আমরা গণশত্রু পেয়ে গেছি

আমাদের সেলিব্রেটিরা দোলনার মতো স্বপ্নে দোলে
রাজনীতি আর স্বাধীনতাহীন শরীরে যোগাযোগ রাখে এপাশে ওপাশে;
কী চমতকার বেচাকেনা
অবারিত দরজা
পাসপোর্ট ভিসা লাগবে না পন্যের,
বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা বা অর্থ তহবিলে
বেচে দাও
বৌ
বন্ধু
তেল
নুন
আর সকাল
বিকাল
রাত্রি
নীল আকাশ
নদী
আর কাশফুল।

বুকের মধ্যে রাখো বইয়ের ছোট্ট পাতা
অজস্র চুম্বন;

কিনে আনো স্রেফ শেয়ার বাজারের দলিল
শেয়ার কেনো শেয়ার বেচো
ব্যবসা করো নারীপাচারের
গোলামির দালালির,
ব্যবসা করো চলমান ট্রেনের বগির
বেচো মা ও মামানীকে, সংগে বেচো মাতৃভুমিকে।

একুশ শতকের শুন্য দশকের মন্ত্রি
পন্য বিনিময়ে কিংবা গোপনে বেচলো তেল গ্যাস বিদ্যুত বন্দর।
সে এলো, দেখলো, জয় করলো,
শাদাঁত দিয়ে খুবলে খেলো।
চাইলো বহুজাতিক গাড়ি ‘আমি একটি গুড কার চাইছিলাম,
এইটা কি আমার অপরাধ’
আর একজন কহিলো ‘উই আর লুকিঙ কর শত্রুজ’
অন্যজন প্রাইভেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিলো,
‘গাড়িটায় করে কিছু ভালো রক্ষিতা নিয়ে এসো হে
রসালো আর দোলায়মান
যারা
নাচের ছন্দে ছন্দে
শীৎকার
দিতে
জানে’।[১]

বিকেল ফুরিয়ে রাত্রি গড়ালো
মন্ত্রিসাব ঘুরে ঘুরে দেখলেন
নেড়ে চেড়ে বুঝলেন
আহা কী সুন্দর পাছা
একেবারে নতুন মাল
খাসা চিজ
কখনো এরকম পাওয়া যাবে না
আলো আঁধারে
দুলতে দুলতে
কামসূত্রে কামরসে
ডুবে থাকা যাবে
‘যাও ওষুধ নিয়ে এসো’
শক্তি চাই অফুরন্ত
বাঙলা আমার অফুরন্ত তেজি ঘোড়া;
ঘোড়া হয়ে উড়ে চলা পতনের ধারা।

আর
বেমানান সময়ে
আমরা দেশবাসিকে চীৎকার করে বোঝাচ্ছিলাম
‘আমরা গণশত্রু পেয়ে গেছি’।

টিকা

১. একুশ শতকের শূন্য দশক জুড়ে বাংলাদেশে যে ঝড় বয়ে যায় তাতে এসব উদ্ধৃতি মন্ত্রীদের মুখে মশকরাযুক্ত ও খুব স্বাভাবিক ছিল। হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে তারা সংসদে দাঁড়িয়ে অতীতের ধারাবাহিক দাম্ভিকতা দেখাত।

Leave a Comment

error: Content is protected !!