চোরপাতা দক্ষিণ এশিয়ার ভেষজ গুল্ম

চোরপাতা

বৈজ্ঞানিক নাম: Dendrocnide sinuata. সমনাম : Urtica sinuata, Urtica pulus, Laportea crenulata (Roxb.) Gaud।  ইংরেজি নাম : Stinging Tree, Devil Nettle, Mousa Nettle, Elephant Fever Nettle, Mouse Nettle। স্থানীয় নাম : চোরপাতা। 
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Eudicots. বর্গ: Rosales. পরিবার: Urticaceae. গণ: Dendrocnideপ্রজাতির নাম: Dendrocnide sinuata

ভূমিকা: চোরপাতা (বৈজ্ঞানিক নাম: Dendrocnide sinuata) হচ্ছে  এক প্রকারের ঝোপালো ভেষজ গুল্ম। এই প্রজাতিটি পূর্ব এশিয়ার দেশে জন্মায়।

চোরপাতা-এর বিবরণ:

চোরপাতা হল বড়ো গুল্ম থেকে ছোটো গাছ। যার শাখাপ্রশাখা গোলাকার, সাদা এবং নরম হুল-জাতীয় চুলে আবৃত। পাতা ২০ x ১০ সেমি পর্যন্ত হয়, উপবৃত্তাকার থেকে দীর্ঘায়িত বল্লমাকার, উভয় প্রান্ত সূচালো, প্রান্তসীমা অখণ্ড বা গোলাকার দন্তযুক্ত, পার্শ্বীয় শিরা ৯ জোড়া, পত্রবৃন্ত ৬ সেমি পর্যন্ত লম্বা। ফুল পাতার কক্ষে জন্মে, বৃন্তযুক্ত সাইমে, শাখাগুলি দ্বিবিভাজিত, ২০ x ২০ সেমি পর্যন্ত। ফুল একলিঙ্গ বা দ্বিলিঙ্গ; পুরুষ টেপাল ৪ বা ৫টি, ডিম্বাকার, কাপ-আকৃতির; স্ত্রী টেপাল ৪টি, ডিম্বাকার, মুক্ত, মখমল-জাতীয় রোমশ; পুংকেশর ৪টি, মুক্ত; গর্ভপিণ্ডদণ্ড গদাকার; ডিম্বাশয় ১-কোষী, ডিম্বক একক; গর্ভদণ্ড ৪ মিমি লম্বা, রোমাবৃত, স্থায়ী। এসিন ফল ৬ মিমি, ডিম্বাকার, সাদা, রোমহীন। ফুল ফোটে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে। [১]

ভেষজ গুণাগুণ

ত্বকের সংস্পর্শে এলে এই নেটল যন্ত্রণাদায়ক চুলকানি, ফুসকুড়ি, জ্বর ও ঠাণ্ডা লাগা, ত্বকে অবনমন ও আর্দ্রতা সৃষ্টি করে। যা ১০ দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত পুনরায় ফিরে আসতে পারে।[১] শিকড়ের রস দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের জন্য ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। জন্ডিসের চিকিৎসার জন্য শিকড় সিদ্ধ করে তার ক্বাথও পান করা হয়। ফোঁড়া, ক্ষত, পোড়া ও ফুসকুড়ি নিরাময়ের জন্য শিকড় ও পাতা দিয়ে প্রলেপ তৈরি করে প্রয়োগ করা হয়। ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায় জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, ম্যালেরিয়া, আমাশয়, মূত্রজনিত রোগ, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ফোলা, অন্ধ ফোঁড়া এবং অতি সংবেদনশীলতার মতো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন:  রাজমা লতানো বর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ

চোরপাতা-এর বিস্তৃতি:

ভেজা চিরহরিৎ বনে, নদীর ধারে এবং গাছের তলায় জন্মায়। এটি দক্ষিণ ভারত, শ্রীলঙ্কা, বিহার, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মায়ানমার, ভুটান, সিকিম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীনে পাওয়া যায়।

এছাড়া ভারতের মেঘালয়ের খাসি পাহাড় এবং গারো পাহাড়ের নিম্ন প্রান্তের গ্রীষ্মমন্ডলীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চলে জন্মে।[২]

তথ্যসূত্র:

১. “Dendrocnide sinuata”, flowers of india, ইউআরএলঃ https://www.flowersofindia.net/catalog/slides/Stinging%20Tree.html

২. “Dendrocnide sinuata”, efloras.org, ইউআরএলঃ http://www.efloras.org/florataxon.aspx?flora_id=2&taxon_id=242317378

বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Momang Taram

Leave a Comment

error: Content is protected !!