আপনি যা পড়ছেন
মূলপাতা > রাজনীতি > যুদ্ধ ও শান্তি

যুদ্ধ ও শান্তি

সভাপতি মাও সে-তুঙের উদ্ধৃতি

৫. যুদ্ধ ও শান্তি

*** শ্রেণি ও শ্রেণির মধ্যে, জাতি ও জাতির মধ্যে, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব যখন একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে বিকশিত হয়ে উঠে, তখন সে দ্বন্দ্বগুলোর মীমাংসার জন্য সংগ্রামের উচ্চতম রূপই হচ্ছে যুদ্ধ – যা ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও শ্রেণীর উদ্ভব থেকেই আরম্ভ হয়েছে। “চীনের বিপ্লবী যুদ্ধের রণনীতির সমস্যা” (ডিসেম্বর, ১৯৩৬)

*** “যুদ্ধ হচ্ছে রাজনীতির ধারাবাহিক রূপ”, এই অর্থে যুদ্ধই হচ্ছে রাজনীতি এবং যুদ্ধ নিজেই রাজনৈতিক প্রকৃতির কার্যকলাপ। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে এমন একটা যুদ্ধও ঘটেনি, যার কোনো রাজনৈতিক প্রকৃতি ছিলো না। … …

কিন্তু যুদ্ধের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও আছে এবং এ অর্থে যুদ্ধ সাধারণ রাজনীতির সমান নয়। “যুদ্ধ হচ্ছে অন্য উপায়ে রাজনীতির ধারবাহিক রূপ”। রাজনীতি যখন একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ে বিকাশ লাভ করে এবং আগের মতো আর এগুতে পারে না, তখন যুদ্ধ বাধে রাজনৈতিক পথের বাধাকে ঝেড়ে দূর করার জন্য। … … বাধা যখন দূর হয় এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য যখন অর্জিত হয়, তখন যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বাধা পুরোপুরিভাবে দূর না হলে, যুদ্ধ অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতেই হবে, যাতে পুরোপুরি লক্ষ্য অর্জিত হয়। … … অতএব, এ কথা বলা যেতে পারে যে, রাজনীতি হচ্ছে রক্তপাতহীন যুদ্ধ আর যুদ্ধ হচ্ছে রক্তপাতময় রাজনীতি। “দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সম্পর্কে” (মে, ১৯৩৮)

*** ইতিহাসে যুদ্ধ দুই ভাগে বিভক্ত, একটা ন্যায় যুদ্ধ আর একটা অন্যায় যুদ্ধ। যেসব যুদ্ধ প্রগতিশীল সেসবই ন্যায় যুদ্ধ, আর যেসব যুদ্ধ প্রগতিতে বাধা দেয় সে সবই হচ্ছে অন্যায় যুদ্ধ। প্রগতিকে ব্যাহত করে যে সব অন্যায় যুদ্ধ, আমরা কমিউনিস্টরা সে সবেরই বিরোধিতা করি, কিন্তু প্রগতিশীল ন্যায় যুদ্ধের বিরোধিতা করি না। আমরা কমিউনিস্টরা, শুধু যে ন্যায় যুদ্ধের বিরোধিতা করি না তাই নয় বরং সে সব যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণও করে থাকি। অন্যায় যুদ্ধ, ধরা যাক, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দু’পক্ষই সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থের খাতিরে এ যুদ্ধে লড়লো, তাই সারা দুনিয়ার কমিউনিস্টরা দৃঢ়ভাবে এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। বিরোধিতা করার পদ্ধতি হচ্ছে যুদ্ধ বেধে উঠার আগেই তাকে বাধাদান করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা; যুদ্ধ বেধে উঠার পর যথাসম্ভব যুদ্ধ দিয়ে যুদ্ধের বিরোধিতা করা, ন্যায় যুদ্ধ দিয়ে অন্যায় যুদ্ধের বিরোধিতা করা। ঐ

*** শ্রেণি সমাজে বিপ্লব ও বিপ্লবী যুদ্ধ অপরিহার্য, তাঁদের বাদ দিয়ে সমাজ বিকাশের দ্রুত অতিক্রমণ সম্পন্ন করা এবং প্রতিক্রিয়াশীল শাসক শ্রেণিকে উৎখাত করা অসম্ভব, অতএব, জনগণের পক্ষে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা অসম্ভব। “দ্বন্দ্ব সম্পর্কে”, আগস্ট ১৯৩৭

