বনের গহীনে লুকিয়ে থাকা লাজুক আর অপূর্ব সুন্দর পাখিদের মধ্যে মেটে কাঠময়ূর অন্যতম। বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশের পাখির তালিকায় পলিপ্লেকট্রন (Polyplectron) গণে মূলত ৭টি চমৎকার প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে ১টি প্রজাতি আমাদের বাংলাদেশে পাওয়া যায়। আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা বন্য পরিবেশের অন্যতম এক দৃষ্টি নন্দন পাখি মেটে কাঠময়ূর (Grey Peacock-Pheasant) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই পাখির স্বভাব, বাসস্থান ও কিছু অজানা তথ্য।
মেটে কাঠময়ূরের সাধারণ পরিচিতি (Overview)
| বিষয়ের নাম | বিবরণ / তথ্য |
|---|---|
| বাংলা নাম | মেটে কাঠময়ূর, কাট-মোর বা কাঠমৌর |
| ইংরেজি নাম | Grey Peacock-Pheasant |
| দ্বিপদ/বৈজ্ঞানিক নাম | Polyplectron bicalcaratum (Linnaeus, 1758) |
| সমনাম (Synonym) | Pavo bicalcaratus Linnaeus, 1758 |
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস (Scientific Classification)
| ট্যাক্সোনমি ধাপ | বৈজ্ঞানিক নাম | বাংলা নাম |
|---|---|---|
| জগৎ (Kingdom) | Animalia | অ্যানিমেলিয়া (প্রাণীজগৎ) |
| পর্ব (Phylum) | Chordata | কর্ডাটা |
| শ্রেণী (Class) | Aves | অ্যাভিস (পাখি) |
| বর্গ (Order) | Galliformes | গ্যালিফর্মেস |
| পরিবার (Family) | Phasianidae | জিজ্ঞাসা / ফাসিয়ানডি (তিতির ও ময়ূর গোত্র) |
| গণ (Genus) | Polyplectron (Temminck, 1813) | পলিপ্লেকট্রন |
| প্রজাতি (Species) | P. bicalcaratum | পি. বাইক্যালক্যারাটাম |
মেটে কাঠময়ূরের শারীরিক গঠন ও আকৃতি (Physical Dimensions)
মেটে কাঠময়ূর মূলত বাহারি লেজবিশিষ্ট ধূসর রঙের একটি মাঝারি আকারের ভূচর পাখি। এদের শারীরিক পরিমাপ নিচে দেওয়া হলো:
- মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৫৬ সেন্টিমিটার
- ওজন: প্রায় ৭৩০ গ্রাম
- লেজের দৈর্ঘ্য: ৩১ সেন্টিমিটার (যা শরীরের তুলনায় বেশ লম্বা)
- ডানা ও পা: ডানা ২১ সেমি এবং পা ৭.২ সেমি
- ঠোঁট: ২.১ সেন্টিমিটার
পুরুষ কাঠময়ূরের রূপ ও বৈশিষ্ট্য (Male Peacock-Pheasant)
পুরুষ বা ছেলেপাখির গায়ের রঙ ও পালকের বিন্যাস স্ত্রী পাখির চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল হয়:
- মাথা ও ঘাড়: মাথা ও ঘাড়ের অংশ বাদামি-পীতাভ রঙের হয়ে থাকে। মাথার চূড়া বা ঝুঁটির পালকগুলো আকারে ছোট ও খাড়া হয়।
- পিঠ ও ডানা: পিঠের ওপর ধূসর বাদামি রঙের চমৎকার ফোঁটা থাকে। কোমর ও লেজের ওপরের পালকে সুন্দর সাদা ডোরাকাটা দাগ দেখা যায়। এদের ডানার পালক ও লেজের প্রান্তে বেগুনি ও সবুজ রঙের চক্র বা গোল গোল ‘চোখ’ (Ocelli) থাকে, যা দেখতে অত্যন্ত সুন্দর।
- দেহতল: থুতনি ও গলার অংশ সাদাটে এবং দেহতলের বাকি অংশে সাদা ডোরাকাটা দাগ থাকে।
নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কাঠময়ূরের পার্থক্য (Female and Juvenile)
- স্ত্রী কাঠময়ূর (Female): মেয়েপাখিটি পুরুষ পাখির চেয়ে আকারে কিছুটা ছোট এবং এর গায়ের রঙ তুলনামূলক অনুজ্জ্বল হয়। এদের মাথার চূড়াটি ছোট এবং ডানা ও লেজের গোল চক্র বা ‘চোখ’গুলো বেশ অস্পষ্ট থাকে।
- অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখি: ছোট অবস্থায় তরুণ পাখিরা দেখতে হুবহু স্ত্রী কাঠময়ূরের মতোই হয়ে থাকে।
উভয় পাখির সাধারণ বৈশিষ্ট্য
