পার্টি কমিটির নেতৃত্ব

সভাপতি মাও সে-তুঙের উদ্ধৃতি

১০. পার্টি কমিটির নেতৃত্ব

*** পার্টি কমিটির ব্যবস্থা হচ্ছে যৌথ নেতৃত্বকে সুনিশ্চিত করার জন্য এবং কার্য পরিচালনা কোনো ব্যক্তি বিশেষের একচেটে হয়ে পড়াটা ঠেকাবার জন্য পার্টির একটা গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সম্প্রতি দেখা গেছে যে, কোনো কোনো নেতৃস্থানীয় সংস্থায় (অবশ্যই সমস্ত সংস্থায় নয়) ব্যক্তি বিশেষের দ্বারা কার্য পরিচালনাকে একচেটে করে নেবার এবং ব্যক্তি বিশেষের দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান করার ঝোঁক তীব্র হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান পার্টি কমিটির সভায় স্থির করা হয় না বরং ব্যক্তি বিশেষের দ্বারা স্থির করা হয়, পার্টি কমিটির সদস্যপদ নামমাত্র হয়ে পড়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যকার মতপার্থক্য মীমাংসা করা অসম্ভব এবং দীর্ঘকাল ধরে তা অমীমাংসিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। পার্টি কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে কেবলমাত্র বাহ্য ঐক্য বজায় রাখেন, প্রকৃত ঐক্য নয়। এই অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। এখন থেকে সমস্ত নেতৃস্থানীয় সংস্থায়—কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যুরো থেকে বিভাগীয় কমিটি পর্যন্ত, ফ্রন্ট কমিটি থেকে ব্রিগেড কমিটি ও সামরিক এলাকার পার্টি কমিটি পর্যন্ত (বিপ্লবী সামরিক কমিটির শাখা অথবা নেতৃস্থানীয় গ্রুপ), সরকারি সংস্থার, গণসংগঠনের, সংবাদ প্রতিষ্ঠানের এবং সংবাদপত্র অফিসের পার্টির নেতৃত্বগ্রুপে পার্টি কমিটির সভার উন্নত ব্যবস্থা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে; সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা (অবশ্যই গুরুত্বহীন নগণ্য সমস্যা অথবা সেইসব সমস্যা যার সমাধান সভায় আলোচনার মাধ্যমে স্থির হয়েছে এবং শুধু কার্যকরী করা বাকী আছে সেসব সমস্যা নয়) অবশ্যই কমিটির নিকট আলোচনার জন্য পেশ করতে হবে, উপস্থিত কমিটির সদস্যদের তাদের মতামত সম্পূর্ণভাবে ব্যক্ত করা এবং একটি স্পষ্ট ও স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া উচিত, অতঃপর পৃথক পৃথকভাবে কার্যকরী করতে হবে।… পার্টি কমিটির সভাগুলো অবশ্যই দুভাগে বিভক্ত করতে হবে— স্ট্যান্ডিং কমিটির অধিবেশন এবং পুর্ণাঙ্গ অধিবেশন, দুটিকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। অধিকন্তু, যৌথ নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব, একটার প্রতি অতিরিক্ত জোর দিয়ে অপরটাকে যেন উপেক্ষা করা না হয়, সেদিকে অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে। সৈন্যবাহিনীতে যুদ্ধের সময় এবং অবস্থার প্রয়োজনে, পরিচালকদের জরুরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অধিকার আছে। “পার্টি কমিটির ব্যবস্থাকে উন্নত করা সম্পর্কে” (২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮)

