আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য > কবিতা > গেরুয়া গরুর দাসত্ব

গেরুয়া গরুর দাসত্ব

গেরুয়া

আমাদের বাড়ির এক লেজহীন বানর জিগাইল ‘আমি জানতে চাই’
অথচ সক্রেতিসের কথার সাথে মোরগের কথা
কোনোদিনই মিলবে না,
কারণ ভাষাই পরম প্রেম ভাষাই প্রতীক
তোমাকে ভেবেছে যারা সবাই লিখেছে ভাষা
ভাষাই সবার বেড়ে রাজদুলালি
ভাষাই সর্বশ্রেষ্ঠ সর্ব শক্তিশালি
ভাষাই তোমাকে ডাকে অভিজ্ঞতার ঘরে
ভাষাই তোমাকে নেয় রাতদুপুরে
ভাষাই শোনায় রাজপথের গল্প
সিটি বাজানো হকারের বিকল্প
তাঁর যৌনানুভুতি, অন্যান্য ব্যর্থ অনুভুতি।

খুঁড়িয়ে হাঁটা ভিক্ষুক, হাবা শিরোমনি মুর্খ
কুঞ্চিত কেশাগ্রে প্লেটোর প্রেতাত্মা খুঁজে কিছুই পাবে না,
সে বোঝেনি মীরকাশিম দিল্লি শহরে কী কারণে ভিক্ষা করে,
শরৎচন্দ্র কেন রেঙ্গুনে স্বদেশির মঙ্গলচিন্তায় ব্যস্ত,
এইসব সাধারনের তেমন শক্তি থাকে না পুঁজির পোদ্দারিতে;
একালে কেবল শ্রমশক্তি বিক্রি করা যায়,
শ্রমদাসরা শক্তি পাবে তখনই যখন
কোনো রাজা ভাববাদি সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগবে না
কিংবা বলবে না আহা কী সুন্দর দিন কাটাইতাম
দাসমালিকের আমলে
আর জনগন বলবে না ‘কী মজা
নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে অন্যের পদতলে’,
আর এখন চিন্তা ও দায়িত্ব বেড়ে গেছে
এর চেয়ে অনেক সহজ মাথার উপরে ছাতা পেলে
‘রক্ষা করেন বস, আপনেই প্রাচীন ঈশ্বর’।

আমরা কয়েকজন হাসতে পারি, হাসাতে পারি
কাঁদতে বা কথা বলতে বা গান গাইতে পারি
অভিজ্ঞতাকে লিখতে, সঠিক কাজে ব্যস্ত থাকতে পারি
নতুন একটি কবিতার বই তোমাদের হাতে দিতে পারি।

হাঁটতে বের হয়ে আমি দেখেছি
ভারতের মধ্যবিত্ত মানুষ এখন দুধে আলতা রঙে সাজতে বেরোয়
বিউটি পারলারে যায়, এদিক ওদিক তাকায়,
র্স্মাট তরুন তরুনিরা টিশার্ট মিনি স্কার্ট পরে
স্বস্বাধীনতায় ইটিশপিটিশ করে,
তারা গরুর গাড়ির বদলে হাওয়ার গাড়িতে চড়ে,
গরু পূজা করে,
অনুষ্ঠানে বেলুন ওড়ায়, টিভি ক্যামেরায় মুখ দেখে
এই তরুনিরা পুঁজি ও যুদ্ধের সংগে পাল্লা দিয়ে
নিজেদের নিতম্ব, স্তন ও উরুকে সঠিক মাপে তৈরি করে,
এই তরুনেরা মাথাগুলোকে মোটা করে,
তৃপ্তির ঢেকুরের সংগে বের করে কার্বন মনোক্সাইড,
নিজের দম্ভে বিভোর, দখল করে আঞ্চলিক পুকুর নদী, সামুদ্রিক সম্পদ,
তারা হয়ে যায় প্রচলিত গেরুয়াসংঘী মানুষ,
তীব্রভাবে হারিয়ে যায়,
এইসব মধ্যবিত্ত তরুন তরুনিরা
নিজেদের পাছার ভার টানতে পারে না।

আরো পড়ুন:  বিপন্ন জনগণের ইতিহাস
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page