আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > খবর > কমরেড আবদুল হক ছিলেন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী সাম্যবাদী বিপ্লবী

কমরেড আবদুল হক ছিলেন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী সাম্যবাদী বিপ্লবী

কমরেড আবদুল হক

মহান বিপ্লবী কমরেড আবদুল হক এর জন্ম শত বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) ময়মনসিংহ জেলার আলোচনা সভা ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে বিকাল ৪ ঘটিকায় ময়মনসিংহের মাসকান্দা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ময়মনসিংহ জেলা মটরযান ওয়ার্কসপ মেকানিক্স ইউনিয়নের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। খবর সারোয়ার হোসেন প্রেরিত বার্তার।

এনডিএফ-এর জেলা সভাপতি মাহতাব হোসেন আরজু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আলোচনা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের জেলা সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সভাপতি এডভোকেট হারুন-অর-রশিদ, এনডিএফ জেলার সাধারণ সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির জেলা সভাপতি শাহজাহান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব রব্বানী, জাতীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা উজ্জল দাস, ময়মনসিংহ জেলা মটরসাইকেল ওয়ার্কসপ মেকানিক্স ইউনিয়নের সভাপতি হযরত আলী, ময়মনসিংহ জেলা হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনিস্টিক সেন্টার কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম আহবায়ক নাজিবুল ইসলাম নাজিব প্রমুখ।

সভায় আলোচকগণ বলেন, কমরেড আবদুল হক ছিলেন একজন প্রকৃত কমিউনিস্ট বিপ্লবী। তাঁর তাত্ত্বিক ভিত্তি ছিলো মার্কসবাদ-লেনিনবাদ। সমাজ বিকাশের এক বিশেষ স্তরে মানবসভ্যতা বিকাশের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে কমিউনিস্ট মতাদর্শ আবির্ভূত হয়। মহান মার্কস,এঙ্গেলস ও লেনিন, স্ট্যালিনের সুযোগ্য নেতৃত্বে এ মতাদর্শ বিশ্ব জনগণের মুক্তির আলোকবর্তিকা হিসেবে আজকে প্রতিষ্ঠিত। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার কবর রচনা করা ছাড়া বিশ্ব জনগনের মুক্তির বিকল্প কোন পথ খোলা নেই। আর এই ব্যবস্থার শিরোচ্ছেদ করতে ব্রহ্মাস্ত্রটি হচ্ছে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্বের আলোকে সুসজ্জিত কমিউনিস্ট আদর্শ ও রাজনীতি ।

পৃথিবীর দেশে দেশে জনগণের মুক্তির অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে এই তত্ত্বের আলোকে শক্তিশালী কমিউনিস্ট পার্টি ও আন্দোলন গড়ে তোলা। অথচ আমাদের দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই প্রচলিত বিভিন্ন নামধারী কমিউনিস্ট পার্টি ও নেতৃত্বকে জনগণ বাঁকা চোখে দেখছে। জনগণ থেকে তথাকথিত এসব কমিউনিস্ট পার্টি ও নেতৃত্ব যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে। এর কারণ হচ্ছে কমিউনিজমের মূল ভিত্তি মার্কসবাদ-লেনিনবাদের মূলনীতিগুলিকে সংশোধনের নামে বিকৃতি ঘটিয়ে বুর্জোয়াদের পক্ষের মতাদর্শকে কমিউনিজম নামে চালিয়ে দেয়ার অপতৎপরতা, যা সংশোধনবাদ নামে পরিচিত ।

আরো পড়ুন:  নিপীড়ন বিরোধী কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান হলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে

সংশোধনবাদীদের অপরিহার্য পরিণতি হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে বিপ্লব সাধিত হওয়ার পরও রাশিয়া ও চীনের আজকের পুঁজিবাদী বর্তমান অবস্থা। কমরেড আবদুল হক এ সমস্ত ভেকধারী ও মেকি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী সংশোধনবাদীদের চতুরতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। সংশোধনবাদী ও সুবিধাবাদীদের বিভিন্ন অপকৌশল উন্মোচন করে একদিকে যেমন তিনি আজীবন বিরামহীন লড়াই করে গেছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যত প্রজন্মকেও সচেতন করে রাখার জন্য বিভিন্ন তীক্ষ্ণ লেখনি রেখে গেছেন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আমাদের দেশে কমিউনিস্ট পার্টি বলতে সিপিবি, জাসদ-বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ তথাকথিত সংগঠনগুলিকে চিহ্নিত করা হয়। যাদেরকে দেশের শ্রমিক-কৃষক-জনগণ শাসকশ্রেণীর তল্পিবাহক বা সহযোগী মনে করে। যার কারণে জনগণের মধ্যে সত্যিকার কমিউনিস্ট আদর্শ সম্পর্কে বিভ্রান্তি রয়েছে। এর বিপরীতে কমরেড আবদুল হক এর আদর্শ, রাজনীতি ও জীবন সংগ্রাম তুলে ধরার মাধ্যমে জনগণ প্রকৃত কমিউনিস্ট মতাদর্শ সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা নিতে পারে। যে মতাদর্শকে শ্রমিক-কৃষক-জনগণ তাদের উপর বিদ্যমান শোষণ, নিপীড়ন উচ্ছেদ করতে দিশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page