আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > আন্তর্জাতিক > এশিয়া > ভারত > ইনকিলাব জিন্দাবাদ প্রসঙ্গে

ইনকিলাব জিন্দাবাদ প্রসঙ্গে

ইনকিলাব জিন্দাবাদ (হিন্দি: इंक़लाब ज़िन्दाबाद) শব্দ দুটি ফারসি ভাষা থেকে আগত। শব্দ দুটির অর্থ হলো— “বিপ্লব দীর্ঘজীবী হােক”। ভারতের বামপন্থী আন্দোলনের একটি সাধারণ ও ব্যবহারবহুল ধ্বনি। এটির উৎপত্তি ও তত্ত্বগত পরিপ্রেক্ষিত সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো মাওলানা হযরত মোহানি ১৯২১ সালে মাওলানা “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” শব্দটি স্লোগান হিসেবে সৃষ্টি করেন। তিনি ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির চারজন প্রতিষ্ঠাতার একজন।

বিশ শতকের কুড়ির দশকের মাঝামাঝি উত্তর ভারতে বিপ্লবী অনুশীলন দলের কিছু কর্মী হিন্দুস্থান রিপাবলিক্যান অ্যাসােসিয়েশন (এইচ আর এ) নামে একটি গোপন সংগঠন তৈরি করেন (১৯২৪)। তাঁরা প্রধানত ফরাসি বিপ্লব ও রুশ বিপ্লবের আদর্শে চলতেন; তাঁদের প্রচারপত্রে ‘লং লিভ রেভােলুশন’ কথাগুলি মুদ্রিত থাকত। এইচ আর এর ক্রমবিস্তারসুত্রে তার সঙ্গে পাঞ্জাবের নওজওয়ান ভারতসভা গােষ্ঠী যুক্ত হয়। ওই গােষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট নেতা ছিলেন ভগৎ সিং। তাঁদের প্রস্তাবে এইচ আর এ নামের সঙ্গে সােসালিস্ট শব্দটি এবং সংগ্রামী আন্দোলনের প্রয়ােজনে অ্যাসােসিয়েশনের পরিবর্তে ‘আর্মি’ কথাটি যুক্ত হয়। সময়টা ছিল সাইমন কমিশন বিরােধী আন্দোলন (১৯২৭) এবং দেশব্যাপী সংগ্রামী ধর্মঘটী শ্রমিক আন্দোলনে উত্তাল।

উর্দুভাষী পঞ্জাবের নওজওয়ান ভারতসভার সদস্যরা জনসভা ও শােভাযাত্রায় ‘লং লিভ রেভােলুশন’ বাণীকে সহজবােধ্য হিসেবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দেওয়া শুরু করেন এবং অচিরেই ধ্বনিটি জাতীয় আন্দোলনের বিপ্লবী ও বামপন্থী ধারায় সারা দেশে ব্যাপক প্রচলন লাভ করে। উল্লেখ্য যে খিলাফত আন্দোলনের পরে ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি সম্পর্কে যাঁদের আপত্তি দেখা দেয় তাঁদের কাছেও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ গ্রহণযােগ্য হয়। কেন্দ্রীয় আইনসভায় বােমা নিক্ষেপ (১৯২৮) ও ফাঁসির মঞ্চে আরােহণকালে (১৯৩১) ভগৎ সিং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র:

১. গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরেন্দ্রমোহন. রাজনীতির অভিধান, আনন্দ পাবলিশার্স প্রা. লি. কলকাতা, তৃতীয় মুদ্রণ, জুলাই ২০১৩, পৃষ্ঠা ৪৪।

আরো পড়ুন:  সংগ্রামের পথ ছাড়া মুক্তির আর কোনো পথ নেই --- আবুল কাসেম ফজলুল হক
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page