*** বিপ্লবী যুদ্ধ হচ্ছে একটা বিষ-প্রতিষেধক, এ যে শুধু শত্রুদের বিষ নাশ করে তাই নয় বরং আমাদের নিজেদেরও ক্লেদ থেকে মুক্ত করে। প্রতিটি ন্যায় বিপ্লবী যুদ্ধ প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন এবং বহু বস্তুকে রূপান্তরিত করতে পারে অথবা তাদের রূপান্তরের পথ খুলে দিতে পারে। চীন জাপান যুদ্ধ, চীন জাপান উভয় দেশকেই রূপান্তরিত করবে; প্রতিরোধ যুদ্ধে এবং যুক্ত ফ্রন্টে চীন যদি অধ্যবসায়ের লেগে থাকে, তাহলে পুরানো জাপান নিশ্চয় এক নতুন জাপানে এবং পুরানো চীন এক নতুন চীনে পরিণত হবে; আর চীন জাপান উভয় দেশের লোক এবং বস্তু সব কিছুই এই যুদ্ধের মধ্যে ও এই যুদ্ধের পরে রূপান্তরিত হবে। “দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সম্পর্কে”, মে ১৯৩৮

*** প্রতিটি কমিউনিস্টকে অবশ্যই এ সত্য বুঝতে হবে: “বন্দুকের নল থেকেই রাজনৈতিক ক্ষমতা বেরিয়ে আসে”। “যুদ্ধ ও রণনীতির সমস্যা” (৬ নভেম্বর, ১৯৩৮)

*** বিপ্লবের কেন্দ্রীয় কর্তব্য ও উচ্চতম রূপ হচ্ছে সশস্ত্র শক্তির দ্বারা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল, যুদ্ধের দ্বারা সমস্যার সমাধান। মার্কসবাদ-লেনিনবাদের এই বিপ্লবী নীতি সর্বত্রই ঠিক, তা চীন দেশেই হোক বা বিদেশেই হোক, সর্বত্রই ঠিক। ঐ

*** চীন দেশের সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া সর্বহারা শ্রেণি, জনগণ, কমিউনিস্ট পার্টি কেউই স্থান পাবে না এবং বিপ্লবে জয়লাভ করাও সম্ভব হবে না। আঠারো বছর ধরে আমাদের পার্টির বিকাশ, সুসংবদ্ধতা ও বলশেভিকীকরণ বিপ্লবী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে চলেছে, সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া আজকের কমিউনিস্ট পার্টি হতে পারতো না। রক্তের বিনিময়ে যে অভিজ্ঞতা আমরা অর্জন করেছি, গোটা পার্টির কমরেডগণ অবশ্যই তা কখনও ভুলবেন না। “কমিউনিস্ট পত্রিকার প্রকাশনা সম্পর্কে” (৪ অক্টোবর, ১৯৩৯)

*** রাষ্ট্র সম্পর্কিত মার্কসবাদী মতবাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সৈন্যবাহিনী হচ্ছে রাষ্ট্র-ক্ষমতার প্রধান উপাদান। যিনি রাষ্ট্র-ক্ষমতা দখল করতে চান এবং এটাকে বজায় রাখতে চান, তাঁর অবশ্যই একটা শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী থাকতে হবে কেউ কেউ আমাদেরকে “যুদ্ধের সর্বশক্তিমান তত্ত্বের” প্রবক্তা বলে বিদ্রুপ করে। হ্যাঁ, আমরা বিপ্লবী যুদ্ধের সর্বশক্তিমান তত্ত্বের প্রবক্তা। এটা খারাপ নয়, ভালোই; এটা মার্কসবাদী নিয়ম। রুশ কমিউনিস্ট পার্টির বন্দুকের নলই একটা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছে। আমরা একটা গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র সৃষ্টি করবো। সাম্রাজ্যবাদের যুগে শ্রেণী সংগ্রামের অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে: শুধুমাত্র বন্দুকের শক্তিতেই শ্রমিক শ্রেণী ও শ্রমজীবী জনসাধারণ সশস্ত্র বুর্জোয়া শ্রেণী ও জমিদারদের পরাজিত করতে পারেন; এই অর্থে আমরা বলতে পারি যে, শুধুমাত্র বন্দুকের নল দিয়েই সমগ্র দুনিয়াকে রূপান্তরিত করা সম্ভব। “যুদ্ধ ও রণনীতির সমস্যা” (৬ নভেম্বর , ১৯৩৮)