*** পার্টি কমিটির সম্পাদকের ‘সেকশন লিডার’ হতে নিপুণ হওয়া উচিত। একটা পার্টি কমিটিতে দশ থেকে বিশজন সদস্য থাকেন, এটা সৈন্যবাহিনীর একটা সেকশনের মতো এবং সম্পাদক একজন ‘সেকশন লিডারের’ মতো। বাস্তবিকই এ সেকশনকে উত্তমরূপে পরিচালনা করা সহজ নয়। প্রতিটি কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যুরো এবং উপব্যুরো এখন একটা বিরাট এলাকার নেতৃত্ব করছে এবং অত্যন্ত গুরুকর্তব্য বহন করছে। নেতৃত্বের মানে শুধু নীতি স্থির করাই নয়, বরং সঠিক কর্মপদ্ধতি রচনা করাও। নির্ভুল নীতি থাকা সত্ত্বেও যদি কর্মপদ্ধতিকে অবহেলা করা হয়, তাহলেও সমস্য দেখা দিতে পারে। পার্টি কমিটিকে নিজের নেতৃত্বের কর্তব্য সম্পন্ন করতে হলে অবশ্যই ‘সেকশন সদস্যদের’ উপর নির্ভর করতে হবে এবং নিজেদের ভূমিকা পুরোপুরিভাবে পালন করার জন্য তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে। ভাল ‘সেকশন লিডার’ হবার জন্য সম্পাদককে অবশ্যই গভীরভাবে অধ্যয়ন ও গবেষণা করতে হবে। যদি সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক নিজেদের সেকশন সদস্যদের মধ্যে প্রচারকার্যে ও সাংগঠনিক কার্যে মনোযোগ না দেন, কমিটির সদস্যদের ও নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক ভালভাবে পরিচালিত করতে নিপুণ না হন, অথবা কি করে সভা ভালভাবে চালাতে হয় তা গবেষণা না করেন, তাহলে এই ‘সেকশন সদস্যদের’ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে অসুবিধায় পড়বেন। ‘সেকশন সদস্যরা’ যদি পায়ে পা মিলিয়ে অগ্রসর না হন, তাহলে তারা যুদ্ধ ও গঠন কার্যের জন্য কোটি কোটি মানুষের নেতৃত্ব করার আশা কোনো দিনই করতে পারেন না। অবশ্যই সম্পাদক ও কমিটির সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক এমনি যে, সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগুরুদের মানবে, সুতরাং ‘সেকশন লিডার’ ও তাঁর সৈনিকদের মধ্যকার সম্পর্ক থেকে এটা ভিন্ন ধরনের। এখানে আমরা শুধু একটা উপমা তুলে ধরেছি। “পার্টি কমিটির কর্মপদ্ধতি” (১৩ মার্চ, ১৯৪৯)

আরো পড়ুন:  শ্রমিকদের সংগঠন ও বিপ্লবীদের সংগঠন

*** সমস্যা সামনে তুলে ধরা উচিত। এটা যে শুধু ‘সেকশন লিডারেরই’ করতে হবে, তা-ই নয়, বরং কমিটির সদস্যদেরও করতে হবে। লোকের পিছনে টিপ্পনী কাটবেন না। সমস্যা দেখা দিলে সভা ডাকুন, সমস্যা সামনে তুলে ধরে আলোচনা করুন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন, তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। যদি সমস্যা থাকে এবং তা যদি সামনে তুলে ধরা না হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে তা অমীমাংসিত থেকে যাবে, এমনকি কয়েক বছর ধরে চাপা থাকবে। ‘সেকশন লিডার’ ও কমিটির সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা দেখানো উচিত। সম্পাদক ও কমিটির সদস্যদের মধ্যকার, কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রতিটি কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যুরোর মধ্যকার এবং প্রতিটি কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যুরো ও এরিয়া পার্টি কমিটির মধ্যকার সমঝোতা, সমর্থন ও বন্ধুত্বের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। ঐ

*** ‘তথ্য বিনিময় করা’। এর অর্থ হচ্ছে যে, পার্টি কমিটির সদস্যদের যেসব তথ্য জানা আছে, সে সম্পর্কে পরস্পরকে জানানো এবং মতামতের আদান প্রদান করা উচিত। একটা অভিন্ন ভাষা লাভের জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো লোক এমনি করে না, বরং লাওৎসি’র বর্ণিত লোকের মতো ‘যদিও তাদের মোরগের ডাক ও কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ পরস্পরের কানে যায়, তবুও তারা সারাজীবন পরস্পর সাক্ষাৎ করে না’ ফলে, তাদের মধ্যে অভিন্ন ভাষার অভাব ঘটে। ঐ

