বন পুদিনা বহুবর্ষজীবী বীরুৎ

বন পুদিনা

বৈজ্ঞানিক নাম: Mentha arvensis L., Sp. Pl.: 577 (1753). সমনাম: জানা নেই। ইংরেজি নাম: Japanese Mint. স্থানীয় নাম: বন পুদিনা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Lamiales. পরিবার: Lamiaceae. গণ: Mentha প্রজাতির নাম: Mentha arvensis

ভূমিকা: বন পুদিনা (বৈজ্ঞানিক নাম: Mentha arvensis) হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ বীরুৎ । এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।

বন পুদিনা- এর বর্ণনা :

তীব্র গন্ধযুক্ত বহুবর্ষজীবী বীরুৎ, ৬০ সেমি পর্যন্ত লম্বা। কাণ্ড চতুষ্কোণাকার, খাঁজযুক্ত, নিচে মসৃণ এবং উপরিভাগে রোমশ অথবা সর্বত্র প্রায় মসৃণ। পত্র সবৃন্তক, পত্রবৃন্ত ০.৫-১.০ সেমি লম্বা, রোমশ, পত্রফলক ২-৪ × ০.৫-১.০ সেমি, উপবৃত্তাকার-বল্লমাকার, করাত দস্তুর, সূক্ষ্মাগ্র, উপরের পৃষ্ঠে এবং নিম্নপৃষ্ঠের শিরার উপরে রোমশ। পুষ্পমঞ্জরী অক্ষীয় মুণ্ডাকার আবর্ত। মঞ্জরীপত্র প্রায় ২.০ ০ ০.১ সেমি, উপবৃত্তাকার, অখণ্ড দীর্ঘাগ্র, সিলিয়াযুক্ত। বৃতি প্রায় ০.২ সেমি লম্বা, ঘন্টাকার, ফলে বর্ধিত, ০.৩ সেমি পর্যন্ত লম্বা, দন্তক এবং শিরা সিলিয়াযুক্ত। দলমণ্ডল উভয়পৃষ্ঠে অণুরোমশ। পুংকেশর ৪টি, সমান, খাড়া, পুংদণ্ড মসৃণ, পরাগধানী ২টি সমান্তরাল কোষযুক্ত। নাটলেট ডিম্বাকার, বাদামি, মসৃণ। ক্রোমোসোম সংখ্যা : ২n = ১২, ৬০, ৭২।

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার: আর্দ্র মৃত্তিকায় জন্মে। বীজ থেকে নতুন চারা জন্মে।

বিস্তৃতি :

ইউরোপ থেকে চীন পর্যন্ত ব্যাপক বিস্তৃত। বাংলাদেশে ইহা দেশের সর্বত্র বাগানে চাষ করা হয়।

ব্যবহার:

শুকনো উদ্ভিদ শীতলকারক, পাকস্থলীর উপকার সাধক, মূত্রবর্ধক এবং উদ্দীপক। এর মাঝে মাংসপেশীর প্রচন্ড অনৈচ্ছিক আক্ষেপ উপশমের ও ঋতুস্রাব উন্নতি সাধনের গুণাগুন বিদ্যমান এবং ইহা জণ্ডিসে ব্যবহৃত হয়। তাজা উদ্ভিদ হতে তৈরীকৃত চাটনী যা পুরো বাংলায় খাওয়া হয়। পাতার রস বিষাক্ত প্রাণীর হুল ফোঁটানো বা কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয় এবং প্রায় সময়ই বমি বন্ধকরণে ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ৮ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) বন পুদিনা প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এদের শীঘ্র কোনো সংকটের কারণ দেখা যায় না এবং বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে বন পুদিনা সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির বর্তমানে সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:    

১. মাহবুবা খানম (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৮ম, পৃষ্ঠা ৩০২। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Paul Harrison

Leave a Comment

error: Content is protected !!