ইথারে খবর আসে ‘কারফিউ, দেখামাত্র গুলি’
প্রেমিক শুধায় ‘প্রেমের কি হবে?’
প্রেমিকা ঘাড় বাঁকা করে বেশ কিছুক্ষণ পরে দেয় সমিল জবাব
‘জীবনবিহীন হৃদয়ের টান লাগে নাক ভালো’
তারপর নিঝুম অন্ধকার ও কথার বিরতি
অনন্তকাল;
মাঝে মাঝে
বিজলির চমক দেখায় বোমারু বিমান ও সতেজ সভ্যতা;
কাদের মৃত্যু দিয়ে কারা যেন সবিরাম ইতিহাস লিখে?
নলখাগড়া ও রাজা রাজড়ার বংশপরম্পরা;
ইতিহাস বিভাগের
ভুঁড়িঅলা এখন অধ্যাপক এমিরিটাস,
পূঁজিবাদ কতোটা এগোলো— গরু খোঁজে গরুর রাখাল,
বহুকাল হতে কৃষক রয়েছে নিশ্চুপ
হা করে তাকিয়ে আছে আকাশে কখন বৃষ্টি ও বোমা নামবে,
সংগ্রামি শ্রমিকবিহীন বাঙলায় চাকারা সব সয়ংক্রিয়,
শুধু সারমেয়র জিভ দিয়ে ক্লান্তির লালা ঝরে,
গলায় বাঁধা ধারাবাহিক পরাধীনতার মতো আঠালো গলাবন্ধ— তিনি প্রভুভক্ত কিনা?
টিয়ার গ্যাসের ঝাঁঝেঁ তোমাকে ডুবিয়ে মেরে অন্ধকারে
সম্রাটের গৃহে ছুঁড়িদের পাজামার গিঁট খোঁজে পুলিশি নাগর,
দ্রৌপদির শাড়ি ওড়ে সংসদের ছাদে,
ভিক্ষুকের ঝোলায় লাফায় বুদবুদের মতো স্বাধীনতার রক্ত
আগুন পাথর ইঞ্জিন ও পুরোনো ডাস্টবিনে
কবিতা খোঁজে বিশুদ্ধ কবিতার কবি।
চিত্রের ইতিহাস: কবিতায় ব্যবহৃত অংকিত চিত্রটি Agustí Salinas Teruel-এর আঁকা। উনিশ শতকে আঁকা এই চিত্রটির নাম মাঠে হালকা খাবার (Merienda en el campo)। শিল্পকর্মটি বর্তমানে Biblioteca Museu Víctor Balaguer-এ সংরক্ষিত আছে। এখানে চিত্রটির বিভিন্ন দিকে সামান্য ছেঁটে ব্যবহার করা হয়েছে।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।