আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য > রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাকিনী লড়েছেন সফোক্লিসের নায়িকা এন্টিগনি

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাকিনী লড়েছেন সফোক্লিসের নায়িকা এন্টিগনি

সফোক্লিসের (৪৯৬-৪০৬ খৃঃ পূঃ) নায়িকা এন্টিগনির হাতে কোনো পতাকা ছিল না। না, নাট্যকার সফোক্লিস বিদ্রোহে বিশ্বাস করতেন না। বিধান সে যারই হোক না কেন— বিধির কিংবা রাষ্ট্রের—তাকে মেনে না নিয়ে উপায় কি? মানতে হবে, মানতে গেলে দুঃখ পাবে, তবু মানা ছাড়া গত্যন্তর নেই। এই ছিল তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি।

কিন্তু তার এই নায়িকাটি মানছে না, মানবে না। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে সে একাকী। পরিণতি যে কী তা সে জানে, তবু পেছপা হয় না। তাকে দাঁড়াতেই হয়। কেননা তার ভেতরে তাড়া আছে বিবেকের। যদিও পতাকা নেই, অস্ত্র নেই, সৈন্য নেই সঙ্গে। একাকী দাঁড়িয়েছে এই কিশোরী, বিবেককে সম্বল করে।

এন্টিগনি রাজকন্যা। তার পিতা ইডিপাস রাজা ছিলেন থীবির, কিন্তু এখন নেই। রাষ্ট্র এখন অন্যের হাতে । ক্রীয়নের হাতে। সম্পর্কে ক্রীয়ন হচ্ছে এন্টিগনির আপন মামা। নতুন রাজা ক্রীয়ন যে জোর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নিয়েছে তা নয়। ক্ষমতায় মোটেই তার আগ্রহ ছিল না। এড়াতে পারলে খুশি হতেন; গায়ে পড়ে রাষ্ট্রের বোঝা নিতে যায় কোন মূর্খে, বলেছেন ক্রীয়ন । কিন্তু এড়াতে পারেন নি, দায়িত্ব এসে পড়েছে কাঁধে। আর এসে যখন পড়লই তখন পালন করতে তো হবেই। ক্রীয়ন ভীত নন রাজদায়িত্ব বহনে।

একেবারে রাজার মতো আচরণ তাঁর। রাজার কর্তব্য রাষ্ট্রকে রক্ষা করা, শাস্তি দেওয়া অপরাধীকে, দৃষ্টান্ত তুলে ধরা ভবিষ্যত অপরাধীদের জন্য। এ-কাজ করতে গিয়ে রাজা নিজেই আটকা পড়ে গেছেন নিজের হুকুমের শক্ত জালে। নড়চড়ের কোনো উপায় নেই।

জনমত নয়, জনমতের তোয়াক্কা করলে তো চলবে না। জনতার মুখের দিকে তাকিয়ে আইন রদবদল করতে গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। রাজার নিজের খেয়ালখুশিতেও আইন বদলাবে না। আইন হচ্ছে নৈর্ব্যক্তিক, তাকে হতে হবে সর্বজনীন; আইনের প্রয়োগে কারো না কারো ক্ষতি তো হবেই, কিন্তু সেই আর্তনাদ কিম্বা বিক্ষোভে কান দিলে তো রাষ্ট্রশাসন যাবে বিকল হয়ে।

এই মুহূর্তে দেখা যাচ্ছে প্রতিপক্ষ অপর কেউ নয়। রাজা ক্রীয়নের আপন বোন হচ্ছেন জোকাস্টা, প্রতিপক্ষ হচ্ছে সেই জোকাস্টার কনিষ্ঠ কন্যা এন্টিগনি। এন্টিগনির সঙ্গে আর কেউ নেই, কিন্তু আবার আছেও। প্রচ্ছন্নভাবে আছে ক্রীয়নের আপন পুত্র হিমোন। হিমোন থাকলে হিমোনের মাতাও থাকবে, জানা কথা। কিন্তু সামনে এন্টিগনিই, একাকী । সে আইন মানবে না। না-মানলে প্রাপ্য শাস্তি তাকে পেতেই হবে। এ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। 

