মাওবাদ ও জনগণের আমরা

মাও,
তোমার দেশে গিয়ে ব্যাঙ খাওয়া হয়নি আমাদের
আমরা মারা গেছি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে,
একদিন যারা আমাদেরকে চিনে গিয়ে ব্যাঙ খাওয়ার শ্লোগান দিতো[১]
সেই সব মহাভণ্ডেরা এখন তোমার দেশবাসির গুও সানন্দে ভক্ষণ করে,
নিয়মিত বেইজিং সাংহাইয়ে শপিং সারে;
লুটের টাকায় গুলশানে উপশহর গড়ে
আমরা ১৫ বা ২৫ বা ৩৫ কোটি মানুষকে একত্রিত করতে পারিনি
তুমি ৬০ কোটির জন্য একই বৃন্তে শত ফুল ফুটিয়েছিলে
তোমার অজস্র কাজ ছিলো, জনসভা, পথসভা, দলীয় সভা,
সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বাধা দুর করা
সংস্কৃতিকে মেরুদন্ডের উপরে দাঁড় করানো
ক্ষুদ্র কবিতাগুলোকে গোপন পাথরে লিখে রাখা,
অনুশীলনকে শিল্পে রূপান্তর,
কথাকে গান, গানকে বিপ্লব, বিপ্লবকে কবিতা,
কবিতাকে রাজনীতি,
রাজনীতিকে যুদ্ধ,
যুদ্ধকে শান্তিতে পাল্টানো।

শ্রেণি হতে উদ্ভুত আচরনকে পরির্বতনের লড়াইয়ে
তুমি প্রথম যুক্তি বুদ্ধি ও দ্বন্দ্বের মাধ্যমে
বুঝতে চেয়েছিলে এবং উল্টোদিকে আমরা
কী হতে কী করতে গিয়ে এখন চোরাবালি ও কাদায় নিজেরাই ডুবেছি বারবার
দল ভেঙে গোত্র, গোত্র ভেঙে বর্গ, বর্গ ভেঙে গোষ্ঠি, গোষ্ঠি ভেঙে ব্যক্তিতে
রূপান্তরিত হয়েছি অথচ পুরোনো একগুঁয়েমি এখনো ছাড়িনি
আমরা বালুর বাঁধ তৈরি করেছিলাম এবং
শক্তিমানের স্রোতে নিশ্চিহ্ন হয়েছিলাম।

তদুপরি
কেউ কেউ এখনো আছে যারা
তোমার মতো গান গায় এবং কব্জির ব্যথাটুকু সারানোর চেষ্টা করে
আর তাদের কেউবা ড্রাইভার,
চালাতে থাকে জীবিত ও মৃত সব যানবাহন
রক্তাক্ত পরিবহন, পরিবার, সমাজ, রাজনীতি
লিখে রাখে খসড়া কিছু দিনলিপি, নিজেদের ইতিহাস
তাদের সংগে কতিপয় নতুন মানুষের ভাবনা আসে।

যানবাহনের চালকেরা প্রথমে গ্রহণ করতে নিমরাজি থাকে
চালক বন্ধুগন পথ খুঁজে পায়,
তৈরি পথ আর রিক্ত পথ
আর কাটায় পূর্ণ জীবন পরম্পরা
শান্তি কোথায় খুঁজতে গিয়ে বোঝা যায় সংগঠনের মূল্য,
বোঝা যায় নিজেদের মাঠ, শ্লোগান, গান
আর আমাদের অজস্র কথার সংগে
জনগণের একাত্মতা,
সাম্যস্তম্ভ।

আরো পড়ুন:  ‘আধুনিক মানুষের ধারাবাহিক গল্প’ কাব্যগ্রন্থের ই-বই সংস্করণের ভূমিকা

টিকা

১. ‘হো হো মাও মাও চিনে যাও ব্যাঙ খাও’ ছিলো স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রুদের শ্লোগান। বঙ্গ অঞ্চলের জনগণকে যে কয়েকটি দল দাস হিসেবে শত শত বছর নিপীড়ন ও শোষণ করতে চায়, তারা ১৯৬০-১৯৭০’র দশকগুলোতে এই শ্লোগান দিত।

Leave a Comment

error: Content is protected !!