বড়-রুশীদের জাতীয় গর্ববোধ

জাতীয়তা নিয়ে, পিতৃভূমি নিয়ে আজকাল কতই না আলাপ আলোচনা, কতো তর্কবিতর্ক, চেচামেচি! ইংলণ্ডের উদারনীতিক ও র‍্যাডিকাল মন্ত্রীরা, ফ্রান্সের অসংখ্য ‘অগ্রণী’ সাংবাদিক (প্রতিক্রিয়াশীল সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে তাদের পরিপূর্ণ সায়), রাশিয়ার গাদাগাদা সরকারী, কাদেতপন্থী ও প্রগতিশীল লিখিয়ে (কিছু-কিছু, নারোদনিক ও ‘মার্কসবাদী’ পর্যন্ত) —হাজারটা রকমারি স্বরে ‘স্বদেশের মুক্তি ও স্বাধীনতা নিয়ে, জাতীয় স্বয়ম্ভরতার মহা নীতি নিয়ে প্রশস্তি গাইছে সকলেই। তার মধ্যে বোঝা মুশকিল কোথায় শেষ হচ্ছে জল্লাদ নিকোলাই রমানভের[১] বা নিগ্রো ও ভারতীয় দলনকারীর ভাড়াটে চারণদের কণ্ঠ এবং কোথায় শুরু হচ্ছে অকাট কূপমণ্ডকের গলা, যে হয় নির্বুদ্ধিতায়, নয় মেরুদণ্ডহীনতায় গা ভাসিয়েছে ‘স্রোতে’। তবে, তফাৎ খুঁজতে যাওয়ারও দরকার নেই। আমরা দেখছি অতি ব্যাপক আর অতি গভীর এক মতাদর্শগত ধারা, বৃহৎ-শক্তি জাতিগুলির জমিদার ও পুঁজিপতি মহোদয়দের স্বার্থের সঙ্গে যার মূল দৃঢ় সংবদ্ধ। এইসব শ্রেণীর পক্ষে যেসব ধ্যানধারণা সুবিধাজনক তা প্রচারের জন্যে প্রতি বছর ব্যয় করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা – জলের কলটা ছোটো নয়, জল নিচ্ছে তা সবখান থেকেই, ঝানু, শোভিনিস্ট মেনশিকভ থেকে শুরু ক’রে প্লেখানভ আর মাসলভ[২], রুবানোভিসচ[৩] আর স্মির্নোভ[৪], ক্রপোৎকিন[৫] আর বুৎর্সেভের[৬] মতো লোকের কাছ থেকেও, যারা শোভিনিস্ট বনেছে হয় সুবিধাবাদের জন্যে, নয় মেরুদণ্ডহীনতার দরুন।

এই মতাদর্শগত ধারাটির প্রতি আমাদের, বড়-রুশী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের মনোভাব কী হবে তা আমাদেরও স্থির করে নেওয়া যাক। ইউরোপের পূর্ব প্রান্ত এবং এশিয়ার বড় একটা অংশের বৃহৎ-শক্তি এক জাতির প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের অন্যায় হবে যদি জাতীয় সমস্যার প্রভূত তাৎপর্যের কথা আমরা ভুলি; – বিশেষ করে সেই দেশে যাকে ন্যায্যতই বলা হয় ‘জাতিসমূহের কারাগার’; – এমন এক সময়ে, যখন দূর-পূর্ব ইউরোপে এবং এশিয়ায় ছোট বড় একগুচ্ছ নতুন জাতিকে জীবনে ও চেতনায় জাগিয়ে তুলছে পুঁজিবাদ; – এমন এক মুহূর্তে, যখন সম্মিলিত অভিজাত পরিষদ[৭] তথা গুচকোভ[৮] আর ক্রেস্তভনিকভ[৯], দলগরুকভ[১০], কুৎলের[১১] আর রদিচেভদের[১২] স্বার্থে একগুচ্ছ জাতীয় সমস্যার সমাধানের জন্যে জার রাজতন্ত্র অসুসজ্জিত করেছে লক্ষ-লক্ষ বড় রুশীদের ও বিজাতীয়দের।

