দেশি কার্পাস এশিয়ায় জন্মানো বর্ষজীবী বৃক্ষ

দেশি কার্পাস

বৈজ্ঞানিক নাম: Gossypium arboreum L., Sp. Pl.: 693 (1753). সমনাম: Gossypium indicum Medic. (1784), Gossypium obtusifolium Roxb. ex G. Don (1831), Gossypium nanking Meyen (1834). ইংরেজি নাম: Tree Cotton, Comilla Cotton. স্থানীয় নাম: দেশি কার্পাস, রুই, তুলা।
জীববৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস 
জগৎ/রাজ্য: Plantae. বিভাগ: Angiosperms. অবিন্যাসিত: Edicots. বর্গ: Malvales. পরিবার: Malvaceae. গণ: Gossypium প্রজাতির নাম: Gossypium arboreum

ভূমিকা: দেশি কার্পাস (বৈজ্ঞানিক নাম: Gossypium arboreum) হচ্ছে  এক প্রকারের বর্ষজীবী বৃক্ষ। এই প্রজাতিটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে জন্মায়।

দেশি কার্পাস-এর বর্ণনা :

দেশি কার্পাস বর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী গুল্ম অথবা ছোট বৃক্ষ। এটি ১- ২ মিটার উঁচু হয়। এদের কচি শাখা, পত্রবৃন্ত এবং পুষ্পবৃত্তিকা ক্ষুদ্রাকৃতির তারকাকার রোম এবং মৌলিক সাধারণ রোমের মিশ্রনে ঢাকা। পাতা ১.৫-১২.০ সেমি লম্বা বৃত্তযুক্ত, ফলক ডিম্বাকার থেকে বর্তুলাকার, হৃৎপিণ্ডাকার, ৩-৫ খন্ডক বা অংশ বিশিষ্ট এবং পত্রখন্ডীয় খাঁজ একটি অতিরিক্ত দন্ত কযুক্ত, উপপত্র ০.৫-১.৫ সেমি লম্বা, রৈখিক থেকে ভল্লাকার, প্রায়শই কাস্তে আকৃতির।

পুষ্প একক, কাক্ষিক। পুষ্পবৃত্তিকা ০.৫-১.৫ সেমি লম্বা। উপবৃতির খন্ডাংশগুলো ১.৫-৩.০ × ১.০-২.৫ সেমি, ডিম্বাকার, অখন্ড বা দন্ত কযুক্ত, হৃৎপিণ্ডাকার, তীক্ষ্ণ, বর্ধনশীল। বৃতি প্রায় ৫ মিমি লম্বা, পেয়ালাকৃতির, অস্পষ্টভাবে ৫-দন্তকবিশিষ্ট। দলমন্ডল ফ্যাকাশে হলুদ, কদাচিৎ লাল বা রক্তবেগুনী, পাপড়ি ৩-৫ সেমি লম্বা, বি-ডিম্বাকার, একটি রক্তবেগুনী বর্ণের কেন্দ্রযুক্ত বা কেন্দ্রবিহীন।

পুংকেশর অসংখ্য এবং ১.৫-২.০ সেমি লম্বা একটি স্তম্ভ গঠন করে, পুংদন্ড ১.৫- ২.০ মিমি লম্বা। গর্ভকেশর ৩-৪ প্রকোষ্ঠীয় গর্ভাশয় এবং একটি খাট গর্ভদন্ড নিয়ে গঠিত যা একটি মূষলাকৃতির এবং লম্বালম্বিভাবে খাঁজযুক্ত গর্ভমুণ্ডবিশিষ্ট।

ফল একটি ক্যাপসিউল, ১.৫-৩.০ সেমি ব্যাস বিশিষ্ট, নিরেট ডিম্বাকার থেকে গোলকবৎ, ৪ মিমি পর্যন্ত লম্বা একটি বীকযুক্ত, বাইরের পৃষ্ঠ ঘন কূপযুক্ত এবং মসৃণ, ৩-৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। বীজ প্রতি প্রকোষ্ঠে ৫-১৭ টি, নিরেট ডিম্বাকার থেকে বর্তুলাকার, প্রতিটি ৫-৭ মিমি ব্যাস বিশিষ্ট, মোটামুটি লম্বা, প্রচুর পরিমাণ সাদা বা তাম্র বর্ণের কাপড়ের মত আবরণ বীজের সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত, কণা বর্তমান।

আরো পড়ুন:  ইসবগুল-এর ছয়টি উপকারিতা

ক্রোমোসোম সংখ্যা: 2n = ২৬, ৫২ (Fedorov, 1969).

আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার :

Arboreum উপজাতটি রাস্তার পাশে এবং বাড়ির আঙ্গিনায় লাগানো হয় আর cernum উপজাতটি পার্বত্য এলাকায় চাষ হয়। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল অক্টোবর-জানুয়ারী। বীজ থেকে নতুন চারার জন্ম হয়।

বিস্তৃতি :

গ্রীষ্মমণ্ডল এবং উপগ্রীষ্মমন্ডল ব্যাপিয়া। বাংলাদেশে arboreum উপজাতটি সমতল ভূমির সর্বত্র চাষ হয় আর cernum উপজাতটি পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়ী অঞ্চলে জুম চাষ পদ্ধতিতে চাষ হয়।

অর্থনৈতিক ব্যবহার/গুরুত্ব/ক্ষতিকর দিক:

ইহার আঁশ মোটা এবং অত্যন্ত খাট কিন্তু অত্যন্ত শক্ত ও ইহা থেকে উৎপন্ন কাপড় উৎকৃষ্ট মানের হওয়ায় অর্থনৈতিক দিক দিয়ে cernum উপজাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Pandey, 1980). Arboreum উপজাত থেকে প্রস্তুত কাপড় নিম্নমানের হওয়ায় এই উপজাতটি অন্যটি থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ। ইহা শোভা বর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে ও লাগানো হয়।

অন্যান্য তথ্য:

বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের  ০৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) দেশি কার্পাস প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে এটি আশঙ্কামুক্ত। বাংলাদেশে দেশি কার্পাস সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে এটি সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র ও টিকা:

১. এম মতিয়ূর রহমান (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ০৯ম, পৃষ্ঠা ৩০। আইএসবিএন 984-30000-0286-0

টীকা: বাংলাদেশে এই প্রজাতির দুইটি উপজাত যেমন উপজাত arboreum এবং উপজাত cernum এর চাষ হয়। প্রথোমোক্তটির ক্যাপাসিউল ৫ সেমি এর কম লম্বা এবং প্রতি প্রকোষ্ঠে ১১টি বীজ বিদ্যমান আর শেষোক্তটির ক্যাপস্যুল ৫ সেমি এর বেশী লম্বা এবং প্রতি প্রকোষ্ঠে বীজ ১৩-১৭টি।

[বি.দ্র: প্রবন্ধে ব্যবহৃত ছবিটি উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রী: Agnieszka Kwiecień, Nova

Leave a Comment

error: Content is protected !!