ঘরে না, বাইরে না

এক পক্ষে/ তিন লক্ষ অক্ষৌহিণী/ নারায়ণী সেনা—/ প্রত্যেকে দুর্ধর্ষ যোদ্ধা/ সংশপ্তক/ ভয় কাকে বলে তা জানে না।/ যে জন্যেই হোক/ ( এরাও কৃষ্ণেরই জীব ! )/ প্রাণ দেয় হেলায়।/ দ্বারকায় বসে দুর্যোধন/ চেটে নেয় জিভ –/ আজ তার প্রাণে বড় সুখ।/ অন্য পক্ষে/ নিরস্ত্র একাকী/ যুদ্ধপরাঙ্মুখ।/ শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং।/ ভূ-ভারতে একালে কেবা কী।/ তাকালেই বোঝা যাবে। আরো পড়ুন

দৃশ্যত

রাস্তা দিয়ে যেই যায়, খোলা জানলা, উঁকি মেরে দেখে –/ কে একজন সারাক্ষণ গদি-আঁটা কাঠের চেয়ারে/ টেবিলে দু-ঠ্যাং তুলে গালে হাত দিয়ে বসে থাকে।/ চুলগুলো খোঁচা খোঁচা, ভাঙা গাল, দেখতেও চোয়াড়ে,/ মাঝখানে সামান্য ভুঁড়ি, যে রকম হয় ভারি ট্যাঁকে—/বেড়া ভেঙে ভাবনা ঢুকলে সম্ভবত দেয় সে খোঁয়াড়ে। আরো পড়ুন

বুড়ি ছু’য়ে

যে দেয়ালে বুড়ি দিত এতদিন ঘুটে/ ভদ্রলোকের বেটারা সেখানে জুটে/ তাতে নানা রং ফলিয়ে গিয়েছে লিখে/ বুড়ি জানে নাকে কারা কোন্ দল কী কে/ একই দেয়ালের ভাগ ক’রে দুই পিঠে/ দু-দলেই যায় দু-দলের ঢাক পিটে/ ওরা বলে, মুখে ধরব দুধের বাটি/ ভাই, আমাদের ওঠাও আরেক কাঠি আরো পড়ুন

দূরান্বয়

সাদা চুলে/ দেখতে পাচ্ছি দরোজার/ ঝানকাঠে দাঁড়িয়ে—/ টেবিলে পা তুলে/ কোথাকার কে এক ছোকরা/ তর্জনী নাড়িয়ে/ সামনের দেয়ালকে বলছে,/ ‘কে ওখানে বটো ?/ হটো হটো হটো!’/ বাইরে বেরিয়ে ভাবি/ দেয়ালের কান নেই/ শোনে না, ভাগ্যিস ! আরো পড়ুন

এককাঠি দুকাঠি

এক পা বাইরে।/ এক পা/ মনের ভেতরে।/ ডালে দোল খায়/ আকাশকুসুম,/ শৃঙ্খলে বাঁধা/ স্মৃতি যায় ঘুম/ শেকড়ে।/ এক পা ওঠালে/ এক পা/ পেছনে ঠেলে।/ এ যখন ছাড়ে/ লাগে ওর টান/ থেকে থেকে হলে/ ওর উত্থান/ এ পড়ে। আরো পড়ুন

জল সইতে

দেখে যাতে তোমাদের কষ্ট না হয়,/ চোখে যাতে ভালো লাগে/ তার জন্যে/ আমার বুকে-বেঁধানো সমস্ত কাটায়/ আমি গুজে দিয়েছি/ একটি করে ফুল—/ তোমরা হাসো।/ শুনে যাতে তোমাদের দুঃখ না হয়,/ কানে যাতে ভালো ঠেকে/ তার জন্যে/ আমার বুক-ভাসানো সমস্ত কান্নায়/ আমি জুড়ে দিয়েছি/ একটি করে সুর – আরও পড়ুন

বত্রিশ সিংহাসন

আগে ছিল মাটির তলায়,/ সে একরকম ভালো ;/ এখন ভাসছে চোখের ওপর –/ বডডই জ্বা-লালো!/ বত্রিশটা বছর গেছে/ তাকাতে তাকাতে –/ কখনও ডান কাতে, হরি হে,/ কখনও বা-কাতে।/ এই কারণে ভোজ রাজার/ মনটা করে হু হু –/ বসতে গেলেই সিংহনাদে/ আওয়াজ যে হয় ‘উঁ-হুঁ’ আরো পড়ুন

বোনটি

বাপ গিয়েছে স্বর্গে ;/ দাদার লাশ/ মর্গে।/ ভালো চাস তো, যা এইবেলা/ ধর গে/ ঐ অমুককে –/ কী করে যাই,/ আজ্ঞা।/ ওঁরই ক্ষেতে বর্গা।/ ধরনা দেবার একটাই জায়গা/ বড় পীরের দরগা।/ ইস্কুলের মাঠে সারি সারি/ গোঁ গোঁ করে/ কালো গাড়ি।/ ঐ অমুকের বাড়ি থেকে যায়/ বড় বড় চাঙারি। আরো পড়ুন

তো

রাস্তাগুলো খোঁড়া হ’চ্ছে/ রাস্তাগুলো খোঁড়া করছে/ কারণ, রাস্তা বড় হ’চ্ছে/ হবেই তো—/ কতদিন আর থাকবে বাচ্চা ?/ চাকায় হাড় মড়মড়িয়ে/ গাড়ি যাবে গড়গড়িয়ে/ তবেই তো !/ তালি বাজান,/ ও মেরি জান।/ বহুৎ আচ্ছ!/ বহুৎ আচ্ছ।/ উচু উচু পেল্লায় বাড়ি/ আহা-হা তা/ উঠবেই তো! আরো পড়ুন

বোবা কোকিল

কথা চাপিয়ে/ কথার পৃষ্ঠে/ কাটছিল দিন/ কষ্টেসৃষ্টে/ এখন যে কী মুশকিল !/ হয়ত কেউ/ পঞ্চাশোর্ধ্বে/ ঠাট্টা করে।/ খাঁচার মধ্যে/ বসিয়ে দিয়ে গিয়েছে এক কোকিল। আরো পড়ুন

error: Content is protected !!