জাতীয় গর্ববোধ কি আমাদের, বড়-রুশী শ্রেণিসচেতন প্রলেতারিয়ানদের কাছে পরধর্ম? নিশ্চয়ই নয়! আমাদের স্বভাষা ও স্বদেশকে আমরা ভালবাসি, স্বদেশের মেহনতী জনগণকে (অর্থাৎ স্বদেশের জনসংখ্যার ৯/১০ ভাগকেই) গণতান্ত্রিকসমাজতান্ত্রিক চেতনায় উন্নীত করার জন্যে আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা। আমাদের এই অপর্ব দেশের ওপর জারতন্ত্রী জল্লাদ, অভিজাত আর পুঁজিপতিরা যে কী জুলুম, নিপীড়ন আর লাঞ্ছনা হেনেছে তা দেখে, তা অনুভব করে কষ্ট লাগে আমাদেরই বেশি। আমাদের গর্ব এই যে, এ জুলুমের প্রতিরোধ জেগেছে আমাদের মধ্য থেকে, বড়-রুশীদের মধ্য থেকেই, এরই মধ্য থেকেই এসেছেন রাদিশ্চেভ[১৩], ডিসেম্বরীরা, এসেছেন অষ্টম দশকের বিপ্লবী রাজনোচিনেৎস’রা, গর্ব এই যে, বড়-রুশী শ্রমিক শ্রেণী ১৯০৫ সালে বানিয়ে তুলেছে এক পরাক্রান্ত বিপ্লবী গণ পার্টি, এবং ঐ সময় থেকেই বড়-রুশী চাষী হয়ে উঠতে শুরু করেছে গণতন্ত্রী, উচ্ছেদ করতে আরম্ভ করেছে পুরোহিত ও জমিদারদের।

আমরা স্মরণে রেখেছি যে, অর্ধশতাব্দী আগে বড়-রুশী গণতন্ত্রী চের্নিশেভস্কি বিপ্লবের আদর্শে তাঁর জীবন উৎসর্গ করে বলেছিলেন; ‘এ এক দুর্ভাগা জাত, ক্রীতদাসের জাত – আগাগোড়া সব ‘ক্রীতদাস’[১৪]। প্রকাশ্য ও ছদ্মবেশী বড়-রুশী ক্রীতদাসেরা (জার রাজতন্ত্রের কাছে ক্রীতদাস) সেকথা মনে করতে অনিচ্ছুক। তবু, আমাদের মতে, একথাগুলো এসেছিল এক সাঁচ্চা দেশপ্রেম থেকে, বড়-রুশী জনগণের মধ্যে বিপ্লবী প্রেরণার অভাব দেখে যে-দেশপ্রেম বিষন্ন। সে সময় এ প্রেরণা ছিল না, আজ আছে কম, তবু, আছে। জাতীয় গর্বো বোধের আমরা পূর্ণ এই কারণে যে, বড়-রুশী জাতিও এক বিপ্লবী শ্রেণীর জন্ম দিয়েছে, এ জাতিও দেখিয়েছে যে, বড় বড় দাঙ্গা আর সারি-সারি ফাঁসি মঞ্চ, কারাগহ্বর, বড় বড় দুর্ভিক্ষ আর পুরোহিত, জার, জমিদার ও পুঁজিপতিদের বিপুল পদলেহনই শুধু নয়, মানব সমাজের কাছে এ জাতিও রাখতে পারে স্বাধীনতার জন্যে, সমাজতন্ত্রের জন্যে সংগ্রামের মহৎ দৃষ্টান্ত।

আরো পড়ুন:  আবশ্যিক রাষ্ট্রভাষার প্রয়োজন আছে কি?

