ভূমিকা: দেশি সির্খী (বৈজ্ঞানিক নাম: Maesa indica) হচ্ছে এক প্রকারের ভেষজ গুল্ম। এই প্রজাতিটি এশিয়ার দেশে জন্মায়।
দেশি সির্খী-এর বর্ণনা:
এটি গুল্ম বা ছোট বৃক্ষ, বাকল গাঢ় ধূসর, রেজ (blaze) সবুজাভ। গাছের পাতা ৬-১৮ × ২.৫-৭.৫ সেমি, উপবৃত্তাকার- ভল্লাকার বা উপবৃত্তাকার-দীর্ঘায়ত, স্থুল দন্তর, অর্ধচর্মবৎ, মসৃণ, পার্শ্বশিরা অস্পষ্ট, মধ্যশিরার উভয়পাশে ৭-১৫টি, পত্রবৃন্ত ১.২-২.৫ সেমি লম্বা, খাঁজবিশিষ্ট। পুষ্পমঞ্জরী অনির্দিষ্ট, মসৃণ, ঘন নয়, পাতা থেকে খর্বাকার। ফুল সাদা। বৃতি ক্ষুদ্র, নল কমবেশী গর্ভাশয় লগ্ন, খন্ডক ৫টি, ডিম্বাকার-স্থুলাগ্র, সিলিয়াযুক্ত, কমবেশী শিরিত। দলমন্ডল আড়াআড়িভাবে ০.২ সেমি (প্রায়), নল অতি খর্ব, খন্ডকগুলো প্রান্ত-আচ্ছাদী, গোলাকার। পুংকেশর ৫টি, পুংদন্ডগুলো খাটো, পরাগধানী বাদামী, পৃষ্ঠলগ্ন। গর্ভাশয় অর্ধঅধোগর্ভ, ডিম্বক অনেক, গর্ভদন্ড খর্বাকার, ফলের সাথে স্থায়ী, অস্পষ্টভাবে খন্ডিত। ফল বেরী, ক্ষুদ্র, আড়াআড়িভাবে ০.৪ সেমি (প্রায়), গোলাপী সাদা, পরিপক্ক অবস্থায় রসালো।
ক্রোমোসোম সংখ্যা : 2n = ২০ (Kumar and Subramaniam, 1986).
আবাসস্থল ও বংশ বিস্তার:
অরণ্যের প্রান্ত এবং জুম চাষকৃত অঞ্চলে। ফুল ও ফল ধারণ সময়কাল এপ্রিল থেকে জানুয়ারী। বংশ বিস্তার হয় বীজ দিয়ে।
বিস্তৃতি :
ভারত, ইন্দোনেশিয়া (জাভা), মায়ানমার, ইন্দোচীন এবং থাইল্যান্ড। বাংলাদেশে ইহা সিলেট জেলা থেকে রিপোর্ট করা হয়েছে (Alam, 1988).
ব্যবহার:
শোনা যায় ইহার শিকড়ে ও ফলে ভেষজ গুণাবলী বর্তমান (Deb, 1981). জ্বরে এবং রোগ মুক্তিকালে ইহার পাতার ক্বাথ গোসলে ব্যবহৃত হয়ে থাকে (Kanjilal et al., 1982). ইন্দোচীনে দাদ এবং এ্যালার্জিজনিত চুলকানীর চিকিৎসায় এর পাতা গুঁড়া করে বাহিরের ত্বকে ব্যবহার হয়। ভারতে এর পাতা মাছের বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও পাতা তরকারীতে বা সব্জি হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে (Lemmens and Bunyapraphatsara, 2003).
অন্যান্য তথ্য:
বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষের ৯ম খণ্ডে (আগস্ট ২০১০) দেশি সির্থী প্রজাতিটির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আবাস্থল ধ্বংসের কারনে বাংলাদেশে এটি হুমকির সম্মুখীন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে দেশি সির্থী সংরক্ষণের জন্য কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রস্তাব করা হয়েছে যে এই প্রজাতিটির স্ব-স্থানের বাইরে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
তথ্যসূত্র:
১. এ বি এম রবিউল ইসলাম ও এ বি এম এনায়েত হোসেন (আগস্ট ২০১০) “অ্যানজিওস্পার্মস ডাইকটিলিডনস” আহমেদ, জিয়া উদ্দিন; হাসান, মো আবুল; বেগম, জেড এন তাহমিদা; খন্দকার মনিরুজ্জামান। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ (১ সংস্করণ)। ঢাকা: বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। খন্ড ৯ম, পৃষ্ঠা ২৭৫। আইএসবিএন 984-30000-0286-0
বি. দ্র: ব্যবহৃত ছবি flowersofindia.net থেকে নেওয়া হয়েছে। আলোকচিত্রীর নাম: Dinesh Valke
জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৮৯। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ থেকে বিএ সম্মান ও এমএ পাশ করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ “স্বপ্নের পাখিরা ওড়ে যৌথ খামারে”, “ফুলকির জন্য অপেক্ষা”। যুগ্মভাবে সম্পাদিত বই “শাহেরা খাতুন স্মারক গ্রন্থ” এবং যুগ্মভাবে রচিত বই “নেত্রকোণা জেলা চরিতকোষ”। বিভিন্ন সাময়িকীতে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রোদ্দুরে ডট কমের সম্পাদক।