ভূমিকা: ধান লং (বৈজ্ঞানিক নাম: Ludwigia perennis) হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ বিরুৎ। এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।
ধান লং-এর বর্ণনা:
এই প্রজাতি দেখতে খাড়া বা অশাখ বর্ষজীবী বীরুৎ। উচ্চতায় ১ মিটার পর্যন্ত উচু, কচি অংশ অর্ধ মসৃণ থেকে কিঞ্চিৎ অণুরোমাবৃত। পাতা সরল, ২.৫ থেকে ১০.২ সেমি দৈর্ঘ্য ও ০.৩-১.৭ সেমি প্রস্থ, সরু উপবৃত্তাকার থেকে ভল্লাকার, কখনও রৈখিকাকার, পাদদেশ সরু কীলকাকার, অগ্রভাগ উপখাতাম, শিরা ৬-১২ জোড়া, উপপ্রান্তীয়, শিরাগুলো কম বিকশিত, পত্রবৃদ্ধ ২.৩-৮.০ মিমি লম্বা, পাখনাযুক্ত।
পুষ্প হলুদ, পুষ্পবৃন্ত ২ মিমি পর্যন্ত লম্বা। বৃত্যংশ ৪টি, কদাচিৎ ৫টি, ২-৩৪ ০.৮-১.২ মিমি, ব-দ্বীপাকার, মসৃণ বা কিঞ্চিৎ অণুরোমাবৃত। পাপড়ি ১-৩ x ০.৭-২.০ মিমি, উপবৃত্তাকার। পুংকেশর সচরাচর ৪টি, কদাচিৎ ৫টি, পুংদন্ড ০.৫-১.০ মিমি লম্বা, পরাগধানী ০.৪- ০.৯ ০ ০.২-০.৫ মিমি, মোটা। ফল ক্যাপসিউল, ৪-১৬ × ২.০-৩.৫ মিমি, গোলাকার, ফলত্বক ক্ষীণ, মসৃণ বা কিঞ্চিৎ অণুরোমাবৃত, ফ্যাকাশে বাদামী, তৎক্ষনাৎ এবং অনিয়মিত প্রকোষ্ঠবিদারী, অবৃন্তক বা খর্বাকার বৃন্তবিশিষ্ট। বীজ ০.৩- ০.৬ × ০.২-০.৩ মিমি, উপবৃত্তাকার-গোলাকৃতি, প্রতিটি প্রকোষ্ঠে বহু শ্রেণীতে সজ্জিত, ডিম্বক নাড়ি অতীব সরু এবং অস্পষ্ট।
ক্রোমোসোম সংখ্যা : 2n = ১৬ (Shetty and Subramanyam. 1971).
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:
সচরাচর যেমন রৌদ্রযুক্ত এবং আর্দ্র পতিত জমিতে জন্মায় তেমনি ধানক্ষেত, পাটক্ষেত এবং ইক্ষুক্ষেতে জন্মায়। কখনও খাল, নদী-নালার পাড়, শুদ্ধ নদীগর্ভ এবং ভারী কাদামাটিতে জন্মায়। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল ফেব্রুয়ারী-ডিসেম্বর। বংশ বিস্তার হয় বীজের মাধ্যমে।
বিস্তৃতি :
গ্রীষ্ম প্রধান আফ্রিকা, মাদাগাস্কারের উত্তর- পশ্চিমাঞ্চল, গ্রীষ্ম প্রধান এবং অর্ধ গ্রীষ্ম প্রধান এশিয়া, চীন, আফগানিস্তান, গ্রীষ্ম প্রধান অস্ট্রেলিয়া, জাপানের পূর্বাংশ থেকে দক্ষিণাংশ, মালয়েশিয়া থেকে নিউ ক্যালেডোনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। টাইপ (type) প্রজাতিটি শ্রীলংকার আর পাকিস্তানে বিরল। বাংলাদেশে ইহা দেশের সর্বত্র বিস্তৃত।
ব্যবহার:
সাধারণত ইহা শস্যক্ষেতের একটি সাধারণ আগাছা। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ইহা অন্যান্য ঘাসের সাথে মিশিয়ে গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্যথার মাড়িতে নরম কাণ্ড ঘষে দেওয়া হয়। গাছটি তেলে সেদ্ধ করে শরীরে লাগালে জ্বর কমে।
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) ধান লং প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে ধান লং সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।
তথ্যসূত্র:
১. বি এম রিজিয়া খাতুন (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৯ম, পৃষ্ঠা ৩৬০-৩৬১। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
২. “Perennial Water Primrose”, flowersofindia.net, ইউআরএলঃ https://www.flowersofindia.net/catalog/slides/Perennial%20Water%20Primrose.html
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Syed Parvez
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।