গ্রীক উপকথায় এবং সফোক্লিসের নাটকে দ্বন্দ্বটা এখানেই। রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের দ্বন্দ্ব, রাষ্ট্রের সঙ্গে বিবেকের বিরোধ। ক্রীয়ন হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, এন্টিগনি বিবেকের । রাজার হুকুম হচ্ছে এই যে, এন্টিগনির ভাই পলিনাইসিজকে সমাহিত করা যাবে না। ওই যুবক ছিল রাষ্ট্রদ্রোহী, বহির্শক্রর সহায়তায় দখল করে নিতে চেয়েছিল সে নগর-রাষ্ট্র থীবিকে। আঘাত হেনেছিল সে নগরের সাত দরজায়, এক সঙ্গে। সেই রাষ্ট্রদ্রোহীকে প্রতিহত করা হয়েছে। নিহত হয়েছে পলিনাইসিজ। লাশ পড়ে আছে তার নগর-প্রাকারের বাইরে । থাকবে সেখানেই। শেয়ালে টানবে, কুকুরে খাবে, খুবলে নেবে শকুনে। আইন এটাই, রাষ্ট্রদ্রোহীর মৃতদেহের সমাহিতকরণ আইনবিরুদ্ধ।

আরো পড়ুন:  Hope in Evolution, or the Replacement of Man by Superman

কিন্তু এন্টিগনি বলছে, তা হবে না। রাজার কাজ রাজা করেছে, নিষিদ্ধ করেছে মৃতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন; কিন্তু এন্টিগনি তার নিজের যা কর্তব্য তাই করে যাবে। অবশ্যই। তার ভাই মারা গেছে, কিভাবে মারা গেছে সেটা প্রশ্ন নয়, মারা গেছে এটাই সত্য। এই ভাইয়ের মৃতদেহকে সে সমাহিত করবে, এ তার মানবিক কর্তব্য। রাষ্ট্রের আইন যেমন রাজার কাছে সত্য, ভ্রাতার প্রতি ভালোবাসা তেমনি সত্য ভগ্নির কাছে। রাজার আছে সৈন্য-সামন্ত, ভগ্নির আছে বিবেক; এন্টিগনি তার বিবেক নিয়েই লড়বে, রাজার বিরুদ্ধে। আসলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই। | কথাটা ভয়ঙ্কর । শুনতেও বুক কাঁপে। এন্টিগনির আপন বোন ইসমিনি, বয়সে বড়; সে তো শুনেই অস্থির। বলে কী এই মেয়ে! একাকী দাঁড়াবে রাজার বিরুদ্ধে? শেষ হয়ে যাবে তো! সন্ত্রস্ত বোনটি বোঝাতে চায় এন্টিগনিকে। বলে শান্ত হও, বিপদ ডেকে এনো না। তোমাকে তো হত্যা করা হবে, তুমি যদি ওপথে যাও। এন্টিগনি শোনে না। তার ভয় নেই, ডর নেই। তার কাজ সে করবেই। যে-কোনো মূল্যে।

২.

পলিনাইসিজ রাষ্ট্রদ্রোহী। আসলে তাই কি-না সে নিয়ে তর্ক চলে। কেননা রাষ্ট্র তো আসলে তাদেরই, ওই বংশেরই। তার পিতা ইডিপাস রাজা ছিলেন এই রাজ্যের। অতি নির্মম যন্ত্রণা ভোগ করে রাজা হয়েছিল ইডিপাসের জ্যেষ্ঠ পুত্র এটিওক্লিজ। দুই ভাইয়ের মধ্যে চুক্তি ছিল এই রকমের যে, বড় ভাই ছোট ভাইকে রাজত্ব ছেড়ে দেবে এক বছর পরে। কিন্তু দেয় নি। অনেকেই দেয় না, এই রাজাও দিলো না। তখন বঞ্চিত কনিষ্ঠ ভ্রাতা বাইরের শক্তির সাহায্যে আক্রমণ করলো থীবিকে ! নগর-প্রাকারের দ্বারে দ্বারে যুদ্ধ, বিস্তর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা। সেই ক্ষতি এড়ানোর জন্য ঠিক হলো সামনা-সামনি যুদ্ধ হবে দুই ভাইতে। যে জিতবে নগর তারই। দুই ভাই, জ্যেষ্ঠ এটিওক্লিজ ও কনিষ্ঠ পলিনাইসিজ, মুখামুখি হয়েছে একে অপরের। এবং হত্যা করেছে পরস্পরকে। এর পরেই ক্ষমতায় এলেন ক্রীয়ন। ক্ষুমতা তিনি খোঁজেন নি; ক্ষমতা তাকে খুঁজে নিয়েছে।

