পাতিউনি পর্ণমোচী অরণ্যে জন্মানো ভেষজ উদ্ভিদ

গুল্ম

পাতিউনি

বৈজ্ঞানিক নাম: Combretum acuminatum Roxb., Fl. Ind, ed. 2: 228 (1832). সমনাম: Combretum costatum Roxb. (1832). স্থানীয় নাম: পাতিউনি, পত্যায়উনি।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Myrtales. পরিবার: Combretaceae. গণ: Combretum প্রজাতির নাম: Combretum acuminatum

ভূমিকা: পাতাউনি (বৈজ্ঞানিক নাম: Combretum acuminatum) চিরহরিৎ বনাঞ্চলে জন্মানো এক প্রকারের লতানো গুল্ম।

পাতিউনি-এর বর্ণনা:

বৃহৎ আরোহী গুল্ম, শাখা ও পুষ্প বিন্যাস রোমশ বিহীন, তরুণ বিটপ ঘন শুল্কপত্রে আবৃত, পত্র কাগজবৎ বা অর্ধচর্মবৎ, প্রশস্ত উপবৃত্তাকার, দীর্ঘায়ত উপবৃত্তাকার বা প্রশস্ত ভল্লাকার, ১০-২১ x ৯-১১ সেমি, শীর্ষ দীর্ঘা,

মুলীয় অংশ কীলকাকার, স্থুলাগ্র বা গোলাকার; প্রান্ত অখন্ড, শিরা ৮-১২ জোড়া, উর্ধ্বাংশ অস্পষ্ট, ঘন শল্কাকৃতি, রোমশ বিহীন, ৪-৭ (-১০) মিমি লম্বা।

পুষ্পবিন্যাস অক্ষীয় স্পাইক বা প্রান্তীয় প্যানিল, স্পাইক ৩.৫-৭.০ (-১০) সেমি লম্বা, অশাখ, মঞ্জরী পত্র ছোট, তুরপুনাকার, পর্ণমোচী, বৃন্ত ১.০-১.৫ মিমি লম্বা।

পুষ্প হলুদ, চতুরাংশক, অবৃন্তক, পেয়ালাকৃতি, ২-৩ মিমি লম্বা। বৃতি ২-৩ মিমি ব্যাসযুক্ত, ৪ খন্ডিত, ব-দ্বীপকার (ত্রিকোণাকার), ১ মিমি লম্বা। পাপড়ি ৪ টি, হলুদ, সরু উপবৃত্তাকার, ছোট, প্রায়শই ০.৫ মিমি লম্বা।

পুংকেশর ৮ টি, বহির্মুখী, ৪-৭ মিমি লম্বা। গর্ভাশয় ঘন শল্কাকার, গর্ভদন্ড ৫.৫ মিমি লম্বা। ফল ডুপ, ৪ টি, প্রান্ত সরু, সামান্য রোমশ, বাদামী থেকে কালচে এবং শুষ্কাবস্থায় উজ্জ্বল।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:

জলাভূমি, প্লাবিত অঞ্চল, চিরহরিৎ, অর্ধপর্ণমোচী এবং পর্ণমোচী অরণ্যের জলাধারের তীরবর্তী ভুখন্ড। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়।

পাতিউনি-এর বিস্তৃতি:

ভারত (type), শ্রীলংঙ্কা, মায়ানমার, থ্যাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পেনিনসুলা, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ পশ্চিম সেলিবিস, মোলাক্কা ও নিউগিনি। বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, সিলেট এবং পার্বত্য চট্রগ্রামে জন্মে।

ব্যবহার:

পেটে ফিতা কৃমি হলে এর পাতার রস উপকারী। এছাড়াও পেটের সমস্যায় এর পাতার ক্বাথ উপকারী।

আরো পড়ুন:  দেশি পেটারি গুল্মের বিবরণ ও দশটি ভেষজ ব্যবহার

জাতিতাত্বিক ব্যবহার:

পার্বত্য চট্রগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায় স্বরভঙ্গ পীড়া নিরসনে পাতার ক্বাথ ব্যবহার করে।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৭ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) পাতিউনি প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের আবাসভূমি ধ্বংসের কারণে দেখা যায় সংকটের মুখে আছে এবং বাংলাদেশে এটি সংকটাপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশে পাতিউনি সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে যথাস্থানের বাইরে সংরক্ষণ প্রয়োজন।[১]

তথ্যসূত্র:

১. এম কে মিয়া (আগস্ট ২০১০)। “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ। ৭ম (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। পৃষ্ঠা ২৩৯। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি plantsoftheworldonline.org থেকে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!