আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য > জন মিলটনের “অন হিজ ব্লাইন্ডনেস” কবিতাটির বঙ্গানুবাদ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা

জন মিলটনের “অন হিজ ব্লাইন্ডনেস” কবিতাটির বঙ্গানুবাদ ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা

অন হিজ ব্লাইন্ডনেস

জন মিলটনের একটি পরিচিত কবিতা হচ্ছে অন হিজ ব্লাইন্ডনেস (ইংরেজি বানানে: On His Blindness)। কবিতাটি কবি ও লেখক অনুপ সাদি অনুবাদ করেন ২৫ আগস্ট ২০২০ তারিখে। কবিতাটি বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্য। এখানে লেখক জন মিলটনের পরিচিতিসহ কবিতাটির বাংলা ও ইংরেজি ভাষ্য প্রদান করা হলো।

“অন হিজ ব্লাইন্ডনেস” হচ্ছে ইংরেজ কবি জন মিলটনের অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত একটি বিখ্যাত সনেট। কবি জন মিলটন যে কয়েকটি সনেট লিখেছিলেন তার মধ্যে অন হিজ ব্লাইন্ডনেসই সেরা। এই সনেটের মূলবিষয় হলো মিল্টনের অন্ধত্ব নিয়ে উদ্বেগ। তিনি চিন্তিত যে তাঁর জীবনকালের অর্ধেক অতিক্রান্ত হবার আগেই তিনি অন্ধ হয়ে গেছেন। তাঁর কাব্যিক প্রতিভা নিরর্থক হয়ে উঠেছে, যদিও তাঁর আত্মা সেই প্রতিভা দিয়ে সৃষ্টিকর্তার সেবা করার জন্য আরও বেশি নত। তিনি আশঙ্কা করছেন যে তিনি যদি তাঁর সেবা না করেন তবে ঈশ্বর তাঁকে উপহাস করতে পারেন। কিন্তু যখনই তিনি এ জাতীয় প্রশ্নে চিন্তা করেন তখন তার ধৈর্য্যের মনোভাব তাঁকে জিজ্ঞাসা করে যে ঈশ্বর কি কোনও অন্ধ লোকের কাছ থেকে সেবা প্রার্থনা করেন এবং এই থেকে অবিলম্বে তার নিজের প্রশ্নের উত্তরও তিনি পেয়ে যান। এটি বলে যে ঈশ্বরের নিজের উপহার বা মানুষের সেবার দরকার নেই। ঈশ্বরের অবস্থান রাজার মতো। হাজার হাজার ফেরেশতা ঈশ্বরের আদেশে বিশ্রাম ছাড়াই স্থল ও সাগরের উপর দিয়ে চলাচল করছে। মিলটনের ধৈর্যের মনোভাব মানবজাতিকে জানায়, যারা দাঁড়িয়ে থাকে আর প্রতীক্ষা করে তারাই সেবক।

মিলটনের সংক্ষিপ্ত জীবনী

জন মিলটন বা জন মিল্টন (ইংরেজি: John Milton, ৯ ডিসেম্বর ১৬০৮ – ৮ নভেম্বর ১৬৭৪) ছিলেন একজন ইংরেজ কবি এবং বুদ্ধিজীবী, যিনি ইংল্যান্ডের কাউন্সিল অফ স্টেটের অধীনে এবং পরে অলিভার ক্রমওয়েলের অধীনে একজন সরকারী কর্মচারী। সংস্কৃতি ও শিক্ষা চর্চার এক উপযোগী পরিমণ্ডলে বিকশিত হয়েছিল জন মিলটনের ইংরেজি সাহিত্য প্রতিভা। তিনি ধর্মীয় উৎসাহ এবং রাজনৈতিক উত্থানের সময়ে লিখেছিলেন, এবং তাঁর মহাকাব্যিক কবিতা প্যারাডাইস লস্ট (১৬৬৭) এর জন্য সবচেয়ে তিনি বেশি পরিচিত। প্যারাডাইস লস্ট অমিত্রাক্ষর ছন্দে লিখিত, এবং ইউরোপীয় পুঁজিবাদ উত্থানকালের রচিত সাহিত্যের অন্যতম মহত রচনা হিসাবে বিবেচিত।