রাজা ক্রীয়ন জ্যেষ্ঠভ্রাতার পক্ষে; কেননা যেভাবেই হোক সে-ই ছিল ক্ষমতায়। রাজত্বে কনিষ্ঠ ভ্রাতা পলিনাইসিজের অধিকার ছিল ঠিকই, কিন্তু অধিকার আদায়ের ব্যাপারে তার কাজটা ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতার, সে বাইরে থেকে সৈন্য নিয়ে এসে দখল করতে চাইছিল থীবিকে। তাই উভয়েই যদিও মৃত, তবু মৃত্যুর পরেও তাদের প্রাপ্য সমান সমান হতে পারে না। ক্ষমতাসীন ভাই পাবে রাষ্ট্ররক্ষকের সম্মান; তাকে সমাহিত করা হবে; এবং হয়েছেও। কিন্তু রাষ্ট্রদ্রোহী পলিনাইসিজকে কিছুকেই সমাহিত করা যাবে না। কেউ যদি সে-কাজ করতে যায় তবে তার শাস্তি হবে মৃত্যু। এই ছিল রাজার হুকুম। আইনানুগ । কেউ যায় নি, শুধু এন্টিগনি গেছে। রাষ্ট্রদ্রোহী যুবকের মরদেহ পাহারা দিচ্ছিল যে-সান্ত্রী সে দৌড়ে এসে খবর দিলো রাজ-দরবারে যে ভীষণ কাণ্ড ঘটে গেছে, অগোচরে কে বা কারা যেন সমাহিত করে রেখে গেছে রাষ্ট্রদ্রোহীর মৃতদেহ। রাজা বললেন, খুঁজে বের করো অপরাধীকে, ধরে নিয়ে এসো আমার সামনে, না যদি পারো তবে শাস্তি হবে তোমাদেরই।

আরো পড়ুন:  Introduction and summary of the short story Cat in the Rain

সান্ত্রী ছুটে গেছে। মাটি সরিয়ে ফেলে লাশ টেনে বের করেছে, ফেলে রেখেছে খোলা জায়গায়, আগের মতো করে। সদা সতর্ক প্রহরা। দেখবে কেউ আসে কি না।

ঠিকই এলো। দেখা গেলো কে একজন এসেছে। এসে একাকীই আয়োজন করছে শেষকৃত্যের। মৃতদেহটিকে ঢেকে দিচ্ছে মাটি দিয়ে।

সান্ত্রীরা কাছে এসে দেখে অন্য কেউ নয়, রাজকন্যা এন্টিগনিই করছে এই কাজ। সান্ত্রীরা গ্রেপ্তার করলো সেই কিশোরীকে, হাজির করলো রাজার কাছে নিয়ে।

একদিকে দণ্ডধর রাজা, অন্যদিকে আত্মস্বীকৃত অপরাধী এন্টিগনি । দু’পক্ষই অনড়। রাজা তার আইন প্রয়োগ করবেনই, আর এন্টিগনি তো বলছেই যে আইনী কি বেআইনী তা বোঝে না, ওই কাজ সে করেছে, জেনে-শুনেই করেছে। জানে তার জন্য অপেক্ষা করছে মৃত্যু। তবে আর বিলম্ব কেন, তাকে এখনই পাঠানো হোক বধ্যভূমিতে।

