ইনেসা আরমান্দ সমীপে লেনিন

১৭ জানুয়ারি, ১৯১৫

প্রিয় বন্ধু,

আমার মনে হয় তোমার পুস্তিকার খসড়াটি আরও পরিষ্কার করে লেখা দরকার, নইলে অনেক জিনিস অস্পষ্ট থেকে যাবে। তুমি যে সব বক্তব্য তুলেছ তার একটি বিষয়ের উপরে আমি এখন আমার মতামত বলতে চাই। আমি বলি তুমি তিনের অনুচ্ছেদটি ‘স্বাধীন প্রেমের দাবি (নারীদের)’ একেবারেই তুলে দাও। বাস্তবিকই, এ দাবি সর্বহারাদের নয়, বুর্জোয়াদের। এর দ্বারা তুমি ঠিক কি বলতে চাইছ ? এর দ্বারা কিই বা মনে হতে পারে ?

১. প্রেমের ক্ষেত্রে বাস্তব প্রয়োজনের (অর্থনৈতিক) হিসাব নিকাশ থেকে স্বাধীনতা ?

২. বাস্তব দায়-দায়িত্ব থেকে ?

৩. ধর্মগত কুসংস্কার থেকে ?

৪. মাতা-পিতার নির্দেশ থেকে ?

৫. সমাজের কুসংস্কার থেকে ?

৬. ক্ষুদ্র পরিবেশ থেকে (কৃষক, মধ্যবিত্ত বুর্জোয়া, বুদ্ধিজীবী) ?

৭. আইন, আদালত ও পুলিসের ঝঞ্ঝাট থেকে ?

৮. ভালোবাসার গুরুতর সমস্যা?

৯. সন্তানের জন্মদান ?

১০. ব্যভিচার ইত্যাদি সম্ভব হয় বলে ?

আমি অনেকগুলি বিষয়ের (যদিও সবগুলি নয়) উল্লেখ করেছি, আমার মনে হয় তুমি ৮নং থেকে ১০নং পর্যন্ত বিষয়ের কথা ভাবনি। বরং ১নং থেকে ৭নং পর্যন্ত বিষয়ের, অথবা তারই কাছাকাছি বিষয়ের কথা ভেবেছ। যাই হোক ১নং থেকে ৭নং বিষয়ের জন্য তোমার অন্য কোনো কথা ব্যবহার করা উচিত। কারণ ‘স্বাধীন প্রেম’ কথাটা দ্বারা এই ধারণা যথার্থ প্রকাশ করে না।।

সাধারণ লোক ও এই পুস্তিকার পাঠকরা অনিবার্যভাবেই ৮ নং থেকে ১০নং বিষয়ের মতো কিছু মনে করবে যদিও তোমার বলার উদ্দেশ্য তা নাও হয়। কারণ বর্তমান সমাজের সবচেয়ে হৈ চৈকারী বচনবাগীশ শ্রেণীগুলি, সমাজের ‘সেই অংশটা’ স্বাধীন প্রেম বলতে ৮ নং থেকে ১০নং বিষয় বোঝে। তোমার দাবি বুর্জোয়া দাবি, সর্বহারা দাবি নয়।

সর্বহারাদের পক্ষে সবচেয়ে দরকারী বিষয় হলো প্রথমত ১নং ও ২নং বিষয় এবং তারপর ১নং থেকে ৭নং বিষয়। কিন্তু তার দ্বারা ঠিক ‘স্বাধীন প্রেম’ সংজ্ঞাটি বোঝায় না। তুমি আত্মমুখীভাবে কি বুঝতে চাও প্রশ্ন তা নয়। প্রশ্ন হলো ভালোবাসার ক্ষেত্রে শ্রেণী সম্পর্কে বাস্তব পরিণতি কি ?[১]

আরো পড়ুন:  নারী মুক্তি আন্দোলন প্রসঙ্গে

টিকা:

১. লেনিনের এই প্রবন্ধটি কনক মুখোপাধ্যায় (সেপ্টেম্বর ২০০৬), নারী মুক্তির প্রশ্নে, কলকাতা: ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড। পৃষ্ঠা ৯৯ থেকে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!