*** যুদ্ধ বিলোপ করার আমরা সমর্থক, আমরা যুদ্ধ চাই না; কিন্তু কেবলমাত্র যুদ্ধের মাধ্যমেই যুদ্ধ বিলোপ করা যায় এবং বন্দুক থেকে মুক্তি পাবার জন্য বন্দুক ধারণ করা অবশ্য প্রয়োজন। ঐ

*** যুদ্ধ মানবজাতির মধ্যে পারস্পরিক হত্যার এই দানব, মানব সমাজের অগ্রগতি অবশেষে তাকে ধ্বংস করবে এবং অদূর ভবিষ্যতেই তা করবে। কিন্তু তাকে ধ্বংস করার কেবল একটিমাত্র পদ্ধতি আছে, তা হচ্ছে যুদ্ধের দ্বারা যুদ্ধের বিরোধিতা করা, বিপ্লবী যুদ্ধের দ্বারা প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধের বিরোধিতা করা, জাতীয় বিপ্লবী যুদ্ধের দ্বারা জাতীয় প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধের বিরোধিতা করা এবং শ্রেণির বিপ্লবী যুদ্ধের দ্বারা শ্রেণির প্রতিবিপ্লবী যুদ্ধের বিরোধিতা করা।… মানব সমাজ যখন এমন একটা স্তরে এগিয়ে যাবে যেখানে শ্রেণির ও রাষ্ট্রের লোপ পাবে, তখন আর কোনো যুদ্ধ থাকবে না, প্রতিবিপ্লবী বা বিপ্লবী, অন্যায় বা ন্যায়, কোনো যুদ্ধই থাকবে না; মানবজাতির পক্ষে সেটা হবে অনন্ত শান্তির যুগ। বিপ্লবী যুদ্ধের নিয়ম সম্পর্কে আমাদের গবেষণার প্রেরণা এসেছে সমস্ত যুদ্ধের অবসান করার ইচ্ছা থেকে, এটাই হচ্ছে আমাদের কমিউনিস্টদের ও সমস্ত শোষক শ্রেণির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের সীমারেখা। “চীনের বিপ্লবী যুদ্ধের রণনীতি সমস্যা” (ডিসেম্বর, ১৯৩৬)

*** আমদের দেশ এবং অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশ শান্তি চায়, পৃথিবীর সমস্ত দেশের জনগণও তাই চান। যুদ্ধের জন্য লালায়িত এবং শান্তি চায় না কেবলমাত্র অল্পসংখ্যক সাম্রাজ্যবাদি দেশের কতকগুলো একচেটে পুঁজিপতি-চক্র, যারা মুনাফার জন্য আক্রমণের উপর নির্ভর করে। “চিনের কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টম জাতীয় কংগ্রেসে প্রদত্ত উদ্বোধনী ভাষণ” (১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৬)

*** দুনিয়ার দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের জন্য সমাজতান্ত্রিক শিবিরের ভ্রাতৃসুলভ দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের মৈত্রী ও সহযোগিতা আরও প্রসারিত করতে হবে এবং সমস্ত শান্তিকামী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। আমাদের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে চায় এইরূপ সমস্ত দেশের সঙ্গে ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক মর্যাদা দানের এবং সমানাধিকার ও পারস্পরিক সুযোগ সুবিধার ভিত্তিতে স্বাভাবিক কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আমাদের অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে। এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার সমস্ত দেশের জাতীয় স্বাধীনতা ও মুক্তি আন্দোলনের প্রতি এবং দুনিয়ার সকল দেশের শান্তি আন্দোলন ও ন্যায় সংগ্রামের প্রতি আমাদের অবশ্যই সক্রিয় সমর্থন দিতে হবে। ঐ

*** সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর কথা বলতে গেলেও, আমাদের সেখানকার জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সেই দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চেষ্টা করতে হবে, কিছু ব্যবসা করতে হবে, সম্ভাব্য যে কোনো যুদ্ধকে ঠেকাবার চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু কোনো মতেই তাদের সম্পর্কে কোনোরূপ অবাস্তব ধারণা পোষণ করা উচিত নয়। “জনগণের ভেতরকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসার সমস্যা সম্পর্কে” (২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭)

