আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > রাজনীতি > বাংলায় রাজনৈতিক আন্দোলন হচ্ছে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবী সাম্যবাদ অভিমুখী আন্দোলন

বাংলায় রাজনৈতিক আন্দোলন হচ্ছে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবী সাম্যবাদ অভিমুখী আন্দোলন

রাজনৈতিক আন্দোলন

বাংলায় বা বঙ্গভূমিতে বা বঙ্গে বা বঙ্গদেশে বা বাংলাদেশে জনগণের রাজনৈতিক আন্দোলন (ইংরেজি: Political Movements in Bengal) হচ্ছে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবী মুক্তিকামী সাম্যবাদ অভিমুখী জনগণের গত দুইশত বছরের আন্দোলন। এই আন্দোলনের উপনিবেশিক ও নয়া-উপনিবেশিক পর্যায়ে জনগণের সাথে শাসকশ্রেণির দ্বন্দ্ব বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করেছে। বঙ্গভূমিতে জনগণের সাথে শাসকশ্রেণির দ্বন্দ্বগুলো পেকে ওঠে গড়ে কুড়ি বছর পরপর।

২০০৭-৯ সালে জনগণ ও শাসক শ্রেণির দ্বন্দ্বটির সবচেয়ে তীব্রতার একটা সাময়িক সমাধান হয়েছিল। তার আগে ১৯৯০ সালে হয়েছিল। তারও আগে তীব্র রূপ ছিল ১৯৭১ সালে। তারও আগে ১৯৪৭ সালে। সশস্ত্র বাহিনীতেও এসব দ্বন্দ্বের প্রতিফলন দেখা যায় গড়ে কুড়ি বছর পরপর। ১৯৭১ সালের সশস্ত্র অংশে, ১৯৯৪ সালের আনসার বিদ্রোহে, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে। আন্দোলনের ফলে গত ২০০৭-২০০৯ সালে জনগণের সাথে শাসকশ্রেণির দ্বন্দ্বটির একটি সাময়িক সমাধান আমরা দেখেছি। আগামিতে ২০২৪ সালে জরুরি অবস্থা বা নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় থাকতে চাইবে। জনগণ ও শাসক শ্রেণির দ্বন্দ্বটি পেকে উঠবে ২০২৭-২৯ সালের দিকে।

বাংলাদেশে বিএনপি-জামাত একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি বটে কিন্তু তারা গণশত্রু বিধায় তাদের জনভিত্তি নেই। তাদেরকে ক্ষমতায় এনে দিতে পারে কেবল সাম্রাজ্যবাদ ও বিস্তারবাদ। সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা নিপীড়িত স্বৈরতন্ত্রী রাষ্ট্রগুলোর এবং স্বৈরতন্ত্রের মূল শক্তি সাম্রাজ্যবাদ এবং রেমিটেন্স। অর্থনীতি গতিশীল থাকায়, ডলার-পেট্রো ডলার নিয়মিত আসায় এবং দৃশ্যমান কমিউনিস্ট আন্দোলন না থাকায় গত প্রায় এক দশক বড় ধরনের ধর্মঘট, হরতাল, কারফিউ নেই বাংলাদেশে। ২০১৯ সাল ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ বছর। কারফিউ, হরতাল, ধর্মঘট, অবরোধ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছিলো না। বাংলাদেশে গণআন্দোলন যেন দীর্ঘকালীন ভাটা অতিক্রম করছে।

অথচ জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করছে দেশ আজ গভীর সংকটে নিপতিত। যেমন গত ২৯ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ লেখে যে বাংলাদেশে “ত্রিশ বছরের মধ্যে জনগণ ও শাসক শ্রেণীর দ্বন্দ্ব এত তীব্রতা লাভ করেনি। সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এক পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক সংকটের দিকে চলেছে বাংলাদেশ। … … এ সংকট রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।”[১] আবার বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি যে ৩১ দফা করণীয় প্রকাশ করেছে গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে, সেই করণীয়’র ভূমিকা’র প্রথম বাক্যটি হচ্ছে “দেশ তার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব গভীর সংকটকাল পার করছে”[২]।  অর্থাৎ এই দুই সংগঠন এখন গভীর সংকট দেখছে, যখন দেশে হরতাল-অবরোধ-কারফিউ এমনকি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-সমাবেশও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নেই।