জাতীয় গর্ববোধে আমরা পূর্ণ এবং সেই কারণেই আমরা বিশেষ করে ঘৃণা করি আমাদের দাসসুলভ অতীতকে (যখন হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, পারস্য ও চীনের স্বাধীনতা দলন করার জন্যে অভিজাত জমিদারেরা যুদ্ধে পাঠিয়েছিল চাষীদের) এবং আমাদের দাসোচিত বর্তমানকে, যখন পুঁজিপতিদের সহযোগে সেই জমিদাররাই আমাদের যুদ্ধে পাঠাচ্ছে। পোল্যাণ্ড ও ইউক্রেনের টুঁটি চেপে ধরার জন্যে, পারস্য ও চীনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমনের জন্যে এবং আমাদের বড়-রুশী জাতীয় মর্যাদার যারা কলঙ্ক সেই রমানভ[১৫], বোব্রিনস্কি[১৬] আর পুরিশকেভিচদের[১৭] দঙ্গলটাকে শক্তিশালী করার জন্যে। ক্রীতদাস হয়ে জন্মালে দোষ নেই; কিন্তু যে-ক্রীতদাস নিজ স্বাধীনতা প্রচেষ্টাকে শুধু পরিহারই করে, নিজ দাসত্বকেই ন্যায্য ও শোভন প্রতিপন্ন করতে চায় (যেমন, পোল্যাণ্ড, ইউক্রেন, প্রভৃতির দলনকে যে নাম দেয় বড়-রুশীদের ‘পিতৃভূমি রক্ষা’), সে-ক্রীতদাস হলো একটা পদলেহী বজ্জাত, যার প্রতি ক্রোধ, ঘৃণা ও বিতৃষ্ণাই সঙ্গত।

‘অন্য জাতির ওপরে যে উৎপীড়ন করে সে-জাতির কখনও মুক্তি নেই’[১৮], বলেছেন উনিশ শতকের প্রসঙ্গত গণতন্ত্রের মহত্তম প্রতিনিধি মার্কসএঙ্গেলস[১৯], বিপ্লবী প্রলেতারিয়েতের যাঁরা গুরু এবং আমরা, বড়-রুশী শ্রমিকেরা জাতীয় গর্বের অভিমান নিয়ে দাবি করি, যে করেই-হোক চাই এক মুক্ত ও স্বাধীন, স্বাবলম্বী, গণতন্ত্রী, প্রজাতান্ত্রিক, গর্বিত বড়-রাশিয়া, প্রতিবেশীদের সঙ্গে যার সম্পর্ক স্থাপিত হবে। সমানতার মানবিক নীতির ওপর, বৃহৎ জাতির পক্ষে যা লজ্জাকর সেই সামন্ততান্ত্রিক বিশেষাধিকারের ওপর নয়। এটা আমরা চাই বলেই আমরা বলি : বিশ শতকে ইউরোপ (এমনকি দূর-পূর্ব ইউরোপেও) আমাদের নিজ-নিজ পিতৃভূমির রাজতন্ত্র, জমিদার ও পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে, অর্থাৎ স্বদেশের চরমতম শত্রুদের বিরদ্ধে সর্ববিধ বিপ্লবী পন্থায় সংগ্রাম ছাড়া ‘পিতৃভূমি রক্ষা’ অসম্ভব; – বড়-রাশিয়ার ৯/১০ ভাগ জনসংখ্যার পক্ষে ন্যুনতম অকল্যাণ হিসেবে সমস্ত যুদ্ধেই জারতন্ত্রের পরাজয় কামনা না-করে বড়-রশীরা তাদের পিতৃভূমি রক্ষা করতে পারে না, কেননা এই ৯/১০ ভাগ লোকের উপর জারতন্ত্র শুধু, আর্থনীতিক ও রাজনীতিক পীড়নই চালায় না, পর-জাতিকে নিপীড়ন করতে এবং ভণ্ড, মেকী-দেশপ্রেমিক বুলি দিয়ে সে লজ্জা ঢাকতে শিখিয়ে জারতন্ত্র তাদের নীতিহীন, হতমান, বেইজ্জৎ ও ব্যভিচারী করে তুলছে।

