নাগর নদী বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আন্তঃসীমান্ত নদী

নাগর নদী বা নাগর আপার নদী (ইংরেজি: Nagar river) বাংলাদেশ ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী। নদীটি বাংলাদেশের উত্তরাংশের জেলা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মধ্য দিয়ে মধ্য দিয়ে প্রবাহমান। নাগর নদ সীমান্ত পথ দিয়ে প্রবাহিত বিধায় ভাঙ্গণের কারণে এই নদীর সীমানা পিলার রক্ষা দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিবাদ হয়।

নাগর নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ১৩০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১১০ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো কর্তৃক নাগর নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৬৫।[১] নাগর হচ্ছে মহানন্দা নদীর উপনদী।

নাগর নদীর প্রবাহ

নাগর নদী ভারতে উৎপন্ন হয়ে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার ধামর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটি বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের বড় পঞ্চমাউজ গ্রামের নিচু এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

এই নদ দক্ষিণ পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত স্পর্শ করে ও সীমান্তের ওপার থেকেও কিছু নদীর পানি সংগ্রহ করে সীমান্ত পথে এগুতে থাকে। পঞ্চগড়ের আটওয়ারী, ঠাকুরগাঁর বালিয়াডাঙ্গি, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত পথ ধরে ১০০ কিলোমিটার যাবার পর হরিপুরের কাছে এই নদী ভারতে ঢুকে পড়েছে।

নাগর নদ তার যাত্রাপথে বাংলাদেশের ভেতর থেকে আটওয়ারী উপজেলার পেটকিতরকা মনি নদী; বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার আমনদামন ও তীরনাই নদী; হরিপুর উপজেলার গড়গড়িয়া ও নোনা নদী এবং জালুইযমুনা নদীর প্রবাহ গ্রহণ করে। এর মধ্যে তীরনাই নদী সবচেয়ে দীর্ঘ যা আটওয়ারী উপজেলার রাধানগরে বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাণীশংকৈলের ধর্মনগরের কাছে নাগর নদে পতিত হয়েছে। নোনা নদী রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদের কাছে বিল থেকে উৎপন্ন হয়ে হরিপুর হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেছে ও ভারতের ভেতরে কিছুদূর গিয়ে নাগর নদে পড়েছে।

আরো পড়ুন:  ভূতিঝারি নদী বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী

নাগর নদ ভারতের ভেতরে যাত্রাপথে উত্তর দিনাজপুর এলাকা থেকে আসা পাঞ্চু, দলুনেহা ও সারিয়ানো নদীর প্রবাহ ডানতীরে গ্রহণ করেছে। ভারতের ভেতরে দক্ষিণ দিকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার চলার পর বাংলাদেশ থেকে আসা গন্দর নদী এর বাম তীরে এসে পড়েছে।

গন্দর নদীর পতিতমুখ হতে আরও কিছুটা দক্ষিণে কাছ নদী এসে নাগর নদীর বাম তীরে পতিত হয়েছে। এরপর আরও কিছু দূর নাগর প্রবাহিত হয়েছে কুলিক নদী এসে এর বাম তীরে পতিত হয়েছে। কুলিক নদীর উৎপত্তি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং বিল থেকে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া এই নদী হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়ার কাছে ভারতে প্রবেশ করেছে। ভারতে প্রবেশের পথে এই নদী প্রায় ৫ কিলোমিটার সীমান্ত রেখা ধরে চলেছে। ভারতে প্রবেশ করে প্রায় ৮ কিলোমিটার চলার পরে বাংলাদেশ থেকে আসা পীরগঞ্জের হাজীপুর থেকে উৎপন্ন কাহালাই নদী এর বাম তীরে এসে পড়েছে।[২]

নাগর নদীতে কিছুটা আকস্মিক বন্যা প্রবণতা রয়েছে, তবে তেমন একটা ক্ষয়-ক্ষতি করে না। শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না, তবে কৃষকরা বর্ষা মৌসুমের পানিকে বাঁধ দিয়ে আটকে রেখে সেচের জন্য ব্যবহার করে থাকে।[৩]

তথ্যসূত্র

১. মানিক, মোহাম্মদ রাজ্জাক (ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)। বাংলাদেশের নদনদী: বর্তমান গতিপ্রকৃতি। ঢাকা: কথাপ্রকাশ। পৃ: ১৩১-১৩২।
২. ম ইনামুল হক, বাংলাদেশের নদনদী, অনুশীলন ঢাকা, জুলাই ২০১৭, পৃষ্ঠা ৪২-৪৩।
৩. মোঃ মাহবুব মোর্শেদ, বাংলাপিডিয়া,  ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ইউআরএল:  http://bn.banglapedia.org/index.php?title=নাগর_নদী

Leave a Comment

error: Content is protected !!