- চোখ ও মুখ: ছেলে ও মেয়ে উভয় পাখির চোখই উজ্জ্বল সাদা রঙের এবং মুখের পালকহীন চামড়া হলুদাভ হয়ে থাকে।
- ঠোঁট ও পা: এদের ঠোঁট হালকা পীত বা হলুদ রঙের হলেও ঠোঁটের আগা ও মধ্যভাগ কালো হয়। পা এবং পায়ের পাতা মলিন স্লেট-রঙ বা কালচে রঙের হয়ে থাকে।
উপ-প্রজাতি ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ (Subspecies in Bangladesh)
পৃথিবীতে মেটে কাঠময়ূরের মোট ৫টি উপ-প্রজাতি বা সাব-স্পিসিজ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২টি উপ-প্রজাতি বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া যায়:
১. Polyplectron bicalcaratum bicalcaratum: এই উপ-প্রজাতিটি অতি হালকা পীতাভ বা হলুদ আভাযুক্ত এবং এটি মূলত বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে পাওয়া যায়।
২. Polyplectron bicalcaratum bakeri: এই উপ-প্রজাতিটি অতি ধূসর এবং পাতার মতো পীতাভ রঙের হয়, যা মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগে দেখতে পাওয়া যায়।
স্বভাব ও বিচরণক্ষেত্র (Behavior and Habitat)
মেটে কাঠময়ূর মূলত অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের পাখি। এরা চিরসবুজ বনের গভীর তলদেশের ঘন ঝোপঝাড় এবং বনের প্রচ্ছন্ন প্রান্তঘেঁষা এলাকায় বিচরণ করতে পছন্দ করে। বন্য পরিবেশে এদের সাধারণত একাকী অথবা জোড়ায় জোড়ায় (পুরুষ ও স্ত্রী পাখি একসাথে) ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
খাদ্যাভ্যাস: মেটে কাঠময়ূর কী খায়? (Diet)
এরা মূলত সর্বভুক পাখি। বনের ঘন ঝোপের নিচে এবং খোলা মাঠের লতাপাতার মধ্যে অত্যন্ত চুপিসারে ও সতর্কতার সাথে এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে:
- বিভিন্ন বন্য গাছের বীজ, শস্যদানা ও বনের রসালো ফল
- ছোট পোকামাকড় ও লার্ভা
- ছোট আকৃতির শামুক এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র বন্য প্রাণী
মেটে কাঠময়ূরের ডাক (Vocalization)
স্বভাবগতভাবে লাজুক হলেও এরা বনের ভেতর মাঝে মাঝে ডাক দিয়ে ওঠে। এদের ডাক শুনতে অনেকটা “অক-কক-কক-কক..” এর মতো শোনায়। বিশেষ করে মার্চ থেকে জুন মাসের প্রজনন ঋতুতে পুরুষ (ছেলে) পাখিরা স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করতে খুব ঘন ঘন উচ্চস্বরে ডাকতে থাকে।
প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি (Breeding and Nesting)
মার্চ থেকে জুন মাস হচ্ছে মেটে কাঠময়ূরের প্রধান প্রজনন সময়। বংশবৃদ্ধির জন্য এরা বনের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্জন স্থান বেছে নেয়।
- বাসা তৈরি: বনের ঘন ঝোপের নিচে মাটির কোনো প্রাকৃতিক গর্ত বা নিচু স্থান খুঁজে নিয়ে, সেখানে শুকনো পাতা বিছিয়ে এরা সাধারণ বাসা তৈরি করে।
- ডিম পাড়া: স্ত্রী কাঠময়ূর সাধারণত ২ থেকে ৫টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলোর রঙ পীতাভ (হালকা হলুদ) থেকে চকলেট-পীতাভ রঙের হয়ে থাকে এবং ডিমের গায়ে সুন্দর সাদা রঙের তিলা বা ছোট ছোট ফোঁটা দেখা যায়।
- ডিমের মাপ: প্রতিটি ডিমের গড় পরিমাপ প্রায় ৪.৬ × ৩.৬ সেন্টিমিটার।
- ডিম ফোটানো ও ছানার যত্ন: স্ত্রী পাখি একাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ডিমে তা দেয়। প্রাকৃতিকভাবে মাত্র ২১ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে ফুটফুটে বাচ্চা বের হয়। ডিম ফোটার পরপরই ছানারা বাসা ছেড়ে মায়ের সাথে বেরিয়ে পড়ে এবং মায়ের পাশাপাশি হেঁটে নিজেরাই খাবার খুঁটে খেতে শিখে যায়।
ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও বর্তমান অবস্থা (Geographical Distribution)
মেটে কাঠময়ূর বা কাঠমৌর পাখিটি বর্তমানে বাংলাদেশের বনাঞ্চলের এক অমূল্য ও জীবন্ত সম্পদ। আইইউসিএন (IUCN) বাংলাদেশের সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, এটি এখনও আমাদের দেশের বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে টিকে রয়েছে, তবে এদের সংখ্যা বেশ সীমিত।
- বাংলাদেশ প্রসঙ্গ: মেটে কাঠময়ূর বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত বিরল আবাসিক পাখি। এদেশের বন্য পরিবেশে এরা মূলত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ এবং আধা-চিরসবুজ গভীর পাহাড়ি বনাঞ্চলে বসবাস করে। তবে নির্বিচারে বন উজাড় ও বাসস্থান ধ্বংসের কারণে এদের সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে।
- বৈশ্বিক বিস্তৃতি: বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে এই লাজুক পাখির বৈশ্বিক উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনাম পর্যন্ত এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
- সংরক্ষণ অবস্থা: বৈশ্বিকভাবে এদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN) একে বৈশ্বিক লাল তালিকায় “ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত” (Least Concern – LC) প্রজাতি হিসেবে স্থান দিয়েছে। তবে বাংলাদেশে প্রজাতিটি বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
সংরক্ষণ অবস্থা ও আইনি সুরক্ষা (Conservation and Legal Status)
মেটে কাঠময়ূর পাখির অস্তিত্ব ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক এবং বাংলাদেশের স্থানীয় প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে:
- বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা: বনাঞ্চল ধ্বংস, পাহাড় কাটা এবং অবৈধ শিকারের কারণে আমাদের দেশে মেটে কাঠময়ূরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। তাই আইইউসিএন (IUCN) বাংলাদেশের লাল তালিকা অনুযায়ী এটি বর্তমানে বাংলাদেশে “মহাবিপন্ন” (Critically Endangered) প্রজাতি হিসেবে স্থান পেয়েছে।
- বিশ্বব্যাপী বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশে মহাবিপন্ন হলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে এদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক। এই কারণে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN) বৈশ্বিক তালিকায় একে “ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত” (Least Concern – LC) বা বিপদমুক্ত প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করে।
- আইনি সুরক্ষা: মেটে কাঠময়ূরের বিলুপ্তি রোধ করতে এবং এদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আইনিভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ১৯৭৪ এবং ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী এই প্রজাতিটিকে সম্পূর্ণ সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এই পাখি শিকার, ধরা বা এর ক্ষতি করা সম্পূর্ণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
নামকরণের ইতিহাস ও বৈজ্ঞানিক নামের রহস্য (Etymology)
