আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > জীবনশৈলি > মাথার যন্ত্রণা দূর করা বা কমানোর ঘরোয়া সহজ দশটি উপায়

মাথার যন্ত্রণা দূর করা বা কমানোর ঘরোয়া সহজ দশটি উপায়

মাথার যন্ত্রণা

মাথার যন্ত্রণা বা মাথা ব্যথা (ইংরেজি: Headache) নানা কারণে হতে পারে এবং এই মাথা ব্যথা খুব সহজে দূর করা যেতে পারে। সর্দি বসে গিয়ে বা ঠাণ্ডা লেগে মাথার যন্ত্রণা হতে পারে। ব্যথা তীব্র বা হালকা যাই হোক না কেনো সেটা শারীরিকভাবে অসুস্থতা তৈরি করে। এই যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পেতে কিছু ঘরোয়া ও ভেষজ ঔষধের মাধ্যমে নিস্তার পাওয়া যাবে।

. মচকুন্দ: যেখানে বায়ু (মস্তিষ্কের) শ্লেষ্ম কতৃক অবরুদ্ধ হয়ে মাথায় যন্ত্রণা হয়, সেখানে মচকুন্দ ফুল একটা কাঁচা অথবা শুকনা যেটাই পাওয়া যাক না কেনো, সেটা জলে বেটে একটু চিনি মিশিয়ে সরবত করে খেলে যন্ত্রণার উপশম হয়। তাছাড়া ওই ফুল বেটে কপালে লাগিয়ে দিলে আরও ভাল হয়।

২. সেগুন: রক্তগতির দ্রুততা ছাড়া হয় না। এক এক সময় এমন যন্ত্রণা হয় যেন মাথা কুটতে ইচ্ছে করে। এক্ষেত্রে সেগুন কাঠের গুড়া জল দিয়ে বেটে কপালে প্রলেপ দিলে যন্ত্রণার উপশম হয় এবং ঘুমের আমেজও আসে।

৩. স্বর্ণচাঁপা: যে মাথা ধরাটা শ্লেষ্মার বিকারজনিত সেই ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে। স্বর্ণচাঁপা গাছের ছাল চূর্ণ ৫০০ মিলিগ্রাম মাত্রায় ঈষদুষ্ণ জলসহ সকালে ও বৈকালে দু’বার খাওয়াতে হবে। এর দ্বারা ওই শ্লেষ্মাটা ঝরে গিয়ে মাথা ধরা সেরে যাবে।

এছাড়াও বায়ু ও শ্লেষ্মার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মাথার যন্ত্রণায় কষ্ট দিচ্ছে, এক্ষেত্রে চাঁপা ফলের মিহি চূর্ণ তিল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করতে হবে, এর দ্বারা ওই যন্ত্রণার উপশম হবে। কিছুদিন ব্যবহার করলে ওটা সেরে যাবে।

৪. ঝিঙা: ঝিঙে ফলের রস (পাকা নয়) ২। ৩ ফোটা করে নাকে টেনে নিলে এবং সেই সঙ্গে ২ চা-চামচ ক’রে রস খেলে (একটু, গরম করে ৭/৮ চা-চামচ জল মিশিয়ে) শ্লেম্মা বেরিয়ে গিয়ে যন্ত্রণাটা কমে যাবে।

আরো পড়ুন:  ফোড়া সারানোর ১৬টি উপায় এবং ভেষজ উপাদান ব্যবহারের নিয়ম

৫. মহুয়া: সে যে কোন কারণেই মাথায় যন্ত্রণা হোক, মহুয়া বীজের তেল মালিশ করলে যন্ত্রণার উপশম হবে।

৬. কালো জিরা: মাথায় সর্দি বা শ্লেষ্মা বসে গেলে কালজীরে বেটে কপালে প্রলেপ দিলে এবং মিহি চূর্ণের নস্য নিলে শ্লেষ্মা তরল হয়ে ঝরে পড়বে।

৭. রক্তচন্দন:  এই যন্ত্রণা যদি কোনো বিশিষ্ট কারণে না হয়, তাহলে রক্তচন্দন কাঠ ঘষে কপালে লাগালে কমে যায়।

৮. বকুল: যেখানে কফের সংযোগ থাকবে সেখানেই কেবল কাজ হবে এই পদ্ধতি। বকুল ফুলের গুঁড়োর বা চূর্ণ আট ভাগের এক ভাগ  ফটকিরির গুঁড়ো মিশিয়ে রেখে দিতে হবে, যাদের মাঝে মাঝে সর্দি বসে মাথায় যন্ত্রণা হয়, তাঁরা এই গুঁড়োর নাস্যিটা ব্যবহার করবেন। তাহলে মাথার যন্ত্রণা সেরে যাবে।

৯. কুল: চক্রদত্ত আর একটি মুষ্টিযোগ লিখেছেন কোনো আগন্তুক কারণে, যেমন খুব রৌদ্র লাগে, আগুনের তাপ লাগা, হঠাৎ জ্বর আসছে, এই রকম ক্ষেত্রে মাথায় যন্ত্রণা উপস্থিত হয়, সেখানে কুলের পাতা ও কচি ডগা বেটে প্রলেপ দিলে ঐ যন্ত্রণার উপশম হবে। তবে বর্তমান যুগে এটা করার মানসিকতা কয়জনেরই বা হবে?

১০. নিসিন্দা: যাঁদের প্রায়ই নাক বন্ধ হয়ে যায় অথবা সান্নিপাতিক দোষে গাল, গলা ও কর্ণমূলের ব্যথায় কষ্ট পান, তাঁরা এই নিসিন্দার পাতা শুকিয়ে বালিশের মতো করে মাথায় দেবেন।

সতর্কীকরণ: ঘরে প্রস্তুতকৃত যে কোনো ভেষজ ওষুধ নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করুন।

তথ্যসূত্রঃ         

১ আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য, চিরঞ্জীব বনৌষধি‘ খন্ড ১ ও ২, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা।

Dolon Prova
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।

Leave a Reply

Top
error: Content is protected !!