আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > জীবনশৈলি > সর্দি সারানোর দশটি সহজ ঘরোয়া উপায়

সর্দি সারানোর দশটি সহজ ঘরোয়া উপায়

সর্দি একটি সংক্রামক অসুখ। বাচ্চারা সাধারণত স্কুলে অন্য বাচ্চার কাছ থেকে সংক্রামিত হয়ে থাকে। ভাইরাস নাকে ঢোকার দু’একদিন বাদে প্রদাহের সৃষ্টি করে ও সর্দির লক্ষণ দেখা যায়। হাঁচি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ও নাক দিয়ে পানিপড়া হল এই রোগে লক্ষণ।

১. চাকুলে: যেখানে দেখা যায় নাক দিয়ে জল ঝ’রছে, মাথা ভারি, গা-হাত-পা কামড়ানি, ভাল ক্ষিধে লাগছে না—এক্ষেত্রেও শঙ্করজটা বা পৃশ্নিপর্ণী বা চাকুলে ১০ গ্রাম ক্বাথ ক’রে খেলে ঐ নতুন সর্দি হওয়ার অসুবিধে গুলি ভালো হয়ে যাবে।

২. আশশেওড়া: এটা শিশু-বৃদ্ধ দু’বয়সের লোকের হতে পারে। শিশুর হওয়ার কারণ ভাল হজম হয় না, তার ওপর জোর করে করে খাওয়ানো—তার তো দৈহিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রই নেই; সেক্ষেত্রে দেহের অগ্নিবল (ধাতুগত অনি) ক’মে গিয়ে অল্প একটু ঠাণ্ডা লাগলেই সর্দি লেগে যায়, পরে সেটা বুকে যায় ব’সে, তখন হাঁপের মত টান হ’তে থাকে।

আবার বৃদ্ধের ক্ষেত্রেও তাই, দৈহিক পরিশ্রমের অভাব; এদিকে আহারে এটি নেই, সেক্ষেত্রে ওই একই অবস্থা—একেই বার্ধক্যজনিত অগ্নিবল কমে গিয়েছে, তার ওপর শ্রমহীন থেকে বসে খাওয়া, সেইহেতু সর্দি কাসির দোষ। এক্ষেত্রে আশশেওড়া মূল চূর্ণ শিশুকে খাওয়ানো হয়তো সম্ভব হবে না, তাই সম্ভব হলে কাঁচামলের ছাল থেতো করে ২ ফোঁটা রস ও ১ চামচ অল্প গরম জল মিশিয়ে খেতে দিতে হবে। আর বৃদ্ধের ক্ষেত্রে মূলের ছাল চূর্ণ ২৫০ মিলিগ্রাম মাত্রায় দু’বেলা খেতে হবে

৩. ফলসা: শরীরে ভারবোধ, কামড়ানি, মাথাটাও ভার, সর্দিও তেমন বেরুচ্ছে না, অথচ জ্বরভাব, সেক্ষেত্রে ৫/৭ গ্রাম কাঁচা ফলসা জল দিয়ে বেটে নিংড়ে রস বের করে সকালের দিকে ২ চা-চামচ ও বৈকালের দিকে ২ চা-চামচ ক’রে জলসহ ২ দিন খেতে হবে। এর দ্বারা ঐ অসুবিধেটা চ’লে যাবে।।

আরো পড়ুন:  কৃমি-র লক্ষণ ও প্রতিকারের বারোটি ভেষজ চিকিৎসা ও প্রয়োগ

৪. নটে: ঋতুগত কারণে নাক দিয়ে ঝরঝর করে পড়া, মাথা ভার হওয়া—এই উপসর্গ উপস্থিত হলে এই চাঁপা নটের মূল থেতো করে বা বেটে, নিংড়ে সেই রসটাকে অল্প গরম করে তার থেকে ২ চা-চামচ নিয়ে দিনে ২-৩ বার খেতে হবে। এটাতে এই উপকার পাওয়া যাবে যে, সর্দি যদি গাঢ় থাকে তো সেটা পাতলা হয়ে বেরিয়ে যাবে আর পাতলা থাকলে সেটাও বেরিয়ে যাবে