আপত্তি করে সম্ভবত বলা হবে যে, জারতন্ত্র ছাড়াও, জারতন্ত্রেরই পক্ষপুটে আর একটি ঐতিহাসিক শক্তি উঠেছে ও সংহত হয়েছে, – বড়-রুশী পুঁজিবাদ, বহুবিস্তৃত অঞ্চলকে অর্থনীতিগতভাবে কেন্দ্রীভূত ও ঐক্যবদ্ধ করে তা প্রগতিশীল কাজ করছে। এ আপত্তিতে দোষ খণ্ডিত না হয়ে বরং আরও বেশি করেই অভিযুক্ত হয়ে পড়ছে আমাদের সমাজতন্ত্রী-শোভিনিস্টরা, যাদের নাম দেওয়া উচিত জারতন্ত্রী পুরিশকেভিচী সমাজতন্ত্রী (মার্কস যেমন লাসালপন্থীদের বলেছিলেন রাজকীয়-প্রুশীয় সমাজতন্ত্রী)। এমনকি এই কথাই ধরে নেওয়া যাক যে, ইতিহাস রায় দিলো একশ’ একটা ছোট ছোট জাতির বিপক্ষে, বড় রুশী বৃহৎ শক্তির পুঁজিবাদের পক্ষে। তা অসম্ভব নয়, কেননা পুঁজির গোটা ইতিহাসটাই হলো হত্যা ও লুঠ, রক্ত ও পাঁকের ইতিহাস। মোটেই ছোট-ছোট জাতিগুলিকে অনিবার্য রূপেই টিকিয়ে রাখার পক্ষে আমরাও নই; অন্যান্য শর্ত সমান-সমান থাকলে আমরা একান্তই কেন্দ্রীকরণের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের কূপমণ্ডক আদর্শের বিপক্ষে। কিন্তু অনরূপ ক্ষেত্রেও, প্রথমত, ইউক্রেন, প্রভৃতিকে শ্বাসরুদ্ধ করার জন্যে রমানভ-বোব্রিনস্কি-পুরিশকেভিচদের সাহায্য করাটা আমাদের কাজ নয়, গণতন্ত্রীদের কাজ নয় (সমাজতন্ত্রীদের কথা তো ছেড়েই দিচ্ছি)। বিসমার্ক[২০] তাঁর স্বকীয় য়ুঙ্কার [২১] পদ্ধতিতে একটা প্রগতিশীল ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্ন করেছিলেন; কিন্তু, সেই কারণে বিসমার্কের জন্যে সমাজতন্ত্রী সমর্থন ন্যায্য বলে যার খেয়াল হবে, সে তোফা ‘মার্কসবাদী’ই বটে! অধিকন্তু, অর্থনীতিক বিকাশে বিসমার্ক সহায়তা করেছিলেন, খণ্ডবিখণ্ড যে-জার্মানদের তিনি ঐক্যবদ্ধ করেন তারা ছিল অন্য জাতি কর্তৃক নিপীড়িত। কিন্তু, বড়-রাশিয়ার অর্থনীতিক উন্নতি ও দ্রুত বিকাশের জন্যে দরকার অন্য জাতির ওপর বড়-রুশীরা যে-অত্যাচার করে তাই থেকে দেশটাকে মুক্ত করা – আমাদের সাচ্চারুশী বিসমাকমন্যদের অনুরাগীরা এই তফাৎটি ভুলে বসে।

