কমিউনিস্ট পার্টি

সভাপতি মাও সেতুং-এর উদ্ধৃতি

১. কমিউনিস্ট পার্টি

*** আমাদের কার্যের নেতৃত্বের কেন্দ্র শক্তি হচ্ছে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি

আমাদের চিন্তাধারার পথনির্দেশের তাত্ত্বিক ভিত্তি হচ্ছে মার্কসবাদ-লেনিনবাদচিনা জনগণের প্রজাতন্ত্রের প্রথম জাতীয় গণ- কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে প্রদত্ত উদ্বোধনী ভাষণ (১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪)

*** যদি বিপ্লব করতে হয়, তাহলে অবশ্যই একটা বিপ্লবি পার্টি থাকতে হবে। একটা বিপ্লবি পার্টি ছাড়া, মার্কসবাদী- লেনিনবাদি বিপ্লবি তত্ত্বে এবং বিপ্লবি রীতিতে গড়ে উঠা একটা বিপ্লবি পার্টি ছাড়া, শ্রমিক শ্রেণি ও ব্যাপক জনসাধারণকে সাম্রাজ্যবাদ ও তার পদলেহি কুকুরদের পরাজিত করতে নেতৃত্বদান করা অসম্ভব। সারা দুনিয়ার বিপ্লবি শক্তি এক হও, সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করো (নভেম্বর, ১৯৪৮)

*** চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রচেষ্টা ছাড়া, চীনা জনগণের প্রধান অবলম্বন হিসেবে চীনের কমিউনিস্টদের ছাড়া, চীনের স্বাধীনতা ও মুক্তি অসম্ভব, চীনের শিল্পায়ত্তকরণ ও কৃষির আধুনিকীকরণও অসম্ভব। যুক্ত সরকার সম্পর্কে, ২৪ এপ্রিল, ১৯৪৫

*** চীনা কমিউনিস্ট পার্টি হচ্ছে সমগ্র চীনের জনগণের নেতৃত্বের কেন্দ্র। এই কেন্দ্র ছাড়া, সমাজতান্ত্রিক কার্য বিজয়ী হতে পারে না। চীনের নয়া গণতান্ত্রিক যুব-লীগের তৃতীয় জাতীয় কংগ্রেসে উপস্থিত সমস্ত প্রতিনিধিদের সাক্ষাতদানকালে প্রদত্ত ভাষণ, ২৫ মে ১৯৫৭

*** সুশৃংখলিত, মার্কসবাদ-লেনিনবাদের তত্ত্বে সুসজ্জিত, আত্মসমালোচনার পদ্ধতি প্রয়োগকারী ও জনসাধারনের সংগে সংযুক্ত একটা পার্টি; এমন একটা পার্টির নেতৃত্বাধীন একটা সৈন্যবাহিনী; এমন একটা পার্টির নেতৃত্বে সমস্ত বিপ্লবী শ্রেণী ও বিপ্লবী দলের একটা যুক্তফ্রন্ট — এই তিনটা হচ্ছে আমাদের শত্রুকে পরাজিত করার প্রধান অস্ত্র। “জনগণের গণতান্ত্রিক একনায়কত্ব সম্পর্কে” (৩০ জুন, ১৯৪৯)

*** জনসাধারণের উপর অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, পার্টির উপর অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে; এ হচ্ছে দুটি মৌলিক নীতি। যদি আমরা এ দুটি নীতিতে সন্দেহ করি, তাহলে কোনো কাজই সম্পন্ন করতে পারবো না। কৃষি-সমবায়করণের সমস্যা সম্পর্কে (৩১ জুলাই, ১৯৫৫)

আরো পড়ুন:  শৃংখলা

*** মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্ব ও চিন্তাধারায় সুসজ্জিত হয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি চীনা জনগণের কাছে এনে দিয়েছে একটা নতুন কর্মরীতি, তা প্রধানত তত্ত্ব ও অনুশীলনের সংযোজনের রীতি, জনসাধারণের সংগে ঘনিষ্ঠভাবে মিলনের রীতি ও আত্মসমালোচনার রীতি। যুক্ত সরকার সম্পর্কে, ২৪ এপ্রিল, ১৯৪৫

*** একটি মহান বিপ্লবি আন্দোলনের পথনির্দেশকারী রাজনৈতিক পার্টির কাছে যদি বিপ্লবী তত্ব না থাকে, ইতিহাসের জ্ঞান না থাকে এবং বাস্তব আন্দোলনের গভীর উপলব্ধি না থাকে, তাহলে তার পক্ষে বিজয়লাভ অসম্ভব। জাতীয় যুদ্ধে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির স্থান (অক্টোবর, ১৯৩৮)

