আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > সাহিত্য > কবিতা > বিপন্ন জনগণের ইতিহাস

বিপন্ন জনগণের ইতিহাস

নিজে বাঁচলে সবার বাঁচা হবে
কবার বাঁচলে দেশ বেঁচে যাবে?
কার বাড়িতে সব বিদেশি পাখি
বিদেশি গাছে ভরছে চার আঁখি
নিজে বাঁচা যায় না—তবু বাঁচা
নিজের বাড়ি নিজের দেশে খাঁচা
সন্তানাদি বাঁচার ক্ষীণ আশা
আশা বাঁচে গভীর পোড়া বুকে
আশা বাঁচে স্তালিনও[১] বাঁচে।

এসো তুমি, ফিরে এসো আমার পাড়াগাঁয়
একুশ শতকে কে শ্রীচৈতন্যের[২] কাছে প্রেম কিনতে যায়?

তবু সকাল শিল্পনগরিতে
আগুনঝড়ে ওড়ে তোমার হৃদয় হতে আমার রিক্ত হাতে
শ্রমিক ঘোরে যন্ত্র ঘোরে সাথে;
প্রেম দিয়ে কী শ্রমিকতন্ত্র,
আমার ঘরে আনবে আজিকে ভালোবাসার তরুণ মন্ত্র
প্রেম কী ওড়ে বাঙলাদেশের আকাশে শহরে?

প্রেম পাবি তুই কার কাছে
মুক্তি পাবি কোন ময়দানে
কে তোমাকে শোনায় কবিতা
গল্পে জাগায় কে
ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি জাগবে আবার কবে
কে তোমার টুঁটি চেপে ধরে
কার আক্রমনে কেবা মরে
কোন পথে গেলে মতাদর্শ পাওয়া যায়?
ওখানে প্রজাপতির মতো আমরা যেতে চাই।

দেখছেন, এক নেতা বহুদিন থেকে বোঝাচ্ছেন
গান গল্প, কথায় ও ঈশারায়, ব্যর্থতা ও কান্নায়,
শোনাচ্ছেন প্রজন্মের বাঁকঘোরা,
কেন জনগণ ইতিহাস ও নিজেদের নিয়মিত পোড়ায় জাগায়,
কেন তারা প্রতিবাদীকে মহত মনে করে,
কেন কেউ কেউ
মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেয়
কেন দেশে দেশে কোন্দল ও যুদ্ধ
নিজেদের তৈরি রাষ্ট্রকে ভাঙতে কেন এতো রক্ত যায়,
একটি রাষ্ট্র ১৫ টুকরো হলেও কেন ৫ জনও মরে না?

উড়ে এসে কেন দখল হলো অনেক জায়গা
আফ্রিকার জ্যামিতিক মানচিত্র আমাদের উপরে চাপিয়ে দিলো
সেইসব সভ্যেরা
আর আমাদের নেতারা
হিঙসা বিদ্বেষ লোভ ও নকলে গিয়ে
নিজেদের ভুলে গেল
জনগনের উপরে পড়ে রইল নিজেদের লাশ
আর আমাদের স্বাধীনতা শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করে তা
শক্তিধরটির কার্যালয়ের সামনের বিপন্ন বিষন্ন মানুষটির
চোখে চোখ রাখলে টের পাওয়া যাবে।

আরো পড়ুন:  গর্ততত্ত্ব ও সংগ্রাম

টিকা:

১. জোসেফ স্তালিন (১৮ ডিসেম্বর ১৮৭৮ – ৫ মার্চ ১৯৫৩) হচ্ছেন মানবেতিহাসের মহত্তম সাম্যবাদী নেতা ও বিপ্লবী। সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্র নির্মাণের প্রধান ভূমিকা পালনকারী।
২. শ্রীচৈতন্য (১৮ ফেব্রুয়ারী, ১৪৮৬ – ১৪ জুন, ১৫৩৪) বাঙালি সংস্কারক এবং সামন্তীয় বাংলার প্রেমধর্মের প্রচারক, হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালান।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page