আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > দর্শন > ন্যায় দর্শন প্রসঙ্গে

ন্যায় দর্শন প্রসঙ্গে

প্রাচীন ভারতীয় ভাববাদী দর্শনের একটি শাখার নাম ন্যায় দর্শন (ইংরেজি: Nyaya)। ন্যায় দর্শনের প্রধান জোর ছিল যুক্তি ও জ্ঞানতত্ত্বের উপর। প্রাচীন উপাখ্যানের ঋষি গৌতম ন্যায় দর্শনের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে মনে করা হয়। যুক্তি ও তর্কের পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রাচীন ন্যায় দর্শন।

ভারতীয় দর্শনের বিপুল ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধারা-উপধারার মধ্যে তীব্র বিরোধ ও কূটতর্কের মাধ্যমে পরস্পরকে খন্ডন করার চেষ্টা চলত। তার ফলে ভারতীয় ন্যায়শাস্ত্র বিশেষভাবে বিকাশ লাভ করে। জ্ঞানতত্ত্বের ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায়শাস্ত্র বিশ্বের প্রাচীন ন্যায়শাস্ত্রসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিকশিত, সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বলে বিবেচনা করা হয়।

ন্যায় দর্শন কি

ন্যায়বাদ ভারতীয় দর্শনের অনুবাদ। কারণ ন্যায় দর্শনে বিশ্বজগৎ অসংখ্য অণুর সম্মেলনে সৃষ্টি হয়েছে। অসংখ্য অণুর সঙ্গে অসংখ্য আত্মার অস্তিত্বকেও ন্যায় দর্শন স্বীকার করে। আত্মা অণু থেকে আলাদা যেমন থাকতে পারে তেমনি তারা বস্তুর অণুতে মিশেও থাকতে পারে। ঈশ্বর অণু বা আত্মার স্রষ্টা নয়। ঈশ্বর হচ্ছে অণুর সঙ্গে আত্মার সম্মেলনকারী বা বিমুক্তকারী শক্তি।

এ্যরিস্টটল যেমন গ্রিসের দর্শনে যুক্তিকে সুসংবদ্ধ করেছিলেন, ভারতীয় দর্শনের ন্যায়ও তেমনি যুক্তিশাস্ত্রকে সর্বপ্রথম সুসংবদ্ধ করে। ন্যায়যুক্তির পাঁচটি স্তর, যথা প্রতিপাদ্য, প্রমাণ, দৃষ্টান্ত, প্রয়োগ এবং সিদ্ধান্ত। ন্যায় দর্শন অনুবেদন (পারসেপশন), অনুমান তুলনা এবং বিভিন্ন ব্যক্তির এবং গ্রন্থের সাক্ষ্যকে জ্ঞানের প্রক্রিয়াস্বরূপ বলে স্বীকার করে। জ্ঞান ও বস্তুর প্র্রধান সূত্রগুলিকেও ন্যায় দর্শন শ্রেণীবদ্ধ করেছে।

ন্যায় দর্শন-এর স্তর

ন্যায়শাস্ত্রে পঞ্চস্তর বিশিষ্ট অনুমানের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা আরোহী অনুমানের প্রকৃষ্ট পদ্ধতি বলে বিবেচিত হয়। প্রতিজ্ঞা, হেতু, উদাহরণ, সাদৃশ্য বা উপনয় এবং উপসংহার-এই পাঁচটি স্তরকে অনুমানের অঙ্গ বলে অভিহিত করা হতো। যুক্তির পদ্ধতি ব্যতীত ন্যায়ের অপর একটি তাত্ত্বিক মত হচ্ছে: ক্ষিতি, অপ, তেজ ইত্যাদির সম্মেলনে বিশ্বলোক সৃষ্টির জন্য একটি আদি কারণের প্রয়োজন আছে। আর সেই আদি কারণই হচ্ছে ভগবান।

তথ্যসূত্র:

১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ২১৮, ২৯৯।

আরো পড়ুন:  আওরঙ্গজেবের শাসন আমলে ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
error: Content is protected !!