*** আমরা শান্তি কামনা করি। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ যদি যুদ্ধ করতে জেদ করে, তাহলে আমরা অটল সংকল্প নিয়ে যুদ্ধ শেষ করেই গঠনকার্য আরম্ভ করবো, এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। প্রতিদিন যুদ্ধের ভয় করতে থাকলে, যুদ্ধ এসে গেলে আপনার উপায় হবে কি? প্রথমে আমি বলেছিলাম, পূবালী বাতাস পশ্চিমী বাতাসকে দাবিয়ে রাখছে, যুদ্ধ বাধবে না, এখন আমি যুদ্ধ বাধার পরিস্থিতি সম্পর্কে এই ব্যাখ্যাগুলো জুড়ে দিয়েছি। এই দুধরনের সম্ভাবনা সবই বিবেচনা করা হয়েছে। “বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও শ্রমিক পার্টির মস্কো সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণ” (১৮ নভেম্বর, ১৯৫৭)

*** দুনিয়ার সকল দেশের লোক এখন আলোচনা করছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাঁধবে কি না। এ প্রশ্নে আমাদের অবশ্যই মনের দিক থেকে প্রস্তুত হতে হবে, বিশ্লেষণও করতে হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে শান্তির পক্ষে এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীরা যদি যুদ্ধ বাধাবার জেদ ধরে, তবুও আমাদের ভয় পাওয়া উচিত নয়। যে কোনো ‘বিশৃঙ্খলা’ সম্পর্কে আমাদের যে মনোভাব, এ প্রশ্ন সম্পর্কেও আমাদের সেই একই মনোভাব: এক, আমরা এর বিরুদ্ধে; দুই, আমরা একে ভয় করি না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরেই জন্মলাভ করেছিল দুই শ’ মিলিয়ন মানুষের দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ৯ শ’ মিলিয়ন জনসংখ্যার সমাজতান্ত্রিক শিবিরের অভ্যুদয় ঘটেছিল। যদি সাম্রাজ্যবাদীরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধাতে জেদ ধরে, তাহলে এটা নিশ্চিত যে, আরো কয়েক শত মিলিয়ন লোক সমাজতন্ত্রের পথে আসবে এবং সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য পৃথিবীতে আর বেশি স্থান অবশিষ্ট থাকবে না, এটাও সম্ভব যে, গোটা সাম্রাজ্যবাদের ব্যবস্থাটাই পুরোপুরি ধ্বসে পড়বে। “জনগণের ভেতরকার দ্বন্দ্বের সঠিক মীমাংসার সমস্যা সম্পর্কে”, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭

*** গোলযোগের সৃষ্টি করা, ব্যর্থ হওয়া, আবার গোলযোগের সৃষ্টি করা, আবার ব্যর্থ হওয়া, সর্বনাশের আগ পর্যন্ত_ এটাই হচ্ছে জনগণের কার্যের প্রতি সাম্রাজ্যবাদীদের এবং বিশ্বের সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীলদের যুক্তি এবং কোনো দিনই তারা এ যুক্তি লঙ্ঘন করবে না। এটাই হচ্ছে একটা মার্কসবাদী নিয়ম। যখন আমরা বলি, “সাম্রাজ্যবাদ খুবই হিংস্র” তখন আমরা অর্থ করি যে, ওদের স্বভাব কখনো বদলাবে না, সাম্রাজ্যবাদীরা নিজদের ধ্বংস অবধি তাদের কসাইয়ের ছুরি কখনো ছাড়বে না, কখনো তারা বুদ্ধদেব হবে না।

সংগ্রাম করা, ব্যর্থ হওয়া, আবার সংগ্রাম করা, আবার ব্যর্থ হওয়া, আবার সংগ্রাম করা, বিজয় অবধি_ এটাই হচ্ছে জনগণের যুক্তি, তাঁরাও কখনো এই যুক্তি লঙ্ঘন করবেন না। এটা আর একটা মার্কসবাদী নিয়ম। রাশিয়ার জনগণের বিপ্লব এই নিয়ম অনুসরণ করেছিল, চিনা জনগণের বিপ্লবও তাই করছে। “ভ্রম ত্যাগ করো, সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হও” ১৪ আগস্ট, ১৯৪৯।