*** আপনি যা বুঝেন না অথবা জানেন না, তা অধীনস্থদের জিজ্ঞাসা করুন, আপনার সম্মতি বা আপত্তি অবিবেচিতভাবে ব্যক্ত করবেন না।… আমরা যা জানি না, তা কখনও জানার ভান করা উচিত নয়, ‘অধীনস্ত লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা করা উচিত নয়’, নিম্নস্তরের কেডারদের মতামত শুনতে আমাদের নিপুণ হওয়া উচিত। শিক্ষক হবার পূর্বে আপনি প্রথমে ছাত্র হোন; আদেশ জারী করার পূর্বে নিম্নস্তরের কেডারদের থেকে শিখুন।… নিম্নস্তরের কেডাররা যা বলেন, তা নির্ভুল হতে পারে, নাও হতে পারে, শোনার পর এটা বিশ্লেষণ করা উচিত। নির্ভুল মতামতকে আমাদের অবশ্যই শুনতে হবে এবং সেই অনুসারে কাজ করতে হবে… নিম্নস্তর থেকে আসা ভুল মতামতকেও আমাদের শুনতে হবে, একেবারেই না শোনাটা ভুল; কিন্তু এ ধরনের মতামত শুনে সেই অনুসারে কাজ করা উচিত নয়, বরং তার সমালোচনা করা উচিত। ঐ

*** ‘পিয়ানো বাজাতে শিখুন। পিয়ানো বাজাতে দশটা আঙুলই চালনা করতে হয়, কয়েকটা আঙুল চালনা করে, অন্যগুলো না করে, এটা চলবে না। আবার দশটা আঙুল দিয়ে এক সঙ্গে চাপ দিলেও মিষ্টি সুরের সৃষ্টি হয় না। উত্তম সুর সৃষ্টির জন্য দশটা আঙুল ছন্দানুসারে এবং পারস্পরিক সহযোজনানুসারে চালাতে হবে। পার্টি কমিটিকে এর কেন্দ্রীয় কর্মকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা উচিত এবং একই সময়ে কেন্দ্রীয় কর্মের চারদিকে অন্যান্য ক্ষেত্রের কাজও করা উচিত। বর্তমানে আমরা অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃত্ব করছি। বিভিন্ন এলাকা, বিভিন্ন সৈন্যবাহিনীর ইউনিট ও বিভিন্ন বিভাগসমূহের কর্মের প্রতি আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে এবং অন্য সকলকে বাদ দিয়ে শুধু কয়েকটি সমস্যার উপর মনোযোগ দিলে চলবে না। যেখানেই সমস্যা আছে, সেখানেই আমাদেরকে তার উপর অঙ্গুলি স্থাপন করতে হবে এবং এই পদ্ধতিকে আমাদের অবশ্যই শিখে নিতে হবে। পিয়ানো কেউ বা ভালভাবে বাজান, কেউ বা খারাপভাবে বাজান, এই দুই ধরনের লোকেরা যে সুরের সৃষ্টি করেন তার মধ্যে বিরাট পার্থক্য থাকে। পার্টি কমিটির কমরেডদেরকে অবশ্যই ভালভাবে ‘পিয়ানো বাজাতে শিখতে হবে। ঐ

আরো পড়ুন:  কমিউনিস্টদের পার্টি বিষয়ক ধারণায় দুই লাইনের সংগ্রাম নাকি এক প্রস্তরীভূত পার্টি?

*** ‘দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা উচিত। এর অর্থ যে, পার্টি কমিটি এর প্রধান কাজকে অবশ্যই শুধু ‘ধরবে’ না বরং ‘দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা’ উচিত। কোনো জিনিস শুধুমাত্র দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং লেশমাত্রও শিথিল না করেই তাকে ধারণ করা যায়। ধরা, কিন্তু দৃঢ়ভাবে নয়, তার অর্থই হচ্ছে মোটেই না ধরা। স্বভাবতই খোলা হাতে কিছু ধারণ করা যায় না। হাতটা যখন মুঠো করা হয়, কিন্তু দৃঢ়ভাবে মুঠোবদ্ধ করা না হয়, তখন ধরার মতো দেখা গেলেও আসলে কিছুই ধরা হয়নি। আমাদের কোনো কোনো কমরেডও প্রধান কাজ ধরেন, কিন্তু তা দৃঢ় করে নয়, তাই কাজেও তারা ভাল করতে পারেন না। মোটেই না ধরলে চলবে না এবং ধরা দৃঢ় না হলেও চলবে না। ঐ