মেটে কাঠময়ূরের বৈজ্ঞানিক নাম Polyplectron bicalcaratum-এর পেছনে একটি অত্যন্ত চমৎকার শারীরিক বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে রয়েছে। এদের পা ও নখরের বিশেষ গঠনের ওপর ভিত্তি করেই এই নামটি রাখা হয়েছে, যা মূলত গ্রিক এবং ল্যাটিন শব্দের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ:
- Polyplectron (পলিপ্লেকট্রন): এটি একটি গ্রিক শব্দ। যেখানে polu শব্দের অর্থ ‘বহু’ এবং plektron শব্দের অর্থ ‘গজালের মতো খাড়া নখর’ (Spur)।
- bicalcaratum (বাইক্যালক্যারাটাম): এটি একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ হলো ‘গজালের মতো খাড়া দুটি নখর’।
অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে মেটে কাঠময়ূরের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ দাঁড়ায় “নখরধারী কাঠমৌর” বা “বহু খাড়া নখরবিশিষ্ট পাখি”। মূলত এই প্রজাতির পুরুষ পাখিদের পায়ে গজালের মতো খাড়া একাধিক ধারালো নখর (Spurs) থাকে, যা তারা লড়াইয়ের সময় ব্যবহার করে। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিজ্ঞানীবৃন্দ এদের এমন নামকরণ করেছেন।
উপসংহার ও আমাদের প্রত্যাশা (Conclusion)
সিলেট ও চট্টগ্রামের চিরসবুজ বনের এক অনন্য রূপসী পাখি মেটে কাঠময়ূর। যদিও এটি বৈশ্বিকভাবে বিপদমুক্ত, তবে আমাদের বাংলাদেশের প্রকৃতিতে এরা বর্তমানে মহাবিপন্ন। বনের গভীরের এই লাজুক ও সুন্দর পাখিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে এখনই আমাদের সচেতন হতে হবে। এদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা, বনের ভেতরের ঝোপঝাড় রক্ষা করা এবং বন্যপ্রাণী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার মাধ্যমেই কেবল এই নখরধারী কাঠমৌরকে আমাদের প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
আরো পড়ুন
- মেটে কাঠময়ূর: লাজুক কাঠমৌরের স্বভাব, বৈশিষ্ট্য ও উপ-প্রজাতি
- দেশি ময়ূর: নীল ময়ূরের স্বভাব, বৈশিষ্ট্য ও নামকরণের ইতিহাস
- সবুজ ময়ূর: বর্মী ময়ূরের স্বভাব, বৈশিষ্ট্য ও অজানা তথ্য
- পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃষ্টিনন্দন দশটি চোখ জুড়ানো পাখি
- দেশি ময়ূর: নীল ময়ূরের স্বভাব, বৈশিষ্ট্য ও নামকরণের ইতিহাস
- দেশি মেটেধনেশ: পুটিয়াল ধনেশের স্বভাব, বৈশিষ্ট্য ও অজানা তথ্য
- সবুজ ময়ূর: বর্মী ময়ূরের স্বভাব, বৈশিষ্ট্য ও অজানা তথ্য
- বাংলাদেশের বিলুপ্ত পাখির তালিকা: ৩৯টি হারিয়ে যাওয়া পাখির ইতিহাস
- মেটে তিতির: এক হারিয়ে যাওয়া পাখির বৈশিষ্ট্য ও জীবনকথা | Grey Francolin
- বড় মদনটাক বা হাড়গিলা পাখি: বিলুপ্তির ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
- ছোট নাটাবটের বিশ্বে বিপদমুক্ত এবং বাংলাদেশের প্রাক্তন আবাসিক পাখি
- গোলাপি হাঁস পৃথিবী ও বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত পাখি
- বাদি হাঁস বিশ্বে বিপন্ন এবং বাংলাদেশের বিলুপ্ত পাখি
তথ্যসূত্র ও টিকা
১. সাজেদা বেগম, বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ, ২৬তম খণ্ড “পাখি”, ১ম প্রকাশ, আগস্ট ২০০৯; ইনাম আল হক, সৈয়দ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মোনাওয়ার আহমাদ ও আবু তৈয়ব আবু আহমদ সম্পাদিত; বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা; পৃষ্ঠা ১১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0।
২. বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, জুলাই ১০, ২০১২, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পৃষ্ঠা-১১৮৪৪৯।
৩. চিত্রস্বত্ব (Image Credit): এই নিবন্ধে ব্যবহৃত ছবিগুলো মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিমিডিয়া কমন্স (Wikimedia Commons) থেকে সংগৃহীত। আলোকচিত্রীর নাম: Uday Wandkar।
৪. প্রকাশ ও পরিমার্জন সংক্রান্ত নোট: এই তথ্যবহুল নিবন্ধটি সর্বপ্রথম ২২ আগস্ট ২০১৮ তারিখে জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল ‘রোদ্দুরে.কম’-এ প্রকাশিত হয়েছিল। কন্টেন্টের গুণগত মান, বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা এবং আধুনিকতা বজায় রাখতে আজ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সম্পূর্ণ নিবন্ধটি নতুন তথ্যসহ পরিমার্জন, আধুনিকীকরণ এবং আপডেট করা হলো।
💡 ৫টি চমৎকার FAQ (প্রশ্ন ও উত্তর)
উত্তর: হ্যাঁ, মেটে কাঠময়ূর বাংলাদেশের একটি বিরল আবাসিক পাখি। বর্তমানে এটি দেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের চিরসবুজ গভীর পাহাড়ি বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে টিকে রয়েছে।
উত্তর: বিশ্বব্যাপী এটি বিপদমুক্ত হলেও বাংলাদেশে মেটে কাঠময়ূর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও মহাবিপন্ন (Critically Endangered) অবস্থায় রয়েছে। বন ধ্বংস ও শিকারের কারণে এদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।
উত্তর: মেটে কাঠময়ূরের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Polyplectron bicalcaratum। এই নামটির একটি চমৎকার অর্থ রয়েছে, যার বাংলা অনুবাদ দাঁড়ায় “নখরধারী কাঠমৌর”। এটি গ্রিক এবং ল্যাটিন শব্দের সংমিশ্রণে গঠিত; যেখানে গ্রিক Polyplectron শব্দের অর্থ ‘বহু খাড়া নখর’ এবং ল্যাটিন bicalcaratum শব্দের অর্থ ‘গজালের মতো খাড়া দুটি নখর’। মূলত এই পাখির পায়ে থাকা ধারালো নখরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিজ্ঞানীবৃন্দ এদের এই নামকরণ করেছেন।
উত্তর: বাংলাদেশে মেটে কাঠময়ূরের ২টি উপ-প্রজাতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে হালকা পীতাভ রঙের P. b. bicalcaratum পাওয়া যায় সিলেট বিভাগে এবং অতি ধূসর রঙের P. b. bakeri পাওয়া যায় চট্টগ্রাম বিভাগে।
উত্তর: স্ত্রী মেটে কাঠময়ূর বনের ঘন ঝোপের নিচে মাটির প্রাকৃতিক গর্তে ডিম পাড়ে এবং একাই তা দেয়। প্রাকৃতিকভাবে মাত্র ২১ দিনের মধ্যে এদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
অনুপ সাদি বাংলাদেশের একজন লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও চিন্তাবিদ। তাঁর প্রথম কবিতার বই পৃথিবীর রাষ্ট্রনীতি আর তোমাদের বংশবাতি প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তাঁর মোট প্রকাশিত গ্রন্থ ১৭টি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর সমাজতন্ত্র ও মার্কসবাদ গ্রন্থ দুটি পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। ২০১০ সালে সম্পাদনা করেন বাঙালির গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা নামের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ। তিনি ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাস করেন এবং পোখরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।