৫. বরবটি: যাঁদের স্বল্প ঠাণ্ডায় সর্দি হাঁচি দুই হয়, তাঁদের উচিত বালিখোলায় ভাজা বরবটি বীজ অল্প ভেঙ্গে বালির মত রান্না করে ছেকে সেই সিদ্ধ জলটা খেতে হবে। ১০ গ্রাম নিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। একবার করে কয়েকদিন খাওয়ার পর যদি এটার পরিবর্তন না হয় তাহলে সকালে বৈকালে দু’বার খেতে হবে।

৬. ইশ্বরমূল: যেক্ষেত্রে জ্বর নেই অথচ নাক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, পায়খানা করছে না, যা খাওয়ানো হচ্ছে সবই বমি করে ফেলছে, সেক্ষেত্রে ইশ্বরমূল পাতার রস ২/৩ ফোঁটা একটু, দুধের সঙ্গে খাওয়ালে বমি করে ওটাকে তুলে দেয়। এই মাত্রায় ৪/৫ ঘণ্টা বাদ আরও একবার দেওয়া যায়। এক্ষেত্রে শিশুর বলাবলও বিবেচনা করে এটা প্রয়োগ করার ব্যবস্থা দিতেন, সুতরাং কোনো চিকিৎসকের নির্দেশ না পেলে শিশুর ক্ষেত্রে এটা প্রয়োগ করা সমীচীন হবে না

৭. পাথরকুচি: যে সর্দি পুরনো হয়ে গিয়েছে, সেই ক্ষেত্রেই এটি বিশেষ উপযোগী। নিঃসঙ্কোচে বলা যায়, সর্দি মানে কফ, ঠাণ্ডা লেগে শ্লেষ্ম। কফবিকারে (পুরাতন) পাথরকুচি পাতা রস করে সেটাকে একটু গরম করতে হবে এবং গরম অবস্থায় তার সঙ্গে একটু, সোহাগার খৈ মেশাতে হবে (৩ চা-চামচ রস হ’লে অন্ততঃ ২৫০ মিলিগ্রাম) তা থেকে ২ চা-চামচ নিয়ে সকালে ও বিকালে ২ বার খেতে হবে, এর দ্বারা পুরনো সর্দিটা উঠে যাবে, শুধু তাই নয়, সর্বদা কাসির হাত থেকে বাঁচা যাবে।

আরো পড়ুন:  অরুচি কমাতে শস্যকণা ও ভেষজ উদ্ভিদের ১২টি ঔষধের ব্যবহার

৮. জবা: যে কোন কারণে সর্দি এবং কাশি হলে জবা গাছের টাটকা মূল তিন থেকে চার গ্রাম পরিষ্কার পানি দিয়ে বেটে তার রসটা আধ কাপ ঠাণ্ডা পানিতে মিশিয়ে সকালে একবার এবং বিকেলে একই পরিমাণ আরও একবার খাওয়া দরকার। মাত্র তিন দিন খেলে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে।

৯. চালতা: কফ, কাশি ও সর্দি সারাতে: এই সব রোগ হলে চালতা গাছের শুকনা ছালের গুঁড়া এক গ্রাম চিনি বা মিসরীর গুড়া এক চামচ, আধ কাপ সামান্য গরম পানি নিতে তাতে সব উপাদান মিশিয়ে দিনে একবার খেলে সর্দি, কাশি ও কফ নিরাময় হয়।

১০. আফিং: সর্দিগর্মি হলো যখন শীত কমে গিয়ে হঠাৎ করে একটু গরম বেড়ে যায় তখন বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল অসুখে অনেকেই আক্রান্ত হয়। অনেকের আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি লেগে যায়। এক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ মিলিগ্রাম আফিং মিসরীর পানিসহ খান, উপকার পাবেন।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ            

১ আয়ূর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্রচার্য, চিরঞ্জীব বনৌষধি‘ খন্ড ১ ও ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা।

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
error: Content is protected !!