আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > দর্শন > অস্তিত্ব হচ্ছে স্থায়ী, অস্থায়ী, স্থির, অস্থির সব সৃষ্টিকেই বুঝায়

অস্তিত্ব হচ্ছে স্থায়ী, অস্থায়ী, স্থির, অস্থির সব সৃষ্টিকেই বুঝায়

অস্তিত্ব (ইংরেজি: Existence) দ্বারা স্থায়ী, অস্থায়ী, স্থির এবং অস্থির সমস্ত সৃষ্টিকেই বুঝায়। তা হলেও অনেকে আবার অস্তিত্বকে সার-অস্তিত্ব এবং অসার-অস্তিত্বতে বলে বিভক্ত করেন। যাঁরা এরূপ করেন, তাঁরা মনে করেন যে, সাধারণভাবে দৃষ্ট এবং জ্ঞাত অস্তিত্বের গভীরে এক মূল অস্তিত্ব বিরাজমান। দৃশ্য বা দৃষ্ট অস্তিত্ব সদা পরিবর্তনমান। কিন্তু মূল অস্তিত্বের কোনো পরিবর্তন নেই। এঁদের মতে মূল অস্তিত্বকে বা সার-অস্তিত্বকে মানুষ জানতে পারে না। এরূপ চিন্তা ভাববাদী চিন্তা।

অস্তিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ অর্থে সার এবং অসারের পার্থক্য চিন্তা করা চলে। তুলনামূলকভাবে যা গভীরে, দৃষ্টির আড়ালে এবং অপর অস্তিত্বের ধারক হিসাবে কাজ করে, তাকে সার-অস্তিত্ব এবং যে অস্তিত্বর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, সদা পরিবর্তনশীল, অস্থির এবং আকস্মিক, তাকে অসার-অস্তিত্ব বলা চলে। কিন্তু সার এবং অসার মিলেই সমগ্র অস্তিত্ব। অসারের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য গতিহীন এবং অপরিবর্তনীয় কোনো সার-অস্তিত্বের কল্পনা করা চলে না।

অস্তিত্বমাত্রই গতিময় এবং পরিবর্তনশীল অস্তিত্বের আর একটি বিশেষ অর্থ পাওয়া যায় অস্তিত্ববাদী দর্শনে। এ দর্শনের মূল হচ্ছে ‘অস্তিত্ব’। আর এ অস্তিত্বকে বলতে বুঝাবে মানুষ বা ব্যক্তির অলব্ধ সুপ্ত সম্ভাবনা। ব্যক্তিকে ঘিরে আছে যে পরিবেশ বা বাস্তব জীবন, সে অস্তিত্ব হচ্ছে অনিত্য অস্তিত্ব। কিন্তু নিত্য-অস্তিত্বই হচ্ছে ব্যক্তির সুপ্ত সম্ভাবনা। এ অস্তিত্বের মূলে আছে কোনো এক রহস্যময় বিধাতা বা শক্তি।

প্রতিনিয়ত যে-ব্যক্তিরূপে আমরা জীবন যাপন করি, সে ব্যক্তি বাস্তব পরিবেশ দ্বার নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তি। এ অসার। এখানে তার নিজের শক্তির কোনো প্রকাশ নেই। কিন্তু কোনো সংকটকালে পরিবেশকে উপেক্ষা কিংবা অতিক্রম করে যে অস্তিত্বই আকস্মিকভাবে প্রকাশিত হয়, ব্যক্তির সেই অস্তিত্বই সার বা মূল অস্তিত্ব। ব্যক্তির এ অস্তিত্বকে বুদ্ধি ও জ্ঞানের বাইরে কোনো সংকটমুহুর্তে মানুষ এর আলোকে আকস্মিকভাবে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র:
১. সরদার ফজলুল করিম; দর্শনকোষ; প্যাপিরাস, ঢাকা; জুলাই, ২০০৬; পৃষ্ঠা ১৬২-১৬৩।

আরো পড়ুন:  সংজ্ঞা হচ্ছে কোনো ব্যক্তি বা বিষয়ের মূল বৈশিষ্ট্যগুলিকে চিহ্নিত করা
Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page