গৈছুই দক্ষিণ পুর্ব এশিয়ার অরণ্যে জন্মানো উদ্ভিদ

গুল্ম

গৈছুই

বৈজ্ঞানিক নাম: Combretum latifolium Blume, Bijdr. 2: 641 (1825). সমনাম: Combretum extensum Roxb. (1814), Combretum rotundifolium Roxb. (1832). ইংরেজি নাম: Large Leaved, Climbing Bushwillow. স্থানীয় নাম: বনলতা, গৈছুই, কাম লতা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ:  Angiosperms. অবিন্যাসিত:  Tracheophytes. অবিন্যাসিত: Rosids. বর্গ: Myrtales পরিবার:  Combretaceae. গণ: Combretum. প্রজাতি: Combretum latifolium.

ভূমিকা: গৈছুই (বৈজ্ঞানিক নাম: Combretum latifolium) বাংলাদেশের সব পাহাড়িঞ্চলে জন্মে। এছাড়াও ভেষজ চিকিৎসায় কাজে লাগে।

গৈছুই-এর বর্ণনা:

বৃহৎ ছড়ানো গুল্ম বা কাষ্ঠল আরোহী, তরুণ শাখা শল্কপত্র যুক্ত, পুরাতন শাখা মসৃণ। পত্র কাগজবৎ, প্রতিমুখ, প্রশস্ত উপবৃত্তাকার থেকে ডিম্বাকৃতি-উপবৃত্তাকার, ৮-১৮ X ৫.০-১০.৫ সেমি, শীর্ষ দীর্ঘাগ্র, মূলীয় অংশ কীলকাকার, স্থূলা বা গোলাকার, শিরা ৫-৮ জোড়া, প্রশস্ত ফাঁক যুক্ত, প্রান্ত অখন্ড, বৃন্ত তরুণ অবস্থায় শল্কবৎ, ১০-৩০ মিমি লম্বা,

পুষ্প বিন্যাস শীর্ষীয় বা অক্ষীয় প্যানিকেল, প্রায় ২০ সেমি লম্বা, শাখান্বিত বা অশাখ, পুষ্প মঞ্জরী অক্ষ রোমশ, স্পাইক ৫-১০ সেমি লম্বা, মঞ্জরীপত্র ক্ষুদ্র তৃরামোচী, সূত্রাকার পুষ্প চতুরাংশক, ধুতুরাকার, হরিদ্রাভ সাদা বা হরিদ্রাভ হলুদ, ১০-১৩ মিমি লম্বা, অর্ধবৃন্তক।

বৃতি চোঙ্গাকৃতি, সরু নলাকার, ৫-৬ মিমি লম্বা, শীর্ষাংশ বর্ধিত, কোণাকৃতি, শীর্ষ সূক্ষ্মাগ্র ৩-৪ মিমি লম্বা। পাপড়ি ৪ টি, গোলাকার বা দীর্ঘায়ত। পুংকেশর ৮ টি ৫-৬ মিমি লম্বা, চাকতির প্রান্তে সন্নিবিষ্ট, চাকতি চোঙ্গাকৃতি, রোমশ।

গর্ভাশয় উপবৃত্তাকার, ২.০-২.৫ মিমি লম্বা, রোমশ, ডিম্বক ২-৩ টি, গর্ভদন্ড ৮-১০ মিমি, শক্ত। ফল কাগজ সদৃশ নাট, বিডিম্বাকার বা বর্তুলাকার, ২-৩ x ২.০-৩.২ সেমি, রোমশ, ৪ পক্ষল, ১.০-১.৩ সেমি প্রশস্ত, নাট শল্কপত্রবৎ, দণ্ড ২৫ মিমি লম্বা।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

অরণ্যের কিনারা, উন্মুক্ত জলাশয় ও নদীর তীরবর্তী ভূখন্ড। ফুল ও ফল ধারণ সময় ডিসেম্বর-মে। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।

গৈছুই-এর বিস্তৃতি:

ভারত, শ্রীলংঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ চীন (উনান এবং ওয়ানতুং), মালয়েশিয়া, নিউগিনি ও ফিলিপাইন। বাংলাদেশের চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ এবং সিলেট জেলায় জন্মে।

আরো পড়ুন:  লম্বা পাতা মাকাঞ্চি বাংলাদেশের পাহাড়িঞ্চলে জন্মানো গুল্ম

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) গৈছুই প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের আবাসভূমি ধ্বংসের কারণে দেখা যায় সংকটের মুখে আছে এবং বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে গৈছুই সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির যথাস্থানের বাইরে সংরক্ষণ প্রয়োজন।  

তথ্যসূত্র:

১. হোসনে আরা (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৪২-২৪৩। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke

Leave a Comment

error: Content is protected !!