগে (আমরা এখানে শ্রমিকশ্রেণির বিপ্লবের কথাই বলছি) মার্কস আর এঙ্গেলস তাঁদের কার্যকলাপ চালাতেন। আর মার্কস আর এঙ্গেলসের শিষ্য লেনিন তাঁর কাজ চালিয়েছেন বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যুগে, শ্রমিক-বিপ্লবের বিকাশের যুগে_ যখন শ্রমিক-বিপ্লব একটি দেশে ইতিমধ্যেই জয়যুক্ত হয়েছে, বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে চূর্ণ করে, শ্রমিক শ্রেণির গণতন্ত্রের সোভিয়েত তন্ত্রের যুগের সূত্রপাত করেছে।

এই কারণেই লেনিনবাদ হলো মার্কসবাদের আরো বিকশিত রূপ।”[৫]   

স্তালিনের মতানুসারে মার্কসবাদী তত্ত্বের বিকাশে লেনিনের সৃজনশীল অবদান রয়েছে ছয়টি ক্ষেত্রে। যে ছয়টি ক্ষেত্রে লেনিনের অবদান রয়েছে সেগুলো হলো পুঁজিবাদের নতুন পর্যায় হিসেবে একচেটিয়া পুঁজিবাদের_ সাম্রাজ্যবাদের প্রশ্ন, সর্বহারা শ্রেণির একনায়কত্বের প্রশ্ন, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি দেশে সাফল্যের সাথে সমাজতন্ত্র গড়ে তোলার রূপ ও পদ্ধতির প্রশ্ন, বিপ্লবে সর্বহারা শ্রেণির নেতৃত্বের প্রশ্ন, জাতীয় ও ঔপনিবেশিক প্রশ্ন এবং সবশেষে সর্বহারা শ্রেণির পার্টি সম্পর্কিত প্রশ্নে।[৬]  

গণতন্ত্র এবং জাতীয় প্রশ্ন

লেনিন পুঁজিবাদি সমাজের গণতান্ত্রিকতা ও সমাজতান্ত্রিক সমাজের গণতান্ত্রিকতা বিষয়ে পার্থক্যরেখা টেনেছেন। রাষ্ট্র ও বিপ্লব গ্রন্থে লিখেছেন,

“পুঁজিবাদি সমাজে তার বিকাশের সর্বাধিক অনুকূল পরিস্থিতিতে আমরা পাই গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে ন্যূনাধিক পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিকতা। কিন্তু এ গণতান্ত্রিকতা সর্বদাই পুঁজিবাদি শোষণের সংকীর্ণ গণ্ডিতে পিষ্ট, সংকুচিত এবং সেইহেতু সর্বদাই হয়ে থাকে কেবল অল্পাংশের জন্য, কেবল সম্পত্তিবান শ্রেণিগুলোর জন্য, কেবল ধনীদের জন্য গণতন্ত্র। পুঁজিবাদি সমাজে স্বাধীনতা সর্বদাই থেকে যায় মোটামুটি প্রাচীন গ্রিক প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতার মতোঃ দাস-মালিকদের স্বাধীনতা।”[৭]

তিনি আরো বলেছেন,

“মধ্যযুগীয় ব্যবস্থার তুলনায়, বুর্জোয়া গণতন্ত্র যদিও এক বিরাট ঐতিহাসিক অগ্রগতির পরিচায়ক, তথাপি সে-গণতন্ত্র সব সময়ই হলো সীমাবদ্ধ, খণ্ডিত, মিথ্যাচারী ও ভণ্ডামিপূর্ণ, ধনীদের জন্য স্বর্গ আর শোষিত ও দরিদ্রদের কাছে এক ফাঁদ ও প্রতারণা, আর পুঁজিবাদের আওতায় সেটা তাই হতে বাধ্য।”[৮]   

শ্রেণিসংগ্রাম

তিনি  সকল সমস্যার মূল শ্রেণিবিভেদকে বিলুপ্ত করার মহান উদ্দেশ্যে লিখেছেন,

“একথা পরিষ্কার যে শ্রেণির পূর্ণ বিলুপ্তির জন্য দরকার কেবল শোষক, জমিদার ও পুঁজিপতিদের উচ্ছেদ শুধু নয়, কেবল তাদের সম্পত্তি খারিজই নয়, আরো দরকার উতপাদন উপায়ের ওপর সর্ববিধ ব্যক্তিমালকানার উচ্ছেদ, যেমন শহর ও গ্রামের মধ্যে, তেমনি কায়িক শ্রমের লোক ও মানসিক শ্রমের লোকেদের মধ্যে সব কিছু পার্থক্যের বিলোপ।”[৯]

নারিমুক্তি

লেনিন সেই মানুষ, যিনি নারীকে পণ্য করতে চাননি। লেনিন সেই মানুষ, যে মানুষটি নারীকে মানুষ বলে ভেবেছেন, পুঁজিবাদীর শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে নারীকে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। লেনিন সেই মানুষ যিনি নারীকে রান্নাঘর ও আঁতুড়ঘর থেকে কারখানায় এনেছেন, মিছিলে এনেছেন, পাঠশালায় এনেছেন। তিনি বলেছেন,

