সাদা গুইচা চিরহরিৎ অরণ্যে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ

গুল্ম

সাদা গুইচা

বৈজ্ঞানিক নাম: Combretum decandrum Roxb., p.। Corom. 1: 43, t. 59 (1796).  সমনাম: Combretum roxburghii Spreng. (1825), Poivrea roxburghii DC. (1828). ইংরেজি নাম: White Combretum স্থানীয় নাম: কালী গুমুকি, সাদা গুইচা। জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ:  Angiosperms. অবিন্যাসিত:  Tracheophytes. অবিন্যাসিত: Rosids. বর্গ: Myrtales পরিবার:  Combretaceae. গণ: Combretum. প্রজাতি: Combretum decandrum.

ভূমিকা: সাদা গুইচা (বৈজ্ঞানিক নাম: Combretum decandrum) বাংলাদেশের সব পাহাড়িঞ্চলে জন্মে। এছাড়াও ভেষজ চিকিৎসায় কাজে লাগে।

সাদা গুইচা-এর বর্ণনা:

কাষ্ঠল আরোহী বা বৃহৎ ও ছড়ানো গুল্ম। শাখা মসৃণ, ধূসর বাদামী, পুরাতন শাখা মসৃণ, তরুণ অংশ মরচে রোমশ পরবর্তীতে মসৃণ।

পত্র কাগজবৎ, বাদামী, উপরের অংশ উজ্জ্বল দীর্ঘায়ত উপবৃত্তাকার বা ডিম্বাকৃতি দীর্ঘায়ত, মসৃণ, ৫.০-১৭.৫ x ২.৫-৭.০ সেমি, শীর্ষ দীর্ঘা, মূলীয় অংশ গোলাকার বা সামান্য কীলকাকার,

শিরার মধ্যবর্তী স্থান সমূহ প্রশস্ত, ৬-৮ জোড়া,প্রান্ত অখন্ড, মসৃণ থেকে স্বল্প রোশম, বৃন্ত ৪-১১ মিমি লম্বা, রোশম, পরিপক্ক অবস্থায় রোম কালো বর্ণে পরিণত।

পুষ্প বিন্যাস অক্ষীয় স্পাইক বা শীর্ষীয় প্যানিকেল, ১০-১৩ সেমি লম্বা, স্পাইক খাটো, ঘন বা পাতলা রোমশ, ২-৮ সেমি লম্বা, পুষ্প পত্র স্পষ্ট, গৌর বর্ণযুক্ত, ডিম্বাকৃতি দীর্ঘায়ত, ৩-৫ মিমি লম্বা, রোমশ।

বৃতিনল পেয়ালাকৃতি, বহিভাগ ঘন কোমল রোমশ, অভ্যন্তর সামান্য রোমযুক্ত, ২ x ১ মিমি, খন্ড কোনাকৃতি, পাপড়ি ৫ টি, ডিম্বাকৃতি, সূক্ষ্মাগ্র, ১.৫ মিমি লম্বা, হলুদ।

পুংকেশর ১.৫-২.০ মিমি লম্বা, গর্ভাশয় প্রশস্ত দীর্ঘায়ত, ২ মিমি লম্বা, ডিম্বক ২ টি, গভর্দন্ড ১.৫-২.০ মিমি লম্বা, ফল নাট, ৫ পক্ষল, ডিম্বাকার, ২.০-২.৫ x ১.৩-২.০ সেমি, মসৃণ, অর্থদন্ডক, হালকা বাদামী, মসৃণ।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

চিরহরিৎ বা অর্ধচিরহরিৎ অরণ্যের কিনারা। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল ডিসেম্বর-মার্চ।

সাদা গুইচা-এর বিস্তৃতি:

ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও লাওস। বাংলাদেশের চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাঙ্গামাটি এবং সিলেট জেলায় জন্মে।

আরো পড়ুন:  ছাতিদণ্ডী উপকারী ভেষজ গুল্ম

ব্যবহার:

সুপারির পরিবর্তে বাকল চিবানোর ব্যবহার প্রচলিত আছে। কান্ড দ্বারা ঝুড়ি তৈরি হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) সাদা গুইচা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে সাদা গুইচা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির চাষাবাদ প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

১. হোসনে আরা (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৪০-২৪১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!