আরো পড়ুন:  ফ্যাসিবাদ কাকে বলে এবং কেন ও কীভাবে প্রতিরোধ করতে হবে

দ্বিতীয়ত, বড়-রুশী বৃহৎ-শক্তি পুঁজিবাদের পক্ষেই যদি ইতিহাসের রায় হয়, তাহলে তা থেকে দাঁড়ায় পুঁজিবাদ থেকে জন্ম-নেওয়া কমিউনিস্ট বিপ্লবের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বড়-রুশী প্রলেতারিয়েতের সমাজতান্ত্রিক ভূমিকাটার আরও বৃদ্ধি। এবং প্রলেতারীয় বিপ্লবের জন্যে আবশ্যক পরিপূর্ণতম জাতীয় সমানাধিকার ও সৌভ্রাত্রের প্রেরণায় শ্রমিকদের দীর্ঘদিনব্যাপী শিক্ষা। সুতরাং, বড়-রুশী প্রলেতারিয়েতের আপন স্বার্থেই প্রয়োজন বড়-রুশীদের দ্বারা নিপীড়িত সমস্ত জাতির পরিপুর্ণ সমানাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের জন্যে অতি দঢ়ভাবে, সুসঙ্গতরূপে, সাহসের সঙ্গে বৈপ্লবিক সমর্থনের অর্থে জনগণকে দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষিত করে তোলা। বড়-রুশীদের জাতীয় গর্ব বোধের স্বার্থ (দাসোচিত অর্থে নয়) এবং বড়-রুশী (তথা অন্য সমস্ত) প্রলেতারিয়ানদের সমাজতান্ত্রিক স্বার্থ অভিন্ন। সর্বদাই আমাদের আদর্শ হলেন মার্কস, যিনি বহু বছর ইংলণ্ডে বাস করে আধা-ইংরেজ হয়েও, ইংরেজ শ্রমিকদের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বার্থেই দাবি করেছিলেন আয়াল্যাণ্ডের মুক্তি ও জাতীয় স্বাধীনতা।

আর আমরা যা ধরে নিয়ে আলোচনা করলাম, সেই শেষোক্ত ক্ষেত্রে আমাদের দেশজ সমাজতন্ত্রী-শোভিনিস্টরা, প্লেখানভ প্রভৃতিরা স্বদেশের, স্বাধীন গণতান্ত্রিক বড়-রাশিয়ার প্রতি শুধু নয়, রাশিয়ার সকল জাতির প্রলেতারীয় সৌভ্রাত্রের প্রতিও, অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতিও বিশ্বাসঘাতক হয়ে বসবে।

৩৫ নং ‘সোৎসিয়াল-দেমোক্রাৎ,

১২ ডিসেম্বর, ১৯১৪[২২]

টিকা:

১. নিকোলাস, দ্বিতীয় (১৮৬৮-১৯১৮)) — ১৮৯৪-১৯১৭ সময়ের রাশিয়ার শেষ সম্রাট।

২. মাসলভ, পিয়ৎর পাভলভিচ (১৮৬৭-১৯৪৬) রুশ সোশ্যাল-ডেমোক্রাট, মেনশেভিক।

৩. রুবানোভিচ, ইলিয়া আদোলফভিচ (১৮৬০-১৯২০) সোশ্যাল রেভলিউশনারি পার্টির অন্যতম নেতা।

৪. গুরেভিচ, এ. ল. (স্মির্নোভ, ইয়ে.) (জন্ম ১৮৬৫) সোশ্যাল-ডেমোক্রাট, মেনশেভিক। প্রতিক্রিয়াশীলতা (১৯০৭-১৯১০) ও নতুন বৈপ্লবিক জোয়ারের বছরগুলোতে লুপ্তিপন্থী।

৫. ক্রপোৎকিন, পিয়ৎর আলেক্সেয়েভিচ (১৮৪২-১৯২১) — রুশ বৈপ্লবিক আন্দোলনের কর্মী, নৈরাজ্যবাদের অন্যতম প্রধান তত্ত্বকার।

৬. বুৎর্সেভ, ভ্লাদিমির লুভোভিচ (১৮৬২-১৯৩৬) — রুশ উদারনীতিপন্থী বুর্জোয়া প্রকাশক। সোশ্যালিস্ট রেভলিউশনারীদের পৃষ্ঠপোষক, পরে কাদেত পার্টির সমর্থক।

৭. সম্মিলিত অভিজাত পরিষদ — প্রতিবিপ্লবী জমিদার সংস্থা, গঠিত হয় ১৯০৬ সালের মে মাসে; ১৯১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টিকে থাকে। সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বৈরতন্ত্র ব্যবস্থা, বৃহৎ জমিদারী ও অভিজাত সম্প্রদায়ের সুযােগ-সুবিধা বহাল রাখা। পরিষদ সরকারের নীতির উপর বিপুল প্রভাব ফেলত। পরিষদের বেশ কিছু সংখ্যক সদস্য ছিল রাষ্ট্রীয় পরিষদ ও কৃষ্ণ-শতক সংস্থাসমূহের কেন্দ্রগুলিতে নেতৃস্থানীয় পদে।