*** মনে ‘হিসেব রাখা। এর অর্থ যে, পরিস্থিতি বা সমস্যার পরিমাণগত দিকে আমাদের অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে এবং মৌলিক পরিমাণের বিশ্লেষণ করতে হবে। যে কোনো গুণই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে নিজেকে প্রকাশ করে, পরিমাণ ছাড়া গুণ হতেই পারে না। আমাদের বহু কমরেড আজ পর্যন্ত বোঝেন না যে, বস্তুর পরিমাণগত দিকে তাদের মনোযোগ দিতে হবে। মৌলিক পরিসংখ্যান, প্রধান শতকরা অনুপাত এবং পরিমাণগত সীমা যা বস্তুর গুণ নির্ধারণ করে, এইসব দিকে তাদের অবশ্যই মনোযোগ দিতে হবে। তাদের মনে কোনো ‘হিসেব’ নেই, ফলে তারা ভুল না করেই পারে না। ঐ

*** ‘জনসাধারণকে আশ্বাসদানের বিজ্ঞপ্তি’। সভার বিজ্ঞপ্তি আগেই দিতে হবে, এটা যেন জনসাধারণকে আশ্বাসদানের বিজ্ঞপ্তি দেবার মতো, যাতে প্রত্যেকেই জানতে পারেন, কি সমস্যার উপর আলোচনা হতে যাচ্ছে, কোন সমস্যার সমাধান করা হবে এবং তারা আগে থেকেই যাতে প্রস্তুতি নিতে পারেন। কোনো কোনো স্থানে প্রথমে রিপোর্ট ও খসড়া প্রস্তাবাদি তৈরি না করেই কেডারদের সভা ডাকা হয় এবং শুধু সভার লোকজন উপস্থিত হলেই কাজ চালানো গোছের, উপস্থিত-মতো প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ যেন ‘সৈন্য ও ঘোড়া এসে গেছে, কিন্তু খাদ্য ও তৃণাদি প্রস্তুত নেই’ এমন, এটা ভাল নয়। যদি প্রস্তুতি না থাকে, তাহলে তাড়াহুড়া করে সভা ডাকবেন না। ঐ

*** ‘উন্নততর সৈন্য এবং সহজতর প্রশাসন ব্যবস্থা’। কথাবার্তা, বক্তৃতা, প্রবন্ধ ও প্রস্তাব সবই সংক্ষিপ্ত ও যথাযথ হওয়া উচিত। সভাও খুব দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়। ঐ

*** আপনাদের সঙ্গে যেসব কমরেড ভিন্ন মত পোষণ করে, তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একত্রে কাজ করতে মনোযোগ দিন। স্থানীয় সংগঠনেই হোক বা সৈন্যবাহিনীতে হোক, উভয় ক্ষেত্রেই এ কথায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। এ কথা পার্টি বহির্ভূত লোকের পক্ষেও খাটে। আমরা সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে এখানে সমবেত হয়েছি এবং যেসব কমরেড আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন, শুধু তাঁদের সঙ্গেই নয়, বরং যারা আমাদের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেন, তাঁদের সঙ্গেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে একত্রে কাজ করতে নিপুণ হওয়া উচিত। ঐ

*** যথাসাধ্য অহঙ্কার পরিহার করুন। নেতৃস্থানীয় লোকের পক্ষে এটা হচ্ছে নীতিগত সমস্যা এবং ঐক্য বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ শর্তও। গুরুতর ভুল যারা করেননি, বরং নিজেদের কাজে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছেন, তাঁদেরও অহঙ্কার করা উচিত নয়। ঐ

*** দুটি সীমারেখা স্পষ্ট করে অঙ্কন করুন। প্রথমত বিপ্লব না প্রতিবিপ্লব? ইয়েনান না সিয়ান? কেউ কেউ বুঝেন না যে, এই সীমারেখা অবশ্যই স্পষ্টভাবে আঁকতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, যখন তারা আমলাতন্ত্রবাদের বিরোধিতা করেন, তখন ইয়েনান সম্বন্ধে এমনি করে বলেন যে, যেন সেখানে, ‘কিছুই ঠিক নয়’, ইয়েনানের আমলাতন্ত্রবাদ ও সিয়ানের আমলাতন্ত্রবাদের মধ্যে তুলনা ও পার্থক্য করেন না। এটা মূলত ভুল। দ্বিতীয়ত বিপ্লবী বাহিনীর ভেতরে ভুল ও নির্ভুলের মধ্যে, সাফল্য ও ত্রুটির মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানতে হবে এবং এ দুটির মধ্যে কোনটা মুখ্য ও কোনটা গৌণ, তা স্পষ্ট করতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, সাফল্যের পরিমাণ শতকরা ৩০ ভাগ না ৭০ ভাগ? কমিয়ে কিংবা বাড়িয়ে বললে চলবে না। ব্যক্তি বিশেষের কাজের মৌলিক মূল্যায়ন আমাদের অবশ্যই করতে হবে যে, তাঁর সাফল্য শতকরা ৩০ ভাগ এবং ভুল শতকরা ৭০ ভাগ, না সাফল্য ৭০ ভাগ এবং ভুল ৩০ ভাগ? যদি তার সাফল্যের পরিমাণ শতকরা ৭০ ভাগ হয়, তাহলে তার কাজকে মৌলিকভাবে ইতিবাচক বলে স্বীকার করতে হবে। সাফল্য-প্রধান কাজকে ভুলপ্রধান কাজ বললে সম্পূর্ণরূপেই ভুল হবে। সমস্যা বিচার করতে গেলে, এই দুইটি সীমারেখা টানতে আমাদের অবশ্যই ভোলা উচিত নয়—বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লবের মধ্যকার সীমারেখা এবং সাফল্য ও ত্রুটির মধ্যকার সীমারেখা। যদি এই দুটি সীমারেখাকে আমরা মনে রাখি, তাহলে ভালভাবে কাজ করতে পারবো, অন্যথায় আমরা সমস্যার প্রকৃতিকে গুলিয়ে ফেলবো। স্বভাবতই, যদি এই সীমারেখা ভালভাবে আঁকতে হয়, তবে মনোযোগের সঙ্গে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য। প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিটি বিষয়ের প্রতি আমাদের বিশ্লেষণ ও গবেষণার মনোভাব গ্রহণ করা উচিত। ঐ

আরো পড়ুন:  কমিউনিস্ট ইশতেহারের ১৮৯২ সালের পোলীয় সংস্করণের ভূমিকা

*** সাংগঠনিক ক্ষেত্রে, কেন্দ্রীভূত পরিচালনায় গণতান্ত্রিক জীবন সুনিশ্চিত করা। তার লাইন হচ্ছে নিম্নরূপ:

(১) পার্টির নেতৃস্থানীয় সংস্থার নির্ভুল পরিচালনার লাইন থাকতে হবে এবং সমস্যা দেখা দিলেই তা সমাধানের উপায় বের করতে হবে, যাতে করে নিজেদেরকে নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

(২) উচ্চতর সংস্থাকে নিম্নতর সংস্থার অবস্থা ও জনসাধারণের জীবনের অবস্থা সম্বন্ধে জ্ঞাত থাকতে হবে, যাতে করে সঠিক পরিচালনার বাস্তব ভিত্তি স্থাপিত হতে পারে।

(৩) পার্টির সকল স্তরের সংস্থারই বিবেচনাহীনভাবে সমস্যার সমাধান করা উচিত নয়। একবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে, অবশ্যই তা দৃঢ়তার সঙ্গে পালন করতে হবে।

(৪) উচ্চতর সংস্থার যেসব সিদ্ধান্ত কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে অবশ্যই নিম্নতর সংস্থা এবং পার্টি সদস্য সাধারণের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে হবে।

(৫) পার্টির নিম্নতর সংস্থাগুলোকে ও পার্টি সদস্য সাধারণকে উচ্চতর সংস্থার নির্দেশাদির পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আলোচনা করতে হবে, যাতে করে এর তাৎপর্য তারা পুরোপুরিভাবে উপলব্ধি করতে পারেন এবং তা পালন করার পদ্ধতি স্থির করতে পারেন। “পার্টির ভেতরকার ভুল চিন্তাধারা সংশোধন করা সম্পর্কে” (ডিসেম্বর, ১৯২৯)

Leave a Comment

error: Content is protected !!