“বুর্জোয়া গণতন্ত্র শুধু মুখে মুখেই সাম্য ও স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়। কাজের বেলায় একটি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দেশে, এমন কি সবচেয়ে উন্নত দেশেও মানবজাতির অর্ধেক যে নারী সমাজ তাদের আইনত পুরুষের সমান অধিকার অথবা পুরুষদের শাসন ও দমন থেকে মুক্তি দেয়নি।
বুর্জোয়া গণতন্ত্র শুধু জাঁকালো গালভরা কথার বড় বড় প্রতিশ্রুতির আর স্বাধীনতা ও সাম্যের নামে আড়ম্বর ভরা ধ্বনির গণতন্ত্র। কিন্তু কাজের বেলায় এই গণতন্ত্র নারীদের স্বাধীনতাহীনতা ও নিকৃষ্ট অবস্থা, এবং শ্রমিক ও শোষিতের স্বাধীনতাহীনতা ও নিকৃষ্ট অবস্থাকে ঢাকা দিয়ে রাখে।”[১০]

সংস্কৃতি

মহামতি লেনিন শ্রমিকের সংস্কৃতিকে এক মহান সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হিসেবে নির্মাণ করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন,

“মানবজাতির সমগ্র বিকাশের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট সংস্কৃতির যথাযথ জ্ঞান লাভ করেই এবং সে সংস্কৃতিকে ঢেলে সাজিয়েই কেবল আমরা প্রলেতারীয় সংস্কৃতি গড়তে পারি।… … 
পুঁজিবাদি সমাজ, জমিদারি সমাজ, আমলাতন্ত্রি সমাজের জোয়ালের নিচে মানব জাতি যে জ্ঞানভাণ্ডার জমিয়েছে, প্রলেতারীয় সংস্কৃতিকে হতে হবে তারই সুনিয়মিত বিকাশ।”[১১]  

লেনিন জন্মেছিলেন পৃথিবীর বুকে এক মহাস্বপ্নের কাণ্ডারি হয়ে যিনি শ্রমিক-কৃষককে জাগিয়ে তুলেছিলেন হাজার বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মহামানবের মর্যাদায়। কৈশোরে তিনি জারের পুলিসকে বলেছিলেন_ এ দেয়াল ভাঙবে, যৌবনে সহকর্মীকে বলেছিলেন_ সাইবেরিয়া বদলাবে, প্রোঢ় বয়সে ওয়েলসকে বলেছিলেন_ রুশদেশের অন্ধকার গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের বাতি জ্বলবে, মৃত্যুর আগে দেশবাসীদের বলেছিলেন_ শিশু সোভিয়েতকে রক্ষা করো … দুনিয়া পালটে যাবে।

আরো পড়ুন:  কমরেড মুজিবর রহমান নকশালবাড়ি অভ্যুত্থানের অন‍্যতম চরিত্র এবং অস্ত্র প্রশিক্ষক

প্রধান রচনাসমূহ

মার্কস-এঙ্গেলসের সাম্যবাদী মতবাদের অনুসারী লেনিন ছিলেন রুশ ও আন্তর্জাতিক সর্বহারা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত ও রুশ কমিউনিস্ট পার্টি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা। মার্কসবাদী দর্শনের বিশ্লেষণে লেনিন কর্তৃক সম্পাদিত সংযোজনসমূহের সমন্বয়ে ৪৫ খন্ডে প্রকাশিত হয় ‘লেনিন রচনা সমগ্র’। এসব রচনায় লেনিন অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ, দর্শন, সংস্কৃতি, বিপ্লবের রণকৌশল ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অধিকাংশ মার্কসবাদীদের কাছে মার্কসবাদ বলতে মার্কসবাদ-লেলিনবাদের সমন্বিত মতবাদকেই বুঝানো হয়। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গন ও পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের ত্যাগের মধ্যে দিয়ে লেনিনের রাষ্ট্র দর্শনের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে।

বস্তুবাদ ও অভিজ্ঞতাবাদী সমালোচনা

১৯০৮ সালে রচিত তাঁর ‘ম্যাটেরিয়ালিজম এন্ড এমপিরিওক্রিটিসিজম’ গ্রন্থ তার মৌলিক দার্শনিক চিন্তার প্রকাশ হিসাবে সুপরিচিত। মার্কসবাদ ও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের বিকৃতির অপচেষ্টাকে লেনিন তাঁর এই গ্রন্থে আপোসহীনভাবে বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করেন। এই বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে তিনি বিজ্ঞানের সর্বশেষ আবিষ্কার ও তত্ত্বসমূহ সম্পর্কে এবং জ্ঞানের সমস্যায় তাঁর মতামত উপস্থাপিত করেন।

সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ পর্যায়

লেনিন ১৯১৬ সালে তাঁর ‘সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর’ শীর্ষক সুবিখ্যাত গ্রন্থে বিশ শতকের প্রথম ধাপে পুঁজিবাদের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যের সুনিপুণ বিশ্লেষণ উপস্থিত করেন এবং সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সাম্রাজ্যবাদী স্তরে পুঁজিবাদী বিকাশের বিধান উদঘাটন করেন। এই বিশ্লেষণ অত্যাসন্ন সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের এক শক্তিশালী আদর্শগত হাতিয়ার হিসাবে কাজ করে। লেনিনের এই গ্রন্থ তাঁর অন্যান্য সামাজিক দার্শনিক সমস্যার উপর লিখিত বহুসংখ্যক গ্রন্থের ন্যায় সমাজ বিকাশের মৌলিক সূত্রের প্রাঞ্জল উপস্থাপনার জন্য বিপ্লবী কর্মী এবং সমাজবিজ্ঞানীর নিকট চিরায়ত সাহিত্যের রূপ লাভ করেছে। বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের অসম বিকাশের বাস্তব অবস্থাকে বিশ্লেষণ করে লেনিন প্রমাণ করেন যে, এমন অবস্থায় একটি বিশেষ দেশেও সমাজতন্ত্র কায়েম হতে পারে। ইতিপূর্বে ধারণা করা হতো যে, বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের যে শক্তি ও বিকাশ তাতে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো একটি দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্বব্যাপী তা একই সময়ে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাস্তব অবস্থার ভিত্তিতে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের নিয়ত বিকাশের উপর লেনিন সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন।

শ্রেণী এবং শ্রেণীসংগ্রাম, রাষ্ট্র এবং বিপ্লব প্রভৃতি সমস্যা বিশ্লেষণ করে লেনিন একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তা ছাড়া তিনি সংস্কৃতি, সমাজতান্ত্রিক শিল্প, সাহিত্য এবং চারিত্রনীতি প্রভৃতি সমস্যার উপরও আলোকপাত করেন। লেনিন ভাবধারাকে লেনিনবাদ নামে অভিহিত করা হয়। লেনিনবাদ মার্কসবাদের নতুনতর বিকাশের স্মারক।

কাল মার্কসের সাম্যবাদী চিন্তাধারা বলশেভিকদের ক্ষমতায় আরোহন ও তা অক্ষুন্ন রাখতে সহায়তা করে। মার্কসবাদী দর্শনকে রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য বিধানে লেনিনের ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। মার্কসবাদ-লেনিনবাদের সমন্বিত চিন্তাধারা পরবর্তীতে গ্রামসি, জোসেফ স্ট্যালিন, লিও ত্রতস্কি ও মাও সেতুঙ এর মতো বিপ্লবী নেতৃত্বের সৃষ্টি করে। অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে লেনিন ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিপ্লবী নেতা।

লেনিনের সব স্বপ্নই পূরণ হচ্ছে, লেনিনের সব আশা আবার পৃথিবীতে ঝলকে উঠছে, লেনিনের সব আকাঙ্ক্ষা ছড়িয়ে যাচ্ছে মহাবিশ্বের দশ দিকে; এ পৃথিবী ক্রমাগত লেনিন হচ্ছে। লেনিনবাদ বেঁচে থাকুক; লেনিন বেঁচে থাকুন মহাবিশ্বের সর্বত্র।  

তথ্যসূত্র:
১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ২৬৩-২৬৪।
২. গ. দ. অবিচকিন ও অন্যান্য, ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন, সংক্ষিপ্ত জীবনী, প্রগতি প্রকাশন মস্কো, ১৯৭১; পৃষ্ঠা-৩৭-৩৮।
৩. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ২৬৩-২৬৪।
৪. এম আর চৌধুরী, মার্কসবাদ বা সমাজতন্ত্রের নয় – সংশোধনবাদ ও সমাজতান্ত্রিক বুর্জোয়াদের পতন, হেলাল উদ্দীন, ঢাকা দ্বিতীয় সংস্করণ মার্চ ২০১৬, পৃষ্ঠা ১৭৩
৫. জে ভি স্তালিন, লেনিন স্মরণে প্রবিষ্ট ছাত্রদের প্রতি উৎসর্গীকৃত, লেনিনবাদের ভিত্তি ও সমস্যা; এপ্রিল, ১৯২৪।
৬. এ বিষয়ে দেখুন, জে ভি স্তালিন, মার্কসবাদী তত্ত্বের বিকাশে লেনিনের সৃজনশীল অবদান, ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯২৭।
৭. ভ. ই. লেনিন, রাষ্ট্র ও বিপ্লব; প্রগতি প্রকাশন, মস্কো; তারিখহীন, পৃষ্ঠা, ৮৬।
৮. ভ. ই. লেনিন, সর্বহারা বিপ্লব ও দলদ্রোহী কাউতস্কী।
৯. ভ. ই. লেনিন, রচনা সংকলন, তৃতীয় ভাগ (চার ভাগে সম্পূর্ণ), প্রগতি প্রকাশন, মস্কো, পৃষ্ঠা_১৯০-১৯১।
১০. ভ. ই. লেনিন, নারীমুক্তি, প্রগতি প্রকাশন, মস্কো; তারিখহীন, পৃষ্ঠা, ৮৭।
১১ . ভ. ই. লেনিন, যুব লীগের কর্তব্য।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page