আরো পড়ুন:  ডিসেম্বরপন্থী অভ্যুত্থান হচ্ছে রাশিয়ার জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে সামরিক অফিসারের বিদ্রোহ

৮. গুচকোভ, আলেক্সান্দর ইভানভিচ (১৮৬২-১৯৩৬) — বৃহৎ রুশী পুঁজিপতি, প্রতিবিপ্লবী বুর্জোয়া জমিদার অক্টোবরী পার্টির সংগঠক ও নেতা।

৯. ক্রেস্তভনিকভ, গ. আ. (জন্ম ১৮৫৫) —  অক্টোবরী, বৃহৎ শিল্পপতি ও শেয়ারবাজারী।

১০. দলগরুকভ, পাভেল দমিত্রিয়েভিচ (১৮৬৬-১৯৩০) — বৃহৎ জমিদার, কাদেত পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

১১. কুৎলের, নিকোলাই নিকোলায়েভিচ (১৮৫৯-১৯২৪) — কাদেত; ১৯০৫-১৯০৬ সালে রাশিয়ার কৃষি ও কৃষিব্যবস্থা মন্ত্রী।

১২. রদিভেচ, ফিওদর ইজমাইলভিচ (জন্ম ১৮৫৬) — বৃহৎ রুশ জমিদার, কাদেত পার্টির অন্যতম সংগঠক ও বিশিষ্ট কর্মী।

১৩. রাদিশ্চেভ, আলেক্সান্দর নিকোলায়েভিচ (১৭৪৯-১৮০২) — রুশ লেখক, বিপ্লবী জ্ঞানপ্রচারক।

১৪. ভ. ই. লেনিন উদ্ধতিটি দিয়েছেন ন, গ, চের্নিশেভস্কির ‘পূর্বরঙ্গ’ নামক উপন্যাস থেকে।

১৫. রমানভ বংশ — ১৬১৩ সাল থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত রাজত্বকারী রুশ জারবংশ। ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের ফলে এই বংশের উচ্ছেদ হয়।

১৬. বোব্রিনস্কি, ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভিচ (জন্ম ১৮৬৮) — রুশ প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিক, বৃহৎ ভূস্বামী, চিনিকারখানা মালিক। চরম জাতীয়তাবাদী হিসেবে রাশিয়ার অন্যান্য জাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির বলপ্রয়োগে রুশীকরণের পক্ষপাতী।

১৭. পুরিশকেভিচ, ভ্লাদিমির মিত্রফানভিচ (১৮৭০ – ১৯২০) — বৃহৎ রুশ জমিদার, রাজতন্ত্রী, কৃষ্ণ-শতকী।

১৮. ফ. এঙ্গেলস, ‘দেশান্তরী সাহিত্য’ দ্রষ্টব্য।

১৯. এঙ্গেলস, ফ্রিডরিখ (১৮২০-১৮৯৫) — বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ, জার্মান সমাজ বিজ্ঞানী, লেখক ও দার্শনিক ও বিপ্লবী।

২০. বিসমার্ক, অত্তো (১৮১৫-১৮৯৮) — ১৮৭১ থেকে ১৮৯০ সালে জার্মান সাম্রাজ্যের চ্যান্সেলর; রাজতন্ত্রী। প্রাশিয়ার আধিপত্যে জার্মানির মিলন ঘটান বাহুবলে, সমাজতন্ত্রীদের বিরুদ্ধে জরুরি আইন জারি করেন।

২১. য়ুংকার – প্রাশিয়ার অভিজাত ভূমিমালিকেরা।

২২. লেখক অনুপ সাদি সম্পাদিত ভি. আই. লেনিনের প্রবন্ধগ্রন্থ সাহিত্য প্রসঙ্গে, টাঙ্গন ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২০, পৃষ্ঠা ৭৩-৭৭ থেকে এই লেখাটি রোদ্দুরে ডট কমে সংকলন করা হয়েছে। 

Leave a Comment

error: Content is protected !!