আরো পড়ুন:  ভার্জিলের মহাকাব্য ‘ঈনিদ’-এর নায়িকা তরুণী বিধবা ডিডোর পীড়িত হৃদয়

মূল নিবন্ধ: জন মিলটন ছিলেন একজন ইংরেজ কবি, বুদ্ধিজীবী এবং সরকারি কর্মচারী

মিলটনের অনুশীলনের বিষয়গুলি ছিলো লাতিন, গ্রীক ও হিব্রু ভাষাসমূহ, ধ্রুপদী অলংকারবিদ্যা (Classical Rhetoric) প্রভৃতি। ১৬২১-এ স্নাতক ও ১৬৩২-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন মিলটন। কেমব্রিজে অধ্যয়নকালীনই তিনি অধিকাংশ লাতিন কবিতা, ‘অন দা ডেথ অব এ ফেয়ার ইনফ্যান্ট, (On the Death of a Fair Infant) ও ‘অ্যাট এ ভেকেশান একসারসাইজ’, ( At a Vacation Exercise) রচনা করেছিলেন। যদিও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ কবেছিল ‘অন দি মর্নিং অব ক্রাইসটস নেটিভিটি (On the Morning of Christ’s Nativity) ও ‘অন শেকসপীয়ার’ (On Shakespeare) কবিতা দুটি।
কেমব্রিজ পরিত্যাগেব পর মিলটন তাঁর বাবার সঙ্গে ১৬৩২ থেকে প্রায় ছয় বছর কাটান বাকিংহামশায়ারের হটনে। ধ্রুপদী সাহিত্য অনুশীলনেব মধ্য দিয়ে এই সময় মিলটন সবরকমে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একজন বড় মাপের কবি হয়ে ওঠার অভিপ্রাযে। এরই মধ্যে রচিত হয় ‘লা অ্যালেগ্রো’ (L, Allegro), ‘ইল পেনসেরোসো’ (Il Penseroso), ‘আরোডেস’ ( Aroades ), ‘কোমাস’ (Comus) ও “লিসিডাস’(Lycidas)।

মিলটনের “অন হিজ ব্লাইন্ডনেস” কবিতার বাংলা অনুবাদ

আমার দৃষ্টি কীভাবে হারায় যখন আমি বিবেচনা করি,
অন্ধকার বিস্তৃত জগতে আমার আধেক কাল ফুরাবার আগে,
আমার কাব্য প্রতিভা কেবল মৃত্যুতেই লুকাতে পারে
যা এখন আমার কাছে অকেজো হয়েছে, যদিও আমার হৃদয় আরো নত
সেই প্রতিভা দিয়ে আমার সৃষ্টিকর্তার সেবা করতে, এবং তুলে ধরি
তাঁর কাছে আমার সত্য বিবরণ, যাতে তিনি আমাকে ভর্তসনা না করেন।
“ঈশ্বর কি অন্ধ হয়ে গেছেন, আমাকে অন্ধ করে”
আমি হাবা হয়ে জিগ্যেস করি। ধৈর্য থামায়
সেই বিড়বিড় জিজ্ঞাসা, শীঘ্র জবাব দেয় “ঈশ্বরের দরকার নেই
মানুষের কাজ বা নিজের উপহার। সেই ভাল
যে নিজের লঘু ভার নিজেই বহন করে, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। তাঁর অবস্থান
রাজকীয়: হাজার হাজার ফেরেশতা ঈশ্বরের আদেশে
বিশ্রাম ছাড়াই স্থল ও সাগরের উপর দিয়ে চলাচল করছে।
যারা দাঁড়িয়ে থাকে আর প্রতীক্ষা করে তারাও সেবক।

আরো পড়ুন:  জন মিলটন ছিলেন একজন ইংরেজ কবি, বুদ্ধিজীবী এবং সরকারি কর্মচারী

কবিতাটির ইংরেজি ভাষ্য

When I consider how my light is spent,
Ere half my days, in this dark world and wide,
And that one Talent which is death to hide
Lodged with me useless, though my Soul more bent
To serve therewith my Maker, and present
My true account, lest he returning chide;
“Doth God exact day-labour, light denied?”
I fondly ask. But patience, to prevent
That murmur, soon replies, “God doth not need
Either man’s work or his own gifts; who best
Bear his mild yoke, they serve him best. His state
Is Kingly. Thousands at his bidding speed
And post o’er Land and Ocean without rest:
They also serve who only stand and wait.”

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page