ছুটে এসেছে এন্টিগনির ভগ্নি ইসমিনি। বলেছে সেও মরবে, বোনের সঙ্গে। এখন তারও আর ভয় নেই মৃত্যুতে। ছুটে এসেছে রাজা ক্রীয়নের জ্যেষ্ঠ পুত্র হিমোন। বললো, এন্টিগনিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না, এন্টিগনি তার বাগদত্তা। কিন্তু শুধু যে ওই কারণে সে এন্টিগনির পক্ষে তা নয়। এন্টিগনি ন্যায়ের দিকে দাঁড়িয়েছে, এন্টিগনি ভাইয়ের যে অবিচ্ছেদ্য নাগরিক অধিকার-মৃত্যুর পরে সমাহিত হবার অধিকার—তার পক্ষে দাঁড়িয়েছে; তাই সে এন্টিগনিকে সমর্থন করে। কিন্তু রাজা অনমনীয়। এন্টিগনি অপরাধ করেছে, শাস্তি তাকে পেতেই হবে।

এন্টিগনির অপরাধ কিন্তু একটি নয়, দু’টি। একে সে বিদ্রোহী, তদুপরি সে নারী। সফোক্লিসের নাটকে প্রতিষ্ঠিত আছে সেই বাস্তবতা। তাই তাকে শাস্তি পেতে হবে বিশেষ রকমের। সে মরবে, কিন্তু তার নারী-রক্ত যাতে অপবিত্র না করে পৃথিবীর মাটি সেটাও দেখা চাই। সে জন্য শাস্তি হলো এই যে, এন্টিগনিকে ঘিরে রাখা হবে দেয়াল তুলে, দেয়ালের সেই অবরোধে দিনে দিনে তিলে তিলে শুকিয়ে মারা যাবে সে।

ওই পরিণতি মেনে নেয় নি এন্টিগনি। অনাহারে মরার আগে নিজেই হত্যা করেছে নিজেকে। মেনে নেয় নি রাজপুত্র হিমোন। পিতার অজান্তে ছুটে গেছে সে এন্টিগনির গুহায়। সেখানে প্রেয়সী এন্টিগনিকে মৃত দেখে আর বিলম্ব করেন নি, এন্টিগনির মৃতদেহ থেকে কাপড় খুলে নিয়ে সেই কাপড়ে নিজেকে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনা সেখানেই থেমে থাকে নি। খবর শুনে রানী ইউরিডাইস, ক্ৰীয়নের স্ত্রী, হিমোনের মাতা, হত্যা করেছেন নিজেকে।

আরো পড়ুন:  হোমারের হেলেন অন্য সবার কাছে শুধুই অগ্নিশিখা, ধ্বংসের দূত, প্রেয়সী; কিন্তু মাতাও

গ্রীকসাহিত্যে বন্ধুত্বের ছবি অনেক আছে, কিন্তু অল্পবয়স্ক স্ত্রী-পুরুষের প্রেমের ছবি বিরল, হিমোন ও এন্টিগনির প্রেম অল্পকিছু নিদর্শনের একটি, এবং সেজন্যই তা বিশেষভাবে উজ্জ্বল।

৩.

এইভাবে শেষ ওই নাটকের এবং এন্টিগনির কাহিনীর। এন্টিগনির জন্য পরিচালিকা শক্তি ছিল তার বিবেক, বিবেকের তাড়নায় কর্তব্য পালন করতে গিয়ে চলে গেছে সে অল্পবয়সে। দু’হাজার বছর পরে আর এক কিশােরীর কাহিনী শুনেছি আমরা। ফ্রান্সের জোন অব আর্কের। জোন রাজকন্যা নয়, সে রাখালকন্যা। পতাকা ছিল তার হাতে, দেশপ্রেমের এবং রাষ্ট্রদ্রোহের । কিন্তু এন্টিগনি জোন অব আর্ক থেকে স্বতন্ত্র। কোনো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে দাঁড়ায় নি সে; দাঁড়িয়েছে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। তার ঘটনা দেশপ্রেমিক অনুপ্রেরণার নয়, বিবেকের তাড়নায়। কিন্তু সাহসে ওই দুই কিশোরী একই রকমের। কর্তব্য পালনে তাদের অঙ্গীকারও ছিল অভিন্ন।

