আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > জীবনশৈলি > বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক চাপ ও খাপ খাওয়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা

বয়ঃসন্ধিকালে মানসিক চাপ ও খাপ খাওয়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা

বয়ঃসন্ধিকালের মানসিক চাপ

বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর কিশোরীরা সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপে (ইংরেজি: Stress of Teen) পড়ে এবং সেসবে তাদেরকে খাপ খাওয়াতে হয়। এই লেখায় সেসব চাপের পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা করা হবে। বয়ঃসন্ধিকালে খানিকটা আকস্মিকভাবেই কিশোর কিশোরীদের জীবনে পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে অভ্যস্ত হতে হয়। উপরন্তু, পারিবারিক ও সামাজিকভাবেও তারা ভিন্ন রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কারণ শৈশবের শেষে এবং যৌবনের প্রারম্ভের এই সময়টাতে পরিবার ও সমাজ তাদের কাছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সুস্পষ্ট আচরণ প্রত্যাশা করে না। কখনও কখনও তাদের থেকে বালক-বালিকার মত আচরণ প্রত্যাশা করে আবার কখনও প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তির মতো পরিপক্কতা আশা করে।

বয়ঃসন্ধিকালের দোটানা পরিস্থিতিতে কিশোর কিশোরীরা প্রায়শই মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে। শারীরিক, মানসিক, আচরণিক, সামাজিক, পারিবারিক এ পরিবর্তনের সাথে তাদের পরিচয় থাকায় তারা অনেক সময় আতংকিত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে ও খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায়। আবার প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে অপরাধবোধ জন্মে। এ অবস্থায় তারা মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়। এতে তাদের পড়াশোনা ও নিজস্ব কাজ বিঘ্নিত হতে পারে। আবার অনেকে শারীরিক পরিবর্তনসমূহের কারণে কুণ্ঠিত ও দ্বিধাগ্রস্থ থাকে। সমাজ থেকে নিজেকে দূরে বা আড়ালে রাখতে চেষ্টা করে। সব কিছু মিলিয়ে বয়ঃসন্ধিকালে কিশাের কিশােরীরা জীবনের এক নতুন ও অপরিচিত পর্যায়ে প্রবেশ করে।

বয়ঃসন্ধিকালে খাপ খাওয়ানো 

বয়ঃসন্ধিকালে সংঘটিত পরিবর্তনসমূহ জীবনের অত্যন্ত স্বাভাবিক কিছু ঘটনা। এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও করণীয় সম্পর্কে জানা থাকলে এ বিশেষ সময়কাল পর্যায়কে সহজভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এ সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে মানসিক প্রস্তুতি নেয়া যায়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয় না। বয়ঃসন্ধিকালের যাবতীয় পরিবর্তন ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য করণীয়গুলো হলো

আরো পড়ুন:  মানসিক স্বাস্থ্য এবং ক্লান্তি বা অবসাদ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা

ক. মা-বাবা, বড় ভাই-বোন বা কাছের মানুষের সাথে আলোচনা করে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পরামর্শ ও সাহায্য নেয়া যেতে পারে। এতে প্রাথমিক সংকোচ কেটে যাবে এবং পরিবর্তনসমূহকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি হবে। 

খ. এ সময় তীব্র আবেগ কাজ করে। অভিভাবকদেরও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদেরও সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। সেই সাথে কিশোর-কিশোরীদেরও নিজের আবেগ ও খিটখিটেভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে। 

গ. বয়ঃসন্ধিকাল এমন একটা সময় যে সময় কিশোর-কিশোরীরা সহজেই অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে। কারণ এ সময় পরিবারের মানুষের চেয়ে অনেকসময় পরিচিত অপরিচিত বন্ধু-বান্ধবকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। তাই, নিজেকে সঠিক ও সুন্দরভাবে চালিত করার জন্য ভালো ভালো বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এতে মন প্রফুল্ল থাকবে ও মানসিক চাপ প্রশমিত হবে।

বয়ঃসন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীরা নানা ধরনের মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়। অনেক সময় তারা নিজেদের ভেতর যাবতীয় পরিবর্তন উপলব্ধি করে আতংকিত ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে পরিবারের সদস্যদের সাথে বিরক্তি ও মেজাজ প্রকাশ করে। আবার আশেপাশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে হতাশা ও অপরাধবোধে ভোগে। সবকিছু মিলিয়ে তারা যে মানসিক চাপ অনুভব করে তাতে তাদের পড়াশোনাসহ অন্যান্য কাজ ব্যাহত হতে পারে। এসব কিছু থেকে বাঁচতে তারা নিজেকে গুটিয়ে নেয় ও আড়ালে থাকার চেষ্টা করে। এ ধরনের নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, সবারই দায়িত্ব রয়েছে। সবার সহযোগিতায় এবং নিজেকে সুপথে চালিত করার ইচ্ছা থাকলে বয়ঃসন্ধিকালের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের খাপ খাওয়ানো কঠিন নয়। এ সময় বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা, খেলাধুলা করা ইত্যাদি সৃজনশীল কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখলে সহজেই মানসিক চাপ কাটিয়ে প্রফুল্ল থাকা যায়।

আরো পড়ুন:  খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ এবং খাদ্যে বিষক্রিয়া রোধ করবার কয়েকটি সাধারণ সতর্কতা

আলোকচিত্রের ইতিহাস: লেখায় ব্যবহৃত ছবিটি N. Renaud-এর তোলা একটি আলোকচিত্র যা উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেয়া হয়েছে।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page