*** আমরা জয়লাভ করেছি বলেই সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের পদলেহী কুকুরদের ক্ষিপ্ত প্রতিহিংসার চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমাদের সতর্কতাকে আমরা কোনো মতেই শিথিল করতে পারি না, যে কেউ এ সতর্কতা শিথিল করে সেই রাজনীতিগতভাবে নিজেকে নিরস্ত্র করে ফেলে এবং নিষ্ক্রিয় অবস্থায় এনে ফেলে। “নয়া রাজনৈতিক পরামর্শ পরিষদের প্রস্তুতি কমিটিতে প্রদত্ত ভাষণ” (১৫ জুন, ১৯৪৯)

*** সাম্রাজ্যবাদীরা এবং তাদের পদলেহী কুকুর চীনা প্রতিক্রিয়াশীলরা চীনের এই ভূমিতে নিজেদের পরাজয় মেনে নেবে না। তারা পারস্পরিক যোগসাজশে সমস্ত সম্ভাব্য উপায়ে চীনা জনগণের বিরোধিতা করতে থাকবে। ধরা যাক, বিভেদ ও গোলযোগ সৃষ্টি করার জন্য তারা তাদের দালালদের চীনের ভেতরে ঢুকিয়ে দেবে। এটা নিশ্চিত, তারা কখনও এ কাজগুলো ভুলবে না। আর একটা দৃষ্টান্ত নেওয়া যাক, সাম্রাজ্যবাদীরা চীনা প্রতিক্রিয়াশীলদের উস্কানি দিয়ে এমনকি তাদের নিজেদের শক্তির সংযোগে চীনা সামুদ্রিক বন্দরগুলো অবরোধ করবে। যতদিন পর্যন্ত সম্ভব তারা এমনি করবে। অধিকন্তু, যদি তারা কোনো দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য লালায়িত থাকে, তাহলে তারা চীনের সীমান্তকে আক্রমণ বা উপদ্রব করার জন্য কিছু কিছু সৈন্যদল প্রেরণ করবে, এটাও অসম্ভব নয়। এসব আমাদের অবশ্যই পূর্ণভাবে বিবেচনা করতে হবে। ঐ

*** পৃথিবী এগিয়ে চলছে, ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, ইতিহাসের এই সাধারণ ধারাকে কেউই বদলাতে পারবে না। আমাদের অবশ্যই বিশ্ব-অগ্রগতির অবস্থা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত সম্বন্ধে জনগণের মধ্যে সর্বদা প্রচার চালাতে হবে, যাতে বিজয়ের উপর জনগণ আস্থা স্থাপন করতে পারেন। “ছুংছিং আলাপ-আলোচনা সম্পর্কে” (১৭ অক্টোবর, ১৯৪৫)

*** চিনা গণমুক্তিফৌজের সমস্ত কমান্ডার ও যোদ্ধাদের নিজেদের সংগ্রামি মনোবলকে শিথিল করা উচিত নয়। সংগ্রামি মনোবলকে শিথিল করার ও শত্রুকে ছোট করে দেখার যে কোনো চিন্তাই ভুল। “চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তম কেন্দ্রিয় কমিটির দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশ নে প্রদত্ত রিপোর্ট” (৫ মার্চ, ১৯৪৯)

আরো পড়ুন:  আশ্চর্য ভবিষ্যতবাণী
মাও সেতুং
মাও সেতুং বা মাও সে তুং বা মাও জেদং (ইংরেজি: Mao Tse-Tung; ২৬ ডিসেম্বর ১৮৯৩ – ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭৬ খ্রি.) মার্কসবাদী বিপ্লবী তাত্ত্বিক, সাম্যবাদী রাজনৈতিক নেতা, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং চীন ভূখন্ডের প্রায় শতাব্দীকালের সামাজিক রাজনীতিক মুক্তি ও বিপ্লবের নায়ক। জাপানি দখলদার শক্তি এবং বিদেশী সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদার কুওমিনটাং নেতা চিয়াং কাইশেকের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বাধীনতা এবং সামাজিক বিপ্লবের জন্য চীনের অগণিত এবং অনুন্নত কৃষকদের সংঘবদ্ধ করার কৌশলী হিসেবে মাও সেতুং এক সময় সমগ্র পৃথিবীতে সংগ্রামী মানুষের অনুপ্রেরণাদায়ক উপকথায় পরিণত হয়েছিলেন। তিনি অনেক জটিল কথাকে জনগণের সামনে অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপন করতেন। জনগণের সেবায় মানবেতিহাসের সমস্ত জ্ঞানকে তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Top
You cannot copy content of this page