ক্রীয়নকে আমরা কী বলবো? দুর্বৃত্ত? না, দুর্বৃত্ত নয়। গ্রীক নাটকে দুর্বৃত্ত বলে কেউ নেই, দুর্বৃত্তের আবির্ভাব আরো পরের ঘটনা। ক্রীয়নও ন্যায়ের পক্ষেই দাঁড়িয়েছিলেন। তার ন্যায় রাজার ন্যায় । রাষ্ট্রের স্বার্থ দেখছেন, রাষ্ট্রদ্রোহীকে শাস্তি দেওয়া তাঁর কর্তব্য। তাই ভগ্নিপুত্র পলিনাইসিজকে তিনি শাস্তি দেবেন একভাবে; ভগ্নিকন্যা এন্টিগনিকে আরেকভাবে। পুত্র যদি বিদ্রোহ করে তবে তাকেও শাস্তি দিতেন, প্রয়োজন হলে। কিন্তু পুত্র বিদ্রোহ করে নি, আত্মহত্যা করেছে। 

আর এন্টিগনি তো অবশ্যই ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে। তার ন্যায় রাজার নয়, ভগ্নির ন্যায়।

অন্যায় আসলে রাজাও করছেন না, এন্টিগনিও করছে না। তারা উভয়েই সৎ ও আন্তরিক; কিন্তু উভয়েই খণ্ডিত। আপোস নেই, মনোভাব নেই সমঝোতার। খণ্ডিত দুই ন্যায়ের মধ্যে সংঘাত বেধেছে, সেই সংঘাতে মৃত্যু ঘটেছে এন্টিগনির, মৃত্যু ঘটেছে রাজপুত্র হিমোনের, রানী ইউরিডাইসের। দুর্ভোগের করুণ সাক্ষী হিসাবে বেঁচে রয়েছেন রাজা ক্রীয়ন। রাজা ঠিকই, কিন্তু মানুষের ভগ্নাবশেষ মাত্র।

‘বোন, তুই ভুলে যাসনে যে আমরা মেয়ে’, জ্যেষ্ঠা ভগিনী ইসমিনি বলেছে কনিষ্ঠ এন্টিগনিকে। এন্টিগনি ভুলেছিল সে-সত্য। বস্তুত তার বিদ্রোহ একটি নয়, দু’টি। ভগ্নি হিসেবে যেমন, তেমনি নারী হিসাবে। নারীর অধস্তনতা মানতে সম্মত ছিল না এন্টিগনি। তার বাণী দু’টি; একটি বলছে বোন হিসাবে আমি আমার কর্তব্য করবো; অপরটি বলছে, নারী বলে আমি যে অধস্তন তা মানবো না। এন্টিগনি নারীবাদী নয়, বিদ্রোহিনীও নয়। তবু সে দু’টিই। নিজের অজ্ঞাতে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ধ্রুপদী নায়িকাদের কয়েকজন গ্রন্থের এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর উক্ত বইয়ের ২৫-২৮ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে। বইটি ঢাকা থেকে প্রকাশ করে বিদ্যাপ্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০০০-এ। অশোক পুস্তকালয়, এপ্রিল ২০১১, কলকাতা থেকে বইটি পুনর্মুদ্রিত হয়। আমরা এই লেখাটি অশোক পুস্তকালয় প্রকাশিত সংস্করণ থেকে রোদ্দুরে ডট কমে প্রকাশ করেছি। গ্রন্থে প্রবন্ধটির নাম ছিল “রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাকিনী”। বর্তমান শিরোনামটি রোদ্দুরের দেয়া।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
"জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি" এবং "বাঙালীর জাতীয়তাবাদ" গ্রন্থের লেখক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একজন মার্কসবাদী তাত্ত্বিক। বাংলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য এবং প্রগতিশীল মার্কসবাদী আন্দোলনে প্রভূত অবদান রেখে এই লেখক এখন জীবন্ত কিংবদন্তি। ২৩ জুন, ১৯৩৬ তারিখে জন্মগ্রহণ কারী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাংলাদেশের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page