*** আমরা যেমন বলতাম, রীতির শুদ্ধিকরণ আন্দোলন হচ্ছে “মার্কসবাদী শিক্ষার একটা সর্বব্যাপী আন্দোলন”। রীতির শুদ্ধিকরণের অর্থই হলো সমালোচনা ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে সমগ্র পার্টির মার্কসবাদ অধ্যয়ন করা। রীতির শুদ্ধিকরণের মধ্যে আমরা নিশ্চিতভাবেই মার্কসবাদকে আরো বেশি করে শিখে নিতে পারি। প্রচার কার্য সম্পর্কে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণ, ১২ মার্চ ১৯৫৭

*** চীনের কয়েক শত মিলিয়ন জনসাধারণের উন্নততর জীবন সুনিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আমাদের পশ্চাৎপদ দেশটিকে একটি সুসমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও উচ্চমানের সংস্কৃতিসম্পন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে একটা দুরূহ কর্তব্য। রীতির শুদ্ধিকরণ আন্দোলন আমাদের চালাতে হয়, বর্তমানে চালাতে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও চালাতে হবে এবং যা ভ্রান্ত তার থেকে অবিরামভাবে আমাদের মুক্ত রাখতে হবে, যাতে করে আমরা এই কর্তব্য আরো ভালোভাবে বহন করতে পারি এবং যারা সংস্কার সাধনে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ ও উচ্চ আদর্শে প্রবৃত্ত এমন সমস্ত পার্টি-বহির্ভূত লোকদের সংগে উত্তমভাবে কাজ করতে সমর্থ হই। প্রচার কার্য সম্পর্কে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণ, ১২ মার্চ ১৯৫৭

*** নীতি বিপ্লবী রাজনৈতিক পার্টির সমস্ত বাস্তব কার্যকলাপের প্রারম্ভিক বিন্দু এবং কার্যকলাপের প্রক্রিয়া ও পরিণতির মধ্য দিয়ে নিজকে প্রকাশ করে। একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক পার্টির যে কোনো কার্যকলাপই হলো নীতি পালন করা। যদি সে নির্ভুল নীতি অনুসরণ না করে, তাহলে সে ভ্রান্ত নীতি অনুসরণ করে; সচেতনভাবে কোনো নীতি অনুসরণ না করলে, সে অন্ধভাবে তা’ অনুসরণ করছে। আমরা যাকে অভিজ্ঞতা বলি, তা হচ্ছে নীতি অনুসরণের প্রক্রিয়া ও পরিণতি। কেবলমাত্র জনগণের অনুশীলনের মাধ্যমেই, অর্থাৎ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে একটা নীতি ভুল কি নির্ভুল তা’ আমরা যাচাই করতে পারি এবং সেটা কতটা ভুল বা নির্ভুল তা’ নির্ধারণ করতে পারি। কিন্তু মানুষের অনুশীলন, বিশেষ করে বিপ্লবী রাজনৈতিক পার্টি ও বিপ্লবী জনসাধারণের অনুশীলন কোনো না কোনো নীতির সংগে জড়িত না হয়ে পারেই না। অতএব, কোনো কাজ করার আগে পার্টি সদস্যদের কাছে ও জনসাধারণের কাছে বাস্তব অবস্থা অনুসারে রচিত নীতি অবশ্যই আমাদের স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যথায়, পার্টি-সদস্যগণ ও জনসাধারণ আমাদের নীতির পরিচালনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধভাবে কাজ করবেন এবং ভ্রান্ত নীতি অনুসরণ করবেন। শিল্প-বাণিজ্যের নীতি সম্পর্কে, ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮

আরো পড়ুন:  অফিসার ও সৈনিকদের মধ্যকার সম্পর্ক

*** আমাদের পার্টি যেমনি চীনা বিপ্লবের সাধারণ লাইন ও সাধারণ নীতি নির্ধারণ করেছে, তেমনি বিভিন্ন বিশেষ কাজের লাইন ও বিশেষ নীতিও নির্ধারণ করেছে। কিন্তু অনেক কমরেড আমাদের পার্টির বিশেষ বিশেষ কাজের লাইন ও নীতিকে মনে রাখতে গিয়ে প্রায়ই আমাদের পার্টির সাধারণ লাইন ও নীতিকে ভুলে যান। যদি প্রকৃতই আমরা পার্টির সাধারণ লাইন ও সাধারণ নীতি ভুলে যাই, তাহলে আমরা হবো অন্ধ, অসম্পূর্ণ ও অচেতন বিপ্লবী এবং বিশেষ কাজের লাইন ও বিশেষ নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে আমরা হবো তখন দিশেহারা, কখনো ঝুঁকবো বাঁয়ে কখনো বা ডানে, ফলে আমাদের কাজের হবে ক্ষতি। শানসী-সুইউয়ান মুক্ত এলাকার কেডার সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণ, ১ এপ্রিল ১৯৪৮

*** নীতি এবং কৌশলই হচ্ছে পার্টির প্রাণ, সকল স্তরের নেতৃস্থানীয় কমরেডদের অবশ্যই এদের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে এবং হাজার কারণেও তাদের অমনোযোগি হওয়া উচিত নয়। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি (২০ মার্চ, ১৯৪৮)

Leave a Comment

error: Content is protected !!