আরো পড়ুন:  কমিউনিস্ট পার্টির ইশতেহার, রক্ষণশীল অথবা বুর্জোয়া সমাজতন্ত্র

বিএনপি-জামাতের প্রস্তুতি নেই। এরা ক্ষমতায় যেতে পারে তদারকি সরকার এনে সমস্ত প্রচারমাধ্যমে তাদের পক্ষে ইমেজ তৈরি করে। অথবা দেশে বড় ধরনের সাম্রাজ্যবাদ সৃষ্ট সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তৈরি করে বিরোধী শক্তির নামে বিএনপিনির্ভরদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে; এটা সাম্রাজ্যবাদ গত এক দশক অনেক দেশেই করছে। যেহেতু এখন শান্তিপূর্ণ অবস্থা চলছে, প্রচুর রেমিটেন্স আসায় এই শান্তিপূর্ণ অবস্থা আরো বহুদিন থাকবে এবং যেহেতু বিএনপি-জামাত গৃহযুদ্ধে কখনোই যাবে না, তাই বিএনপি-জামাতের পক্ষে ক্ষমতায় আসা প্রায় অসম্ভব। আর গ্রামীণ ও শহুরে চাঁদাবাজির বিএনপির উৎসগুলো গত ২০০৭ সাল থেকে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে, ফলে বিএনপির নিজস্ব দেশি শক্তিগুলো আগামিতে শেষ হয়ে যাবে, ফলে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাহায্য ব্যতীত বিএনপি নিশ্চিহ্ন হওয়া ছাড়া অন্য গতি নেই।

রাষ্ট্রের শক্তি হচ্ছে সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র। জনগণ এখন আন্দোলনে নামবে যতটা, তার চেয়ে অধিক নামবে ভোটের আগে, এটা বাংলাদেশের জনগণের বৈশিষ্ট্যই বলতে পারেন। এখন আন্দোলনে নামলে আমলাতন্ত্র সব শক্তি দিয়ে আন্দোলন নিশ্চিহ্ন করে দেবে; যেটা স্বৈরতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য বটে।

স্বৈরতন্ত্রবিরোধী সংগ্রামের পতাকা জনগণের হাত থেকে অতীতে প্রতিক্রিয়াশীল শাসকশ্রেণির হাতেই চলে গেছিল। ১৯৪৭, ১৯৭১, ১৯৯০ সালে সংগ্রামের পতাকা বেহাত হয়েছিল বামপন্থীদের বহুবিধ ডান বিচ্যুতির কারণে। ডানপন্থী বিচ্যুতিকে পরাজিত করা ছাড়া বামপন্থীদের আন্দোলনের পতাকা আগামীতেও বেহাত হতেই থাকবে। শান্তিপূর্ণ এবং সহিংস- সংগ্রামের উভয় ধারাতেই কাজ করে সাম্যবাদীদের এগোতে হবে।

তথ্যসূত্র:

১. জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চ একটি বামপন্থী সংগঠন, তাদের ফেসবুক একাউন্ট থেকে ২৯ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রদত্ত পোস্ট, প্রোফাইল আইডি https://www.facebook.com/100001571238531/

২. সাইফুল হক, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, “পরিস্থিতি ও করণীয় সংকট উত্তরণে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ৩১ দফা”, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা, পৃষ্ঠা ১।

Anup Sadi
অনুপ সাদির প্রথম কবিতার বই “পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি” প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১১টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর “সমাজতন্ত্র” ও “মার্কসবাদ” গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন “বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা” নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। জন্ম ১৬